প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান : ধর্মান্ধ শক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন

0
100

ধর্মের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার না করার আহ্বান জানান। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে, ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে দেশবাসী প্রগতি, উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে-এটিই জাতির প্রত্যাশা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তির একটি অংশ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া বক্তব্যের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত ও সমাজে অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের আদর্শ অনুসরণ এবং জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সমাজতন্ত্রের লক্ষ্যে সংবিধান রচনা করেন কিন্তু ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলি নিজেদের স্বার্থ এবং ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে সংবিধান ক্ষতবিক্ষত করে; রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ইতিহাস বিকৃত করা হয়। যুবশক্তি, তরুণ সমাজ এবং নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সোনার বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।
বিজয় দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের এক আলোচনা সভায় দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রদায়িক অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সহনশীলতার সাথে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এসব বক্তব্যে দেশের পরিস্থিতির ইতিবাচক মূল্যায়নের বিষয়টিই তুলে ধরে এবং শান্তি ও উন্নয়নকামী জনগণের সাথে আমরা এর প্রশংসা করি।
তিন সপ্তাহ আগে কিছু ধর্মান্ধ শক্তি ধর্মের অপব্যাখ্যা ও মনগড়া বক্তব্য উত্থাপন করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা এবং উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করে। তাদের এসব অপব্যাখ্যা ও অপকর্মের প্রভাবে কুষ্টিয়ায় কিছু দুষ্কৃতিকারী নির্মিয়মান বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ক্ষতিসাধন করে। দেশব্যাপী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি পেশাজীবী সংগঠন-এক কথায় সমগ্র দেশ এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে এবং ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। কতিপয় রাজনীতিক ও সুশীল সমাজের কিছু প্রতিনিধি ভাস্কর্য আর মূর্তি এক নয় বলে তাদের বক্তব্য দেশের অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতস্বরূপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে স্বাধীনতাবিরোধী কিছু মহলের ভাস্কর্যবিরোধী বক্তব্য দেশকে অস্থিতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূ-লুণ্ঠিত করার সামিল। এই সকল অপশক্তি অতীতে তাদের কৃত অপরাধের জন্য মোটেও অনুতপ্ত নয়। এরা দেশবিরোধী শক্তির মদদে দেশে বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করে উন্নয়ন ও অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে চায়। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায় এবং মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষের সকল দল, শক্তি ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপশক্তির মোকাবেলায় এগিয়ে যেতে হবে।