অনুবাদ কবিতা

হেনরি চার্লস বুকোস্কি (জন্ম ১৬ আগস্ট, ১৯২০ মৃত্যু ৯ মার্চ, ১৯৯৪) একজন জার্মান-আমেরিকান কবি, ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্পকার। তার জন্মনাম ছিল হাইনরিখ কার্ল বুকোস্কি। ​তার লেখালেখির ওপর বেড়ে ওঠার শহর লস অ্যাঞ্জেলেসের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক পরিবেশের গভীর প্রভাব ছিল। বুকোস্কির সাহিত্যকর্মে মূলত দরিদ্র আমেরিকানদের সাধারণ জীবনযাপন, লেখালেখির নেপথ্য জগত, মদ্যপান, নারীদের সাথে সম্পর্ক এবং কাজের একঘেয়েমি বা ক্লান্তি ফুটে উঠেছে।
সোশ্যাল রিয়ালিস্ট এই কবির এক গুচ্ছ কবিতা অনুবাদ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও অনুবাদক
আলমগীর মোহাম্মদ

 

১.
স্বাধীনতা, নাকি নি:সঙ্গতা?
এবং যখন কেউ-ই
সকালে তোমাকে জাগাবে না,
এবং যখন কেউ-ই
রাতে তোমার ফেরার জন্য অপেক্ষা করবে না,
এবং যখন তুমি যা খুশি
তা-ই করতে পারো।
এটাকে কী নামে ডাকবে তুমি
স্বাধীনতা, নাকি নি:সঙ্গতা?
চার্লস বুকোস্কি; তর্জমা: আলমগীর মোহাম্মদ।

২.
ওহ, হ্যাঁ
অনেক খারাপ বিষয় আছে
একা থাকার চেয়েও
কিন্তু প্রায় কয়েক দশক লেগে যায়
এ -কথাটা বুঝতে
এবং বেশিরভাগ সময়
আপনি যখন বুঝতে পারেন
তখন অনেক দেরি হয়ে যায়
এবং অনেক দেরিতে কিছু করার
চেয়ে
খারাপ কিছু আর নেই।

৩.
নীলপাখি
আমার হৃদয়ে একটি নীল পাখি আছে যেটা বের হতে চায়
কিন্তু, আমি এ ব্যাপারে খুব নিষ্ঠুর। আমি বলি, ভেতরেই থাকো,
আমি কারো সামনে তোমাকে উন্মোচন করবো না
আমার হৃদয়ে একটি নীল পাখি আছে যেটা বের হতে চায়
আমি তার উপর হুইস্কি ঢালি এবং সিগারেটের ধোয়া টেনে নিই
গণিকা ও মদের দোকানীরা এবং
মুদি দোকানের কর্মচারীরা কখনো বুঝতে পারে না
আমার হৃদয়ে একটি নীল পাখি আছে যেটা বের হতে চায়
কিন্তু, আমি এ ব্যাপারে খুব নিষ্ঠুর। আমি বলি, ভেতরেই থাকো,
বসে থাকো, তুমি কি চাও আমি ভেজালে পড়ি?
তুমি কি চাও আমি কাজে তালগোল পাকাই?
তুমি কি চাও ইউরোপে আমার বই বিক্রিতে ভাটা পড়ুক?
আমার হৃদয়ে একটি নীল পাখি আছে যেটা বের হতে চায়
কিন্তু আমি বেশ চালাক, আমি তাকে মাঝেমধ্যে শুধু রাতে ছাড়ি
যখন সবাই শুয়ে পড়ে,
আমি বলি, আমি জানি যে তুমি ওখানে আছ,
তাই অত মন খারাপ করো না
তারপর আবার তাকে ভেতরে নিয়ে নিই
কিন্তু, সে ভেতরে একটু একটু করে গাইছে
আমি তাকে পুরোপুরি মরতে দিইনি
এবং আমরা এভাবেই দুইজন ঘুমাই
আমাদের গোপন চুক্তি নিয়ে এবং
একজন মানুষকে ফুপিয়ে কান্না করাতে পারা দারুণ ব্যাপার
তবে আমি কাঁদি না,
তুমি কাঁদো?

 

৪.
লেখালিখি
এটাই একমাত্র বিষয়
তুমি ও অসম্ভবের মাঝে
কোনো পানীয় নয়
কোনো নারী নয়
কোনো সম্পদ-ই এটার সমকক্ষ নয়
লেখালিখি ছাড়া কিছুই আপনাকে বাঁচাতে পারে না,
এটা দেয়ালের পতন সামলায়
তেড়ে আসা জনতার ঢেউ সামলায়
লেখালিখি-ই চূড়ান্ত অর্থে একজন মনোবিদ
সকল দেবতার মহান দেবতা
লেখালিখি মৃত্যুকে বিরক্ত করে, হাল ছাড়ে না
লেখালিখি হাসি আনে বেদনায়
এটাই শেষ প্রত্যাশা, এটাই শেষ ব্যাখ্যা।
এটাই লেখালিখি।

৫.
উদার হও
আমাদের সবসময় বলা হয়
অন্য মানুষের
দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে
সে যতো-ই
সেকেলে
মূর্খ বা
অপ্রীতিকর হোক।
একজনকে বলা হয়
দেখতে
তাদের সব ভুল
তাদের জীবনের অপচয়
উদার দৃষ্টিতে।
বিশেষত যদি তারা
বয়স্ক হন।
কিন্তু বয়স হলো আমাদের
পুরো কর্মের হিসসা।
তারা বুড়ো হয়েছেন
খুব বাজেভাবে
কারণ তারা জীবনযাপন করেছেন
ফোকাসছাড়া
তারা চোখ খুলতে
চায়নি।
এটা তাদের দোষ না?
কার দোষ?
আমার?
আমাকে বলা হয়েছে
তাদের কাছ থেকে
আমার মতামত আড়াল করতে
কারণ তাদের
ভয়ে।
বয়স কোনো অপরাধ নয়
কিন্তু স্বপ্রণোদিতভাবে
একটি জীবন অপচয় করার
লজ্জা
আসলেই অপরাধ।