বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য দেশের স্বাধীনতা ও ইতিহাসের অংশ

0
75

মৌলবাদীদের ষড়যন্ত্র মেনে নেবে না ছাত্রলীগ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে স্বাধীনতা বিরোধী ও উগ্র মৌলবাদী গোষ্ঠীর ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা এবং জাতির পিতাকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল বিকাল ৩ ঘটিকায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ।
চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুল করিমের সভাপতিত্বে এবং মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মায়মুন উদ্দিন মামুন ও আনোয়ার পলাশের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও মৌলবাদীরা আবার লেজ নেড়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর বাংলায় যদি থাকতে হয়, তাহলে বঙ্গবন্ধুর সব ভাষ্কর্যে স্যালুট দিয়ে চলতে হবে। আর না হয় পাকিস্তানে চলে যেতে হবে। চরমোনাইদের ঘাড়টা একটু বেশি মোটা, তাই তারা সবখানে ধর্মকে টেনে আনে। সব জায়গায় ধর্ম টেনে আনলে তাদের ঘাড় মটকে দিতে হবে।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ বলেন, আপনারা সকলে জানেন, বাংলাদেশ হচ্ছে উদার, অসম্প্রদায়িক একটি রাষ্ট্র। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেত্বতে বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। আজ উগ্র সাম্প্রদায়িকগোষ্ঠী যারা একাত্তর সালে পরাজিত হয়েছিল, পঁচাত্তরে পরাজিত হয়েছিল, বিভিন্ন সময়ে যারা মাথাচাড়া দিতে চেয়েছিল, তারা পরাজিত হয়েছিল। আবার যখন বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে অনন্য উচ্চতায় চলে গেছে, তখন মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো একত্রিত হয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে কথা বলার যে ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। আমরা দেশপ্রেমী নাগরিক হিসেবে কখনো মেনে নিতে পারি না। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
গণজাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক রাশেদ হাসান বলেন, আমরা সহনশীলতা দেখানোর ফলে এসব ধর্মান্ধরা জাতির পিতার ভাস্কর্য অপসারণের দাবি তোলার মতো স্পর্ধা দেখাতে পারছে। তাদেরকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাই। বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় সূর্যসন্তানদের ভাস্কর্য দেশের প্রতিটি জেলায়-উপজেলায় স্থাপন করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই। স্বাধীনতা বিরোধী মৌলবাদীদের আস্ফালন দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। এদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে। এদের সামাজিকভাবে বয়কট করে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার সাধারণ সম্পাদক শিবু প্রসাদ চৌধুরী, আবৃশিল্পী প্রণব চৌধুরী, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক হাবিবুর রহমান তারেক, আবু সাঈম সুমন, হোসেন আহমদ রুবেল, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি ইয়াছিন আরফাত কচি, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি মনির ইসলাম, জাবেদুল ইসলাম জিতু, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা কাজী নাঈম।
বক্তারা বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতির পিতার ভাস্কর্য স্থাপনে বাধা প্রদান এবং স্থাপিত ভাস্কর্য নিয়ে ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়েছে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধী ও উগ্র মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য দেশের স্বাধীনতা ও ইতিহাসের অংশ। এই প্রজন্ম ভাস্কর্য দেখে শিখবে। ইতিহাস জানবে। এটা মূর্তি নয়। বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে কোনোভাবেই আশকারা দেওয়া যাবে না।
লালনের ভাস্কর্য, হাইকোর্টের সামনের ভাস্কর্য এবং সনাতন ধর্মের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদ করেছি আমরা। মৌলবাদীদের আর কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের উপসম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, যুবলীগ নেতা জয়শংকর সরকার, চান্দগাঁও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি নুরুন্নবী শাহেদ, শাহাদাত সালাম শাওন, তানভীর মেহেদী মাসুদ, মুজিবুর রহমান রাসেল, নোমান চৌধুরী রাকিন, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিমুন্য রায় সৌরভ, শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক খন্দকার নাঈমুল আজম, চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল কায়সার, অনিক চৌধুরী সোহেল, বিশ্বজিৎ শর্মা, শরফুল ইসলাম মাহী, জাহিদ হাসান সাইমুন, এসএম মাদানী, আজিজুল হাকিম মাসুক, সাফায়েত হোসেন রাজু, রিয়াজুল ইসলাম শান্ত, অর্ণব দেব, সাইফুল ইসলাম রাজ, জামশেদ উদ্দিন, মঈনুল হক সাব্বির, কায়েস মাহমুদ, জিব্রানুল ইসলাম রুমি, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আলাউদ্দিন, মাঈনুদ্দিন সোহেল, তাফহিমুল ইসলাম, জানে আলম, মীর মো. রবি, সাখাওয়াত হোসেন রাব্বি, দোলন বড়ুয়া, তানজিল হাসান, সাফায়েত ফাহিম, রাকিব বিন আবদুর, রাকিব মাহতাব রাফী প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি