কক্সবাজার জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি : অপরাধ নির্মূলে সক্রিয় হোন

0
191

মাদক, চোরাচালান, মানবপাচার, খুন, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ নানা অপরাধকর্মের কারণে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কিত বিস্তারিত প্রতিবেদন আমাদের পত্রিকায় শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের কক্সবাজার প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, গত কয়েকদিন বিভিন্ন উপজেলার এসব অপরাধের কাহিনী এলাকার মানুষকে কেবল নয় বরং সমগ্র দেশবাসীকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কেননা দেশের একটি স্থানে ভয়াবহ অপরাধ অন্যান্য জায়গার অপরাধীদের উৎসাহী করে তোলে যদি এসব অপরাধ নির্মূল ও অপরাধীদের শাস্তি প্রদানে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সজাগ ও সচেতন না থাকে। করোনা মহামারির এই ভয়ংকর দুর্যোগের মধ্যেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় নারকীয় সব অপরাধ ঘটে চলেছে। এতে আমাদের সমাজের অবক্ষয় ফুটে উঠেছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় অপরাধ নেতিবাচক প্রভাব-প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, অস্থিরতা ও অশান্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
পারিবারিক বিরোধ, জায়গা জমি দখল, যৌতুক, আধিপত্য বিস্তার এসবের কারণে হত্যাকা- ঘটছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নানা অপকর্ম। দেশের পর্যটন নগরী ও উপজেলায় এসব অপরাধ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করবে। এছাড়া সমগ্র কক্সবাজার জেলায় যে বিপুল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ ও মেগাপ্রকল্পের কাজ চলছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার পরিবেশ পরিস্থিতি যদি সুস্থির ও শান্তিপূর্ণ না হয় তা সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকা-কেই বাধাগ্রস্ত করবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তারা যদি সক্রিয় না হয়, যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয় তাহলে অপরাধ দমন কিভাবে সম্ভব! ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পুলিশের গুলিতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ নিহত হওয়ার পর গণমাধ্যমে পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও একের পর এক মামলা দায়েরের কথা শোনা যাচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে কক্সবাজার জেলার পুলিশ সুপার ও উপজেলার সকল পরিদর্শককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে মাদক, চোরাচালান, মানবপাচারের ঘটনার মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে কি করে? কয়েকদিন আগে কয়েক কোটি টাকার ইয়াবার চালান আটক করেছে বিজিবি। দুদকের অভিযানেও অপরাধের নানা বিচিত্র কাহিনী উঠে আসছে। রাজনৈতিক দল, প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ না থাকলে নারকীয় অপরাধ করেও দুর্বৃত্তরা পার পেয়ে যাচ্ছে কি করে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের স্বার্থে, সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই সকল প্রকার লোভ ও রাজনৈতিক দলের আনুগত্য পরিহার করে কঠোর হাতে অপরাধীদের দমনে ভূমিকা নিতে হবে। অভিযোগের জন্য অপেক্ষা না করে পুলিশ অপরাধীদের ধরতে প্রতিনিয়ত সক্রিয় থাকবে এটিই জনগণ আশা করে। অনেক সময় দেখা যায় অপরাধ করে দুর্বৃত্তরা সদর্পে বিচরণ করে এলাকায়। পুলিশ তাদের ধরতে পারে না-এভাবে তো জনগণের আস্থা অর্জন করা যাবে না। সরকারের বা পুলিশবাহিনীর ভাবমূর্তিও তাতে উজ্জ্বল হবে না।
কক্সবাজারের প্রকৃতি, পরিবেশ ও পর্যটন আকর্ষণ অক্ষুণœ রাখা, জনজীবন ও উন্নয়ন কর্মকা- অব্যাহত রাখতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাবে পুলিশ এবং এটি হবে তাদের প্রধান দায়িত্ব। তদবির, চাপ, লোভ, অনৈতিকতার বেড়াজাল ছিন্ন করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে-এটি দেশবাসী দেখতে চায়।