হাটহাজারীতে করোনায় সেবা দিচ্ছে মেখল মানবিক আইসোলেশন সেন্টার

0
217
মেখল করোনা মানবিক আইসোলেশন সেন্টার

ফোন পেলেই বাসায় ছুটে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব। করোনাকালে এমন দুর্দিনে যেখানে ওষুধের দাম লাগামহীন, চিকিৎসের দেখা মেলা ভার এমন সময়ে দিনরাত মানবসেবা করে যাচ্ছে হাটহাজারী উপজেলার ‘মেখল মানবিক আইসোলেশন সেন্টার’।

উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের ফয়জিয়া বাজারের মরিয়ম কমিউনিটি সেন্টারে অস্থায়ীভাবে আইসোলেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। করোনা রোগী ছাড়াও অন্য যে কোনো রোগীর ফোন পেলেই চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক, ওষুধপত্রসহ রাত-বিরাতে ছুটে যান রোগীর বাসায়। শ্বাসকষ্টসহ রোগীদের অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবস্থাসহ সর্বশেষ সংকটাপন্ন রোগীদের আইসিইউ সুবিধার জন্য নগরীর হাসপাতাল গুলোতে ব্যবস্থা করেন। এছাড়া সার্বক্ষণিক রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে।

আইসোলেশন সেন্টারের উদ্যোক্তারা সুপ্রভাতকে জানিয়েছেন, নামে মেখল হলেও রোগীর ফোন পেয়ে আইসোলেশন সেন্টারেরর সেবা পৌঁছে গিয়েছে রাউজান, আমানবাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। গত ১৬ জুন থেকে শুরু হওয়া হোম আইসোলেশন সেন্টারে এখন পর্যন্ত শিশুসহ বৃদ্ধসহ পাঁচ শতাধিকের উপর রোগী সেবা পেয়েছেন। বর্তমানে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক এবং পাঁচজন চিকিৎসক এই কার্যক্রমের সাথে সম্পৃত্ত রয়েছেন।

এছাড়াও হোম আইসোলেশন সেন্টারটিতে ৩০টির অধিক অক্সিজেন সিলিন্ডার, দুইটা  নেবুলাইজার মেশিন এবং দুইটি অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা রয়েছে। সাহায্যের জন্য ০১৬০৯০১৩৯৩৯, ০১৮৪২২৮১২৭২, ০১৭৮৯৮৪৯৪০১ তিনটি হটলাইনে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আইসোলেশন সেন্টারে মেইন্টেসের দায়িত্বে থাকা মো. আবদুল হালিম সুপ্রভাতকে বলেন, অনেকে এসময় হাসপাতালে চিকিৎসা পাচ্ছেন না, তাদের বিষয়টি মাথায় রেখে করোনা ছাড়াও যে কোনো রোগী ফোন করলে চিকিৎসা সেবা পাবেন। বর্তমানে ৩০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার থাকলেও কয়েকদিনে মধ্যে আরও কয়েকটি সংযুক্ত হবে। করোনার বিসত্মার প্রথমে আইসোলেশন সেস্টার থেকে বিনামূল্য ওষুধ প্রদান করা হয়েছে।

করোনায় মৃত্যুর পরে মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকার নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়। কয়েকদিনের মধ্যে এই আইসোলেশন সেন্টার থেকে মেখল ইউনিয়নে কেউ মারা গেলে তার দাফন ও সৎকারের ব্যবস্থা করা হবে।

মানবিক আইসোলোশন সেন্টারটির উদ্যোক্তা আবুল কাশেম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ব্যাবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম প্রথাগত আইসোলেশনের বাহিরে ‘হোম আইসোলেশন করার কথা’।

তিনি বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার সময় সুপ্রভাতকে বলেন, রোগীর বাসা থেকে আইসোলেশনে আসার পথে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন। তার সুস্থতায় পরিবার-স্বজনরাও আতঙ্কে থাকেন। তাদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা বাসায় চিকিৎসা দেওয়ার চিনত্মা করেছি।

তিনি আরও বলেন, মানবিকতার হাত প্রসারিত করে জেলা ও উপজেলার পরিষদ চেয়ারম্যান, প্রবাসী ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এমন উদ্যোগে সহায়তা করছেন। এদের মধ্যে অনেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার, কেউ  নেবুলাইজার মেশিনসহ, কেউবা ওষুধ দিয়ে সাহায্য করেছেন। যেখান থেকে ফোন আসবে সেখানে সাধ্যমতো সুবিধা দেওয়া চেষ্টা থাকবে আমাদের। অধিক সেবা প্রাপ্তির জন্য আমরা সকলের সহযোগিতা নিয়ে এটির পরিসর আরো বাড়াবো।