চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চসিকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের ফি

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) অধীনে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী প্রদেয় মাসিক বেতন বাড়নো হয়েছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে গতকাল সোমবার দুপুরে অনুষ্ঠিত চসিকের তিনটি স’ায়ী কমিটির সভায় বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। অর্থ ও সংস’াপন, দুর্যোগ ব্যবস’াপনা ও পরিবেশ উন্নয়ন স্ট্যান্ডিংসহ তিনটি কমিটির
সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রধান অতিথি হিসেবে উপসি’ত ছিলেন।
এভাবে প্রতি বছর বেতন বাড়ানো হলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপর বাড়তি চাপ পড়ে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
চসিকের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, গতকালের সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কিন্ডারগার্টেনসমূহের ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তি ফি, বার্ষিক বিবিধ ফি এবং মাসিক বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চসিকের অধীনে ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ২৫টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ৮টি বালক উচ্চ ও ১৪টি বালক-বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এছাড়া চসিকের অধীনে ৯টি কিন্ডারগার্টেন পরিচালিত হয়।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মাসিক বেতন ছিল ২৫০ টাকা। ২০১৭ মালে ৫০ টাকা বৃদ্ধি করে করা হয় ৩০০ টাকা। অন্যদিকে, ২০১৬ সাল পর্যন্ত নবম ও দশম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক বেতন ছিল ৩০০ টাকা এবং ২০১৭ সালে ৫০ টাকা বাড়িয়ে করা হয় ৩৫০ টাকা।
শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বছরের শুরুতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাসিক বেতন বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ২০১৮ সালে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেনি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ৩৫০ টাকা এবং নবম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাসিক বেতন ৪০০ টাকা হলো।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বেতন বাড়ানোর ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে। না বাড়িয়েও কোন উপায় নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালাতে চসিককে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
অন্যদিকে, কিন্ডারগার্টেনগুলোতে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। ২০১৬ সালে প্লে থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক বেতন ৫০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। যা আগের বছর ২০১৬ সালে ছিল ৪০০ টাকা।

কিন্ডারগার্টেনের এক শিক্ষিকা বলেন, ‘প্রতি বছর বেতন বাড়ালে অভিভাবকদের উপর চাপ পড়ে। তাই কিন্ডারগার্টেনগুলোতে বেতন না বাড়ানোর জন্য আমরা মেয়রকে অনুরোধ করেছি।’