পরিবেশ ও বিজ্ঞান

0
139

সাধন সরকার :

চাঁদ
বন্ধুরা, চলো জানা যাক আজ চাঁদ সম্পর্কে। মহাকাশের যে বস্তু পৃথিবীর (আমরা যে গ্রহে বাস করি) চারদিকে ঘুরে তাই চাঁদ। ধারণা করা হয়, এটি শিলা দিয়ে গঠিত একটি বিশাল গোলাকার বস্তু। চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। সূর্যের আলো চাঁদের ওপর পড়লেই কেবল তখনই আমরা চাঁদ দেখতে পাই। ছোট্ট বন্ধুরা, মজার বিষয় হলো, টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে আমরা চাঁদের গায়ে পাহাড়, পর্বত, উপত্যকা দেখতে পাই। চাঁদ পৃথিবীকে যে অক্ষরেখায় পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তন করে, সে অক্ষরেখায় চাঁদ একদিন বা ২৪ ঘণ্টায় ১৩ ডিগ্রি কোণ অতিক্রম করে। চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে ২৭ দিন ৭ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ১১ সেকেন্ড সময় নেয়। প্রতি প্রায় ২৮ দিনে চাঁদ তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। চাঁদের রঙের মাঝে মাঝে ভিন্নতা দেখা যায়। পৃথিবীর চারপাশে ঘুরার সময় চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছের পয়েন্টে আসে এবং সেটা যদি হয় পূর্ণচাঁদ তখন তাকে বলা হয় ‘সুপারমুন’। অর্থাৎ অতিবৃহৎ চাঁদ। চাঁদের থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৪০০ কিলোমিটার। আমেরিকা ও কানাডায় এপ্রিল মাসে বসন্তের ফ্লক্স নামে এক ধরনের বুনোফুল ফুটে, যার রং গোলাপি আর সেখান থেকেই এপ্রিলের পূর্ণ চাঁদের রং ‘পিংক মুন’। কখনো কখনো চাঁদকে বড় এবং গোলাকার দেখায়। আবার কখনো ছোট অথবা অর্ধ-গোলাকার দেখায়। চাঁদের উজ্জ্বল অংশের আকৃতি পরিবর্তনকেই বলা হয়ে থাকে চাঁদের দশা। চাঁদের আটটি দশা বা পর্যায় আছে বলে ধারণা করা হয়।

চর
সাধারণত নদীর গতিপ্রবাহে বা মোহনায় পলি (বালুকণা, কাদা, কাঁকর ইত্যাদি) জমে জমে গড়ে ওঠা ভূভাগকে চর বলা যেতে পারে। নদীর শেষপ্রবাহে সাধারণত বালুর চর সৃষ্টি হয়। এ সময় নদীর প্রবাহ (পানি বয়ে নিয়ে যাওয়া) একবারে কমে আসে এবং নদী পলিবহন ক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলে। এর ফলে নদীর তলদেশে পলিসঞ্চিত বা জমা হতে শুরু করে যা ধীরে ধীরে নদীর বুকে চরের সৃষ্টি করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীতে চর দেখা যায়। যমুনা নদীতে প্রায়শই চরের সৃষ্টি হয়। আবার বর্ষাকালে অতি বেশি স্রোতের বেগে চর নিশ্চিহ্নও হতে দেখা যায়।

চিরহরিৎ অরণ্য
চিরহরিৎ অরণ্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এই বনের গাছের পাতা এক সাথে ঝরে পড়ে না। ফলে সারাবছর সবুজ দেখায়। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার মধ্যে ভারসাম্য থাকার জন্য নিরক্ষীয় অঞ্চলে (নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার ৫ ডিগ্রি ওপরে-নিচের অঞ্চলে) এ ধরনের অরণ্য সৃষ্টি হয়েছে। চিরহরিৎ অরণ্যকে নিরক্ষীয় বৃষ্টিবহুল অরণ্য বা রেন-ফরেস্টও বলা হয়।