স্বাগতম হে মাহে রমাদ্বান

আলস্নাহ তাআলার অপার মেহেরবানী নিয়ে বছর ঘুরে আরও একবার আমাদের জীবনে এল মাহে রমাদ্বান শরীফ। মওসুমী ফলের মধুমাস আর গ্রীষ্মের খরতাপ মিলে প্রকৃতির যে রম্নদ্ররূপ, কালবোশেখীর ঝড়ো হাওয়ার রথে হাল্কা বর্ষণের স্নিগ্ধতায় তা হয়ে ওঠে কোমল, মিঠে। আকাশের কোণে নিষ্পাপ শিশুর কোমল হাসির মতো ফুটে ওঠে নতুন চাঁদ। অসি’র জনজীবনে একরাশ শানিত্মর প্রলেপ বুলিয়ে প্রাণে প্রাণে পবিত্রতার আবাহন আনে মাহে রমাদ্বান। স্বাগতম হে মাহে মুবারাক। মহান রাব্বুল আলামীন’র অফুরনত্ম কৃতজ্ঞতায় বরণ করি, রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এ মাসটিকে। আহলান, সাহলান, মারহাবা। ইয়া শাহ্‌রাল কুরআন! ইয়া শাহ্‌রা-রমাদ্বান!
চাঁদের অসিত্মত্বে এর আগমন ঘোষে। হিজরী ১৪৩৯‘র ৯ম মাস মাহে রমাদ্বান হাজির। হিজরী বর্ষ আবর্তিত হয় চাঁদের উদয়াসেত্ম। তাই চাঁদের গুরম্নত্ব আমাদের কাছে অপরিসীম। কুরআন-হাদীসে চাঁদের প্রসঙ্গ ঠাঁই পেয়েছে গুরম্নত্বসহকারে। আলস্নাহ্‌ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘হে হাবীব, লোকেরা আপনার কাছে নতুন চাঁদ সম্পর্কে প্রশ্ন
করবে। আপনি বলে দিন, এগুলো মানুষের (কর্মপন’া) ও হজ্বের জন্য সময় নির্ধারণের মাধ্যম।‘ (সুরা বাকারাঃ আয়াত ১৮৯) শিড়্গিত, অশিড়্গিত নির্বিশেষে সকলের জন্যই চাঁদের ভিত্তিতে মাস হিসাব করা সহজতর। ইলমে হাদীস ও ইলমে ফিক্‌হের গ্রন’-সমূহে ‘নতুন চাঁদ দেখা’ শিরোনামে অধ্যায় নির্ণিত হয়। হযরত ইবনে ওমর (রাদ্বিয়ালস্নাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসূলুলস্নাহ্‌্‌ ইরশাদ করেন, ‘তোমরা রোযা রেখো না, যতড়্গণ না (রমযানের) চাঁদ দেখবে। আর রোযা ছেড়ো না, যতড়্গণ না (শওয়ালের) চাঁদ দেখবে’। (সূত্র : বুখারী ও মুসলিম)
চাঁদ উদয়ের সাথে সাথে আর এগারটি মাসের মত শুরম্ন হয় মাহে রমাদ্বান। তবে এ চাঁদের সাথে অনেক কার্যক্রম অবধারিত হয়ে পড়ে মুসলিম জীবনে।
ইসলামী শরীয়তে অনত্মত বিশেষ পাঁচটি চাঁদ প্রত্যড়্গ করা ওয়াজিবে কিফায়া। যথা-শা’বান, রমাদ্বান, শওয়াল, যিলক্বদ ও যিলহজ্ব। (সূত্র : ফাতাওয়া-রদ্বভিয়্যাহ্‌্‌)
চাঁদ উদয়ের সাথে সাথে মাহে রমযানের কার্যক্রম শুরম্ন হয়ে যায়। আমরা সকলেই জানি, চাঁদের তারিখ রাত থেকেই শুরম্ন হয়। কারণ চাঁদের হিসাব সূর্যাসেত্মর পর থেকেই শুরম্ন হয়। অর্থাৎ রাত আগে, দিন পরে। তাই এ মাসের কর্মসূচিগুলোর মধ্যে যা রাতে পড়ে, তা সন্ধ্যার পর থেকেই আরম্ভ করতে হবে। প্রথমে আসে এ মাসের বিশেষ প্রোগ্রাম নামাযে তারাভীহ্‌। ইশার নামায সেরে বিত্‌রের আগেই এ নামায। বিশেষ ইবাদতের মধ্যদিয়েই যাত্রা মহিমান্বিত মাসটির। মারহাবা, হে তারাভীহ্‌্‌র মাস। তারাভীহ্‌্‌র নামায সুন্নাতে মুআক্কাদাহ্‌। না পড়লে গুনাহ্‌ হবে। সহীহ্‌্‌ মুসলিম শরীফে আবু হুরায়রা (রাদ্বিয়ালস্নাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদীসে আছে, যে ব্যক্তি ঈমান’র কারণে সওয়াব পাওয়ার আশায় রমযান শরীফের রাতে নামায পড়ে তার সকল গুনাহ্‌ মাফ করা হবে। এ নামায বিশ রাকা’ত। হযরত ওমর (রাদ্বিয়ালস্নাহু আনহু)’র খেলাফত কাল থেকে মসজিদে নবভীতে মাহে রমযানে বিত্‌রসহ মোট তেইশ রাকা’ত নামাযের জামাত হয়ে আসছে। তা অদ্যাবধি চলছে। তারাভীহ্‌র নামাযে ধারাবাহিক একবার তেলাওয়াতে কুরআন সম্পন্ন করাও সুন্নাতে মুআক্বাদাহ্‌।
সুবহে সাদিক হওয়ার আগেই শেষ রাতে রোযা রাখার উদ্দেশ্যে সাহরী করা সুন্নাত। নবীজির ফরমান মতে এতে বরকত নিহিত। সাহ্‌্‌রী রাতের শেষভাগ সময়কে বলা হয়। এ সময়ে গৃহীত খাবারও সময়ের নামে প্রচলিত। এ খাবার রোযা রাখতে শক্তি যোগায়। এভাবে আমরা রোযার দিনপঞ্জি চালিয়ে যাব। পুরা রমযান মাস সুবহে সাদিক থেকে ইবাদতের নিয়্যতে সূর্যাসত্ম পর্যনত্ম পানাহার ও ইন্দ্রিয় সম্ভোগ থেকে বিরত থাকার নাম সিয়াম। আলস্নাহ তাআলা কুরআনে হুকুম দেন ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মাসটি পাবে, সে যেন অবশ্যই এতে সিয়াম (বা রোযা) পালন করে’। আলস্নাহ্‌ আমাদেরকে তাঁর নির্দেশ যথাযথভাবে পালনের তাওফীক দিন। আমীন।
লেখক :