বন্দর থেকে সরাসরি পণ্য খালাস চায় বিজিএমইএ

0
203

চারদিনের মধ্যে বন্দর থেকে যেকোনো পণ্য খালাসের সুযোগ রয়েছে: বন্দর কর্তৃপক্ষ #
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বেসরকারি অফডকের পরিবর্তে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাস নিতে চায় পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এলক্ষ্যে বিজিএমইএ প্রথম সহ সভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম শনিবার (১৩ জুন) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেয়। সেই চিঠিতে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিএমইএ প্রথম সহ সভাপতি আবদুস সালাম বলেন, ‘বন্দর একটি সঙ্কটকালীন সময়ে বন্দরের জট কমাতে বেসরকারি অফডক থেকে পণ্য নেয়ার আদেশ জারি করেছিল। তখন বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার জট থাকলেও এখন তা ৪০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে এবং তা স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। তাই আমরা বেসকারি অফডকের পরিবর্তে বন্দর থেকে সরাসরি ডেলিভারি নিতে চাই।’
তিনি আরো বলেন, অফডক থেকে পণ্য নিতে আমাদের ছয় থেকে সাত দিন সময় বেশি লাগে। এতে আমাদের সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হয়। আর তা দূর করতেই আমরা বন্দর থেকে সরাসরি পণ্য ডেলিভারি নিতে আগ্রহী।’
কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সকল পণ্য অফডক থেকে ডেলিভারি নিতে পারবে বলে পরিপত্র জারি করেছিল। এখনো সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আবদুস সালাম বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যে অবস্থায় সেই আদেশ জারি করেছিল,এখন বন্দরের সেই অবস্থা নেই। তাই আমরা বন্দর থেকে এখন থেকেই পণ্য ডেলিভারি নিতে চাই।
বিজিএমইএ’র চিঠির বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম বলেন, ‘বন্দর থেকে সরাসরি পণ্য ডেলিভারি তো আমরা বন্ধ করিনি। জাহাজ থেকে পণ্য নামার চারদিন পর্যন্ত কনটেইনার বন্দরে থাকে। যদি বিজিএমই’র বেশি প্রয়োজন হয় তাহলে তারা এই চারদিনের মধ্যে পণ্য খালাস করে নিয়ে যাক। তবে চারদিন পর তা যাচ্ছে অফডকে।’
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ থেকে লকডাউন ও সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ইয়ার্ডে বন্দরে বাড়তে থাকে কনটেইনার জট। ৪৯ হাজার কনটেইনারের ধারণক্ষমতা থাকলেও তা ৫০ হাজার অতিক্রম করে গেছিল। আর এই অবস্থা থেকে উত্তরন ঘটাতে বেসরকারি অফডকগুলোতে সব ধরনের কনটেইনার পাঠানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ৩৬টি আইটেমের পণ্য অফডকে যাওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে আরো ছয়টি বাড়ানোর পর পরবর্তীতে সব আইটেম করে দেয়া হয়েছিল। আর এই সিদ্ধান্তে বন্দরের ইয়ার্ডে জটলা কমে এসেছে।