উত্তর কাট্টলী: কঠোর লকডাউন

0
335
লকডাউন চলাকালে উত্তর কাট্টলীতে ভাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক।

অপ্রয়োজনে বের হওয়ায় এবং দোকান খোলা রাখায় ১১ ব্যক্তি ও ৭ দোকানিকে জরিমানা #
সতর্ক বার্তা পেলো গার্মেন্টস কারখানাগুলো#
১৪ প্রবেশপথ বন্ধ রেখে চলছে লকডাউন #

নিজস্ব প্রতিবেদক :
অভিযান ও জরিমানার পাশাপাশি চলাচল নিয়ন্ত্রণে ১৪ প্রবেশপথ বন্ধ রেখে চলেছে উত্তর কাট্টলীতে লকডাউন। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা একধরনের অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। তবে এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকলেও চালু রয়েছে বিসিক শিল্প এলাকার কারখানাগুলো। রাস্তা ও গলিগুলোতে মানুষের বিচরণ ছিল কম। এলাকার সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা কর্নেলহাট মোড় ছিল ব্লক। বন্ধ ছিল কর্নেলহাট বাজার।
বুধবার সকাল ১০টায় সরেজমিনে লকডাউন পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে দেখা যায়, কৈবল্যধাম মোড়ে বাঁশ দিয়ে ব্লক করে দেয়া হয়েছে। এতে ডিটি রোড থেকে কোনো গাড়ি এবং মানুষ ভেতরে যেমন প্রবেশ করতে পারবে না, তেমনিভাবে ভেতর থেকেও কেউ বের হতে পারবে না। আর এই স্থানে নিরাপত্তায় রয়েছে তিনজন আনসার ও একজন পুলিশ। নিউ মনসুরাবাদ এলাকার ভেতরের সব দোকানপাট বন্ধ থাকলেও কয়েকটি ফার্মেসির দোকান খোলা ছিল। পরিবর্তিত ঘোষণা অনুযায়ী ফার্মেসি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ডিটি রোডে প্রশান্তি আবাসিক এলাকার গেইট খোলা থাকলেও সেখানে পুলিশের প্রহরা রয়েছে। কাট্টলী নুরুল হক চৌধুরী বিদ্যালয়ের পাশে প্রধান সড়কের সব দোকানপাট বন্ধ দেখা যায়।
কর্নেল হাট সিটি কর্পোরেশন মার্কেট হলো এই এলাকার মানুষের বাজারের প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু এখানে আকবর শাহ থানার তিনজন পুলিশ বসে রয়েছে পাহাড়ায়। বাজারের সব দোকান বন্ধ রয়েছে। জানতে চাইলে পাহাড়ায় নিয়োজিত পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ নাজিম বলেন, ‘আমরা সব ধরনের চেস্টা করছি লকডাউন বাস্তবায়ন রাখতে। তবে সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু সড়ক খোলা রয়েছে মানুষের যাতায়াতের জন্য।’
কর্নেলহাট বাজারের অপর পাশে কর্নেল জোন্স সড়কের দিকে প্রবেশের প্রধান সড়কটি বাঁশ দিয়ে লকডাউন করে রাখা হয়েছে। সেখানে পুলিশের টিমও রয়েছে। আর এতে কর্নেলহাট এলাকা থেকে কেউ বের বা প্রবেশ করতে পারবে না।
এদিকে এলাকার মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী কেনার সুবিধার্থে নির্দিষ্ট ভ্যানে সবজি ও মাছ বিক্রি করার কথা। এছাড়া মানুষের প্রয়োজনে ৫টি হটলাইন নম্বর (০৩১-৪৩১৫১৩৬৮, ০৩১-৪৩১৫১৩৬৯, ০৩১-৪৩১৫১৩৭০, ০৩১-৪৩১৫১৩৭১, ০৩১-৪৩১৫১৩৭২, মোবাইল ০১৮১৯-০৫৬৮৪৪, ০১৮১১-৮৮৭০৮৪) দেয়া হয়েছে। এসব নম্বরে কল করা হলে মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দেয়া হবে। এছাড়া স্থানীয়দের চিকিৎসা সেবা দিতে রাখা হয়েছে সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স। করোনা লক্ষণের রোগীরা যাতে নমুনা দিতে পারে সেজন্য এলাকায় বুথও চালু করা হয়েছে। অপরদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে টিম কাজ করেছে। অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হলে তাদের জরিমানা করছে এই টিম।
জরিমানা গুনলো ১১ ব্যক্তি ও ৭ দোকানি
বুধবার বিকাল তিনটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উত্তর কাট্টলীতে অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক। এসময় অহেতুক ঘোরাঘুরির কারণে ১১ জনকে জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে উত্তর কাট্টলীর বাসিন্দা রাকিব হোসেন,আব্দুল হালিম,আব্দুল হামিদ, ফারহান, ইমজান, সোহেল, ইব্রাহিমা, রফিক মিয়া,বাবলু মিয়া প্রত্যেককে ২০০ টাকা করে এবং সিরাজ মিয়াকে ৩০০ টাকা অর্থদ- করা হয়। এছাড়া দোকান খোলা রাখায় মীম স্টোর, নবী স্টোর , ইস্পা স্টোর,ইমাম স্টোর ,লাক্সারী স্টোর প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে ও জামান স্টোর, ফারিয়া স্টোর প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখায় অসীম ফার্মেসিকে ৫০০ টাকা অর্থদন্ড করা হয়। এছাড়া অনেক দোকানদার ও মানুষকে সতর্ক করা হয়।
একইসাথে অভিযানের সময় দেখা যায় প্রায় ৪০ জন মুসুল্লি নিয়ে আসরের নামাজ আদায় করতে। এতে ৫ জনের বেশি মুসুল্লি নিয়ে নামাজ আদায় না করার জন্য ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে অনুরোধ করা হয়।
সতর্ক করা হয় ৫ গার্মেন্টসকে
লকডাউন বাস্তবায়স করতে বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা ২০ মিনিট পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হাসান ও গালিব চৌধুরী কর্তৃক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উক্ত সময়ে রেডজোনকৃত ১০ নং ওয়ার্ডের আওতাধীন এলাকায় সমস্ত দোকানপাট বন্ধ অবস্থায় দেখা যায়। রাস্তায় গণপরিবহন ও রিক্সা দেখা যায়নি। তবে কয়েকটি গার্মেন্টস সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে এমন অভিযোগ পায় মোবাইল কোর্ট। এসময় ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর মেজবাহ ও ক্যাপ্টেন নাহরিন, আওতাধীন আকবরশাহ ও পাহাড়তলী থানার অফিসার ইনচার্জ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যদের নিয়ে উক্ত গার্মেন্টসগুলিতে সরকার কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনার সম্পর্কে জানানো হয় এবং তাদেরকে লকডাউন মেনে চলার জন্য নির্দেশনাও দেওয়া হয়। সিটি কর্পোরেশন এলাকার রেডজোনের সভাপতি নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু সকলকে লকডাউন মেনে চলার জন্য অনুরোধ করেন। এসময় এইচ বি ফ্যাশন লিমিটেড, এইচকে টিজে গার্মেন্টস লিমিটেড, কাট্টলী টেক্সটাইল এবং গার্টেক্স গার্মেন্টস লিমিটেডকে সতর্ক করা হয়। সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার নির্দেশনা দেয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু বিসিক শিল্প এলাকার কারখানাগুলো এবং কনটেইনার টার্মিনাল খোলা রাখা যাবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১২টি ওয়ার্ড লাল তালিকাভুক্ত রয়েছে। এই ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডকে মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন শুরু করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে চলছে এই লকডাউন কার্যক্রম।