পিঠা উৎসব লোকজ সত্তার প্রতিনিধিত্ব করে

0
85

চিটাগং সিনিয়রস ক্লাবের পিঠা উৎসব উদ্বোধন

চিটাগং সিনিয়রস্’ ক্লাব লিমিটেড আয়োজিত পিঠা উৎসব- ১৪২৭ বঙ্গাব্দের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চিটাগং ডিস্ট্রিক্ট লায়ন’স ক্লাব এর বিদায়ী গর্ভনর কামরুন মালেক বলেছেন, শীত ও পিঠা বাঙালির জীবনধারায় পরিপূরক উপাদান। তাই আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পিঠা-পুলি মিলে মিশে আছে। তিনি আরো বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ কালের মধ্যেও চিটাগং সিনিয়রস’্ ক্লাব পিঠা উৎসব আয়োজন করায় ক্লাব প্রেসিডেন্ট ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী ও কমিটির সদস্যদের প্রতি সাধুবাদ জানাই।
তিনি আরো বলেন, আমরা একটি কঠিন সময় অতিক্রম করছি। তবে বিশ্বের অনেক ধনী ও উন্নত দেশের চেয়েও বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। আমরা এরই মধ্যে কোভিড-১৯ প্রতিরোধক ভ্যাকসিন পেয়ে গেছি। এজন্য আমরা অনেকটা স্বস্তিতে আছি। কোভিড-১৯ নিয়ে শহরের মানুষ যতটা উদ্বেগ-উৎকন্ঠায় আছে গ্রামের মানুষের মাঝে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। এ করোনা কালেও আমরা সৌভাগ্যবান এ কারণে যে আমাদের অর্থনীতির চাকা এখনও সচল রয়েছে। আমাদের রিজার্ভ এবং রেমিটেন্স প্রবাহে ঈষর্ণীয় সক্ষমতা বিদ্যমান।
চিটাগং সিনিয়রস্’ ক্লাব লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দৈনিক আজাদী’র সম্পাদক এম. এ. মালেক বলেছেন, ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বার মাসে তের পার্বন হয়ে থাকে। এতে আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ছোঁয়া আছে। আগে এ শীতে গ্রামে-গঞ্জে নতুন ধানের চালের গুঁড়ো দিয়ে রকমারি পিঠা-পুলি তৈরি হতো এবং উৎসবের ধুম পড়ে যেতো। দুঃখের বিষয় নাগরিক জীবনে পিঠা-পুলির আয়োজন তেমন চোখে পড়ে না। চিটাগং সিনিয়রস্’ ক্লাব গত চার বছর ধরে প্রতি শীতে পিঠা উৎসব করে এসে আমাদের নষ্টালজিয়ার ভুবনকে ফিরিয়ে এনেছে। এটা চিটাগং সিনিয়রস্’ ক্লাব লিমিটেডের বড় অর্জন।
অনুষ্ঠানে চিটাগং ক্লাবের সাবেক চেয়ারম্যান ও সিনিয়রস’্ ক্লাবের সদস্য এ. কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পিঠা উৎসব সত্যিকার অর্থে আমাদের লোকজ সত্তার প্রতিনিধিত্ব করে। তাই এর সাথে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি আরো বলেন, করোনা কালে যে ধাক্কাটি এসেছিল তাকে আমরা সামাল দিতে পেরেছি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, মানুষই সকল সমস্যার সমাধান দিতে পারে। সমস্যা থাকবে এবং তাকে মোকাবেলা করে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন টেকসই উন্নয়ন এবং এটাই হচ্ছে আমাদের সুদৃঢ় অস্তিত্বের ভিত্তি।
ক্লাবের সদস্য মো. গোলাম মোস্তফা কাঞ্চন এর সহধর্মিনী আবিদা সুলতানা বলেন, টেকসই উন্নয়নের ধারায় অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সচল থাকে। করোনাকালে অর্থনৈতিকভাবে সারা বিশ্ব ভয়াবহ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাংলাদেশে টেকসই অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিদ্যমান থাকায় আমরা করোনাকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পেরেছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়রস’্ ক্লাব প্রেসিডেন্ট ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী বলেন, পিঠা উৎসব এ ক্লাবের একটি সাংবাৎসরিক আয়োজন। আজ এ পিঠা উৎসবে ১০টি স্টলে রকমারি পিঠার যে আয়োজন করা হয়েছে এর মাধ্যমে আয়োজকরা একদিন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
স্বপনীল বড়–য়া’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কমিটি মেম্বার মাশফিক-উল-হাসান প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি