মহান বিজয় দিবস : কর্মোদ্দীপনা ও দেশ গঠনের আয়োজন চাই

0
96

আজ মহান বিজয় দিবস। বাঙালির দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রামের চূড়ান্ত ও উজ্জ্বলতম অধ্যায় মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের দিন। ত্রিশ লক্ষ শহীদ, তিন লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি, এক কোটি শরণার্থী আর অবরুদ্ধ স্বদেশে কোটি কোটি মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা এবং পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বাঙালির বীরত্বের বিজয়গাথা নিয়ে ভাস্বর ১৬ ডিসেম্বর, আমাদের বিজয় দিবস। আমাদের সেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিক বীরত্ব বিশ্বের জাতীয় স্বাধীনতা ও জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। দেশমাতৃকার এই মহান যুদ্ধে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন সেইসব বীর শহীদদের প্রতি আমরা গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। শ্রদ্ধা জানাই জাতির পিতা, স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও জাতীয় ৪ নেতার স্মৃতির প্রতি।
এ বছরটি জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ এবং বিজয়ের ৫০ বছর পূর্তি-এই ২টি অবিস্মরণীয় ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনকে প্রগতি ও সমৃদ্ধির ধারার এগিয়ে নিতে অনুপ্রেরণা দেবে।
এবার আমরা বিজয় উদযাপন করছি যখন কোভিড-১৯ মহামারি দুর্যোগ নিয়ে এসেছে জাতির জীবনে, এতে পর্যুদস্ত আমাদের জনপদ, গোটা বিশ্ব। আমাদের দেশে এ পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন, সংক্রমণ ৫ লক্ষের মতো। করোনাকালে আমরা এই মহামারিতে চিকিৎসাসেবা ও করোনা প্রতিরোধে সামনের সারিতে থাকা চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের হারিয়েছি। এই সময় আমাদের কাছ থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন দেশের বেশ কিছু নামকরা লেখক, শিল্পী, গবেষক, সাহিত্যিক, সংগীতসেবী, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী ব্যক্তিত্ব। করোনার প্রাথমিক ধাক্কা সামলিয়ে এখন নবউদ্যমে জীবনÑজীবিকার লড়াইয়ে দেশবাসী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে বিশাল অংকের প্রণোদনা দিয়েছেন বিভিন্ন সেক্টরে। কৃষকদের প্রণোদনা ও ঋণ সাহায্য কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। বড় প্রকল্পগুলির কাজ অব্যাহত রয়েছে। করোনার এই সময়ে বিশ্বের দীর্ঘ সেতুগুলির একটি পদ্মা সেতুর সকল স্প্যান স্থাপন সম্পন্ন হওয়ায় ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। এই সময়ে জাতীয় প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ হলেও অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেশে বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে কৃষক-শ্রমিকসহ আপামর দেশবাসীর কর্মোদ্যম ও সাহস মুক্তিযুদ্ধের অদম্য অধ্যায় থেকে প্রেরণা লাভ করেছে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রাক্কালে জাতিকে নতুন করে শপথ নিতে হবে সকল প্রকার দুর্নীতি, অন্যায় ও শোষণ-বঞ্চনার অবসানে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যেতে। আইনের শাসন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে হবে। মানুষের জীবন নিরাপদ ও তাদের সকল প্রকার সুরক্ষা দিতে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারণ করতে হবে। শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধে নব জাগরণ চাই। সম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে হবে। গণতান্ত্রিক শাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্ত ও মানবিক চিন্তার পরিবেশ সৃষ্টি করে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করা হোক আমাদের অঙ্গীকার। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মাঝে কর্মোদ্দীপনা ও দেশ গঠনের সকল আয়োজন সম্প্রসারিত করা চাই। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে করোনা মোকাবেলা, জাতীয় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবন ও জীবন-জীবিকার সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। বিজয় দিবসে এই হোক অঙ্গীকার।