পুরুষ হয়ে ছাতা ব্যবহার করায় মার খেয়েছিলেন যিনি

0
121

সুপ্রভাত ডেস্ক :
রোদ কিংবা বৃষ্টি হলেই ছাতা ছাড়া চলাই দায়! তবে কখনো কি ভেবে দেখেছেন, ছাতার উৎপত্তি ও এটি ব্যবহারের প্রচলন ঘটে কবে? কতকিছুই না আছে ইতিহাসে। ইতিহাসবিদরা মনে করেন, চীন, ভারত, ও আদি গ্রিস ও মিশরে প্রাচীনকালে ছাতার ব্যবহার ছিল। তবে ইউরোপে ছাতার ব্যবহারে তখনো প্রচলন ঘটেনি। একসময় বাঁশ ও পাতা দিয়ে ছাতার মতো একটা জিনিস তৈরি করা হয়। যদিও ওই পাতার ছাতা আধুনিককালের মতো গোলাকার ছিল না।
ইংল্যান্ডে ওই বাঁশ-পাতার তৈরি ছাতা ব্যবহার করতেন শুধু নারীরা। পুরুষদের সেই ছাতা ব্যবহার যদিও নিষিদ্ধ ছিল না। তবে নারীরা যেহেতু ব্যবহার করে এজন্য ছাতা পুরুষত্ব বিরোধী বলেই প্রচলিত ছিল। তাই ছাতার ব্যবহার তখন পর্যন্তও জনপ্রিয় হয়নি। তৈরি হয়নি আধুনিক ছাতাও।
সে সময় নারীরাই শুধু ব্যবহার করত ছাতা সেই প্রথা ভাঙলেন ইংল্যান্ডের প্রথম পুরুষ জোনাস হ্যানওয়ে। ইংল্যান্ডের আগে ফ্রান্সে ছাতা ব্যবহার করা হত। তবে ইংল্যান্ডের মানুষ ফ্রান্সের সেই আচরণকে নি¤œমানের বলে মনে করতেন। একদিন ফ্রান্স থেকে ফিরে জোনাসও ইংল্যান্ডের রাস্তায় ছাতা মাথায় বেরিয়ে পড়লেন।
পুরো দেশে, প্রথম একজন পুরুষ মানুষ যার মাথায় রয়েছে আধুনিক ছাতা। তাকে দেখে তো অন্যান্য পুরুষরা লজ্জা পেতে শুরু করলেন। সবাই তো চোখ ছনাবড়া করে চেয়ে রইলেন জোনাস হ্যানওয়ের দিকে। পুরুষ হয়ে কেউ কি ছাতা ব্যবহার করে?
জানা গেছে, সেই সময়ে ইংল্যান্ডের রাস্তায় টমটমের মতো এক ধরনের গাড়ি চলত। বৃষ্টি হলে, বরফ পড়লে সাধারণ মানুষ ওই গাড়ি ব্যবহার করত বৃষ্টি থেকে বাঁচতে। তবে ছাতার ব্যবহার শুরু হলে তো সেই গাড়ির ব্যবসা লাটে উঠবে।
বর্তমানে নারী পুরুষ সবাই ব্যবহার করেন ছাতা তাই লন্ডনের রাস্তায় জোনাসের ওপর চড়াও হলেন ঘোড়ার গাড়ির ব্যবসায়ীরা। একদিন রাস্তা দিয়ে আপন মনে পথ চলতেই জোনাস হ্যানওয়ের গায়ে ঢিল ছুড়ে মারেন এক ঘোড়া গাড়ির চালক। একদিন তো তিনটি গাড়ি একসঙ্গে এসে চাপা দিয়ে মারতেই চেয়েছিল জোনাসকে।
কোনো মতে সেদিন ছাতা সামলে জোনাস হ্যানওয়ে প্রাণে বাঁচেন। তবুও ছাতা তার হাত থেকে সরেনি। ইতিহাস অনুযায়ী, জোনাস হ্যানওয়েই প্রথম আধুনিক ছাতার ব্যবহার শুরু করেন। তার কারণেই একসময় ছাতা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে। সমস্ত প্রথা ভেঙে তিনি সেদিন রাস্তায় বেরিয়ে সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছিলেন, ছাতার ব্যবহার করা কতটা সহজ এবং উপকারী। বর্তমান বিশ্বের অনেকেই এখনো জোনাস হ্যানওয়ের এই অবদানের কথা জানেন না।
খবর : ডেইলিবাংলাদেশ’র।