বিদেশগামীদের দুর্ভোগ লাঘবের আহ্বান সুজনের

0
222
সিভিল সার্জনের সাথে আলাপকালে খোরশেদ আলম সুজন

রেমিটেন্স যোদ্ধা খ্যাত বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে ভুক্তভোগীদের তীব্র অসন্তোষ, ভুল রিপোর্ট এবং নমুনা পরীক্ষার সনদ বিলম্বের কারণে ফ্লাইট মিসসহ বিভিন্ন অসুবিধার অভিযোগ পেয়ে আজ ২৯ জুলাই (বুধবার) নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি’র সাথে আন্দরকিল্লাস্থ কার্যালয়ে স্বাক্ষাত করেন।
এ সময় সুজন বলেন, রেমিটেন্স যোদ্ধারাই বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। বিদেশে কর্মরত হাজার হাজার প্রবাসী ছুটি বা বিভিন্ন উপলক্ষ্যে দেশে এসে বৈশ্বিক মরণঘাতি করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট যোগাযোগ অচলাবস্থার শিকার হয়ে দেশে আটকা পড়েন। অচল অর্থনীতিকে সচল করার জন্য মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপসহ কিছু দেশে সীমিত আকারে আকাশ যোগাযোগ চালু করার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে আটকাপড়া প্রবাসীদের বিদেশ যাত্রার ব্যবস্থা করেন। স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে বিমান চলাচল করতে গিয়ে ভাড়া প্রায় দেড়গুণ বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে এয়ারলাইন্সগুলোর ইকোনমি ক্লাসের টিকেট মূল্যও অফেরতযোগ্য। বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে করোনা নেগেটিভ সনদ বাধ্যতামূলক। সরকার সবকিছু বিবেচনা করে বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ দেশে কয়েকটি বিশেষ নমুনা পরীক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করে। এতে প্রতিজন যাত্রী ৩৫০০ টাকার বিনিময়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট লাভ করার নির্দেশনা দেন। কিন্তু দুঃজনকভাবে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কেন্দ্রটিতে চরম অব্যবস্থাপনার সাথে বিলম্ব রিপোর্ট প্রদানের কারণে অনেকে ফ্লাইট মিসের ফাঁদে পড়ে বিদেশ যাত্রা মিসের শিকারে পরিণত হন। এতে করে রেমিটেন্সযোদ্ধারা আর্থিক ও মানসিক দুর্ভোগের শিকার হন। রেমিটেন্স যোদ্ধাদের ভোগান্তির কারণ এবং এর দায় কে নেবেন তাও জানতে চান তিনি।

সুজন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক করোনার নমুনা পরীক্ষায় অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি বেসরকারি প্যাথলজি উচ্চহারের ফিস নিয়ে ভুল রিপোর্ট প্রদানের ব্যাপারে সিভিল সার্জনের দৃষ্টি আকর্ষন করে ঐ বেসরকারি প্যাথলজি নমুনা পরীক্ষায় নিম্নমানের কীট কিংবা আনাড়ি টেকনিশিয়ান ব্যবহার করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান।

তিনি আরো বলেন, বিশেষ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ফি দিয়ে যদি কোন প্রবাসী যাত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার রিপোর্ট না পান সেক্ষেত্রে তার ফ্লাইট টিকেটের অফেরতযোগ্য মূল্য ও অন্যান্য আর্থিক ক্ষতির দায় সিভিল সার্জন অফিসকেই নিতে হবে। তিনি রিপোর্ট প্রদানে আগতদের সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সিভিল সার্জনকে অনুরোধ জানান। প্রয়োজনে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার আহবান জানান।

এর আগে জনাব সুজন সিভিল কার্যালয়ে প্রবেশের সময় দেখতে পান ফিস জমাদান, নমুনা প্রদান ও রিপোর্ট গ্রহনের কাউন্টারসমূহে প্রায় শতাধিক লোক একজনের কাঁধের সাথে অন্যজনের কাঁধ ঘেষে জটলা করে আছে। নেই কোন সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন অফিসের কোন কর্মকর্তা কর্মচারীর তৎপরতাও লক্ষ্য করা যায়নাই। তিনি উপস্থিত সেবা গ্রহনেচ্ছুদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার অনুরোধ জানালে প্রায় সকলেই তার অনুরোধ সাড়া দেন।

চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন বিদেশগামী যাত্রীদের বিমানবন্দরে করোনা নেগেটিভ সনদ দেখানো বাধ্যতামূলক। তবে দুর্ভাগ্যবশত বেশ কয়েকজন প্রবাসী যাত্রীর করোনা নমুনা পরীক্ষার সনদ বিলম্বে পাওয়া গিয়েছে যে কারণে প্রথমেই দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সার্ভার সমস্যার কারণে বিআইটিআইডি মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের রিপোর্ট অনলাইনে আপলোড করতে পারেনি। ডাটা এন্ট্রি করতে বিলম্বের কারণে এ সমস্যা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এর ফলে বেশ কয়েকজন যাত্রী বিমান ধরতে পারেনি। বর্তমানে ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি প্রতিদিন ২৫০ জনের নমুনা পরীক্ষা করছে এবং এর অতিরিক্ত হলে সে সকল নমুনা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পরীক্ষা করে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নমুনা পরীক্ষায় ঢাকা থেকে ৪ জন টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিচ্ছে জেনারেল হাসপাতাল যাতে করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই করোনা নমুনা পরীক্ষার সনদ পাওয়া যায়। তাছাড়া নমুনা পরীক্ষার সনদ প্রাপ্তিতে যে সমস্যা ছিল তা কেটে গিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন এখন সনদ প্রাপ্তিতে আর কোন সমস্যা নেই। তিনি নমুনা পরীক্ষায় জটলা, সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জনাব সুজনের উত্থাপিত প্রস্তাবনাগুলো নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রহমান মিয়া, সংগঠনের সদস্য সচিব হাজী মো. হোসেন, মোরশেদ আলম, মোঃ শাহজাহান, সমীর মহাজন লিটন, মনিরুল হক মুন্না, উৎপল দত্ত প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি