সুপ্রভাত ডেস্ক »
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে জনমত তৈরি করতে দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদগুলো যৌথভাবে ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ ব্যানারে এই প্রচারণা চালাবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।
সংবাদ সম্মেলনে সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ যে ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছে, গণভোট সেই স্বপ্নকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে একটি বড় রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতৃত্ব এ বিষয়ে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডাকসুর ভিপি বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে কেউ বারবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারবে না, বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করার সুযোগ পাবে না এবং ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকার দিয়ে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথ বন্ধ থাকবে।’ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করার লক্ষ্যেই এই ছাত্র সংসদগুলো একত্রিত হয়েছে বলে তিনি জানান।
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম বিভাগীয় গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর দুইটায় সিলেটের বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট এলাকায়। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও একই কর্মসূচি পালন করা হবে। এসব সমাবেশে ছাত্র প্রতিনিধিদের পাশাপাশি জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, বিভিন্ন পেশাজীবী ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ছিল পুরোনো অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারী রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠা করা। তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলোতে কিছু রাজনৈতিক দল ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মতানৈক্য তৈরি হয়েছে।
মাজহারুল ইসলাম আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-কে বিজয়ী করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, চাকসুর জিএস সাইদ বিন হাবিব, জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ও রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বিরসহ অন্য ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।


















































