সুপ্রভাত বাংলাদেশ
একটি ফোনকলও হতে পারে হাসপাতালের ব্র্যান্ডের প্রথম পরিচয়
ফ্রেশার থেকে ফিউচার লিডার: কর্মক্ষেত্রে তরুণদের নতুন বাস্তবতা
২০ বছরে কর্ণফুলী ইপিজেডে বিনিয়োগ বেড়েছে ৪১২ গুণ
  • বিজনেস
    • চট্টগ্রাম বন্দর
    • কাস্টমস
    • এনবিআর
    • শিপিং
    • ব্যাংক-বীমা
    • শেয়ারবাজার
    • করপোরেট
    • শিল্পবাণিজ্য সংবাদ
    • বিনিয়োগ
    • জ্বালানি
    • এভিয়েশন
    • টেলিকম
    • উদ্যোক্তা
    • বিশ্ব অর্থনীতি
  • মহানগর
    • সিটি কর্পোরেশন
    • সিএমপি
    • জেলা প্রশাসন
    • বিদ্যুৎ
    • হাসপাতাল
    • রেলওয়ে
    • ওয়াসা
    • সিডিএ
    • আবহাওয়া
    • কারাগার
    • গণপরিবহন
    • বাজার
    • দুর্নীতি দমন কমিশন
    • সংগঠন সংবাদ
  • বৃহত্তর চট্টগ্রাম
    • চট্টগ্রাম জেলা
      • কর্ণফুলী
      • বোয়ালখালী
      • পটিয়া
      • আনোয়ারা
      • চন্দনাইশ
      • সাতকানিয়া
      • লোহাগাড়া
      • বাঁশখালী
      • মিরসরাই
      • সন্দ্বীপ
      • সীতাকুণ্ড
      • হাটহাজারী
      • রাউজান
      • রাঙ্গুনিয়া
      • ফটিকছড়ি
    • কক্সবাজার
      • কক্সবাজার সদর
      • রামু
      • ঈদগাঁও
      • চকরিয়া
      • পেকুয়া
      • মাতামুহুরী
      • কুতুবদিয়া
      • মহেশখালী
      • উখিয়া
      • টেকনাফ
    • রাঙ্গামাটি
      • রাঙ্গামাটি সদর
      • বাঘাইছড়ি
      • বরকল
      • বিলাইছড়ি
      • জুরাছড়ি
      • লংগদু
      • কাউখালী
      • কাপ্তাই
      • নানিয়ারচর
      • রাজস্থলী
    • বান্দরবান
      • বান্দরবান সদর
      • লামা
      • আলীকদম
      • থানচি
      • নাইক্ষ্যংছড়ি
      • রোয়াংছড়ি
      • রুমা
    • খাগড়াছড়ি
      • খাগড়াছড়ি সদর
      • দীঘিনালা
      • মহালছড়ি
      • মাটিরাঙ্গা
      • পানছড়ি
      • মানিকছড়ি
      • গুইমারা
      • লক্ষ্মীছড়ি
      • রামগড়
  • জাতীয়
    • সরকার
    • সংসদ
    • প্রশাসন
    • পরিবেশ-জলবায়ু
    • প্রতিরক্ষা
    • নির্বাচন
    • নারী
  • আন্তর্জাতিক
    • এশিয়া
    • আমেরিকা
    • ইউরোপ
    • আফ্রিকা
    • মধ্যপ্রাচ্য
    • ভারত
    • চীন
    • পাকিস্তান
  • রাজনীতি
    • বিএনপি
    • আওয়ামী লীগ
    • জামায়াতে ইসলামী
    • জাতীয় পার্টি
    • এনসিপি
    • হেফাজতে ইসলামী
    • যুবদল
    • যুবলীগ
    • ছাত্রদল
    • ছাত্রলীগ
    • ছাত্রশিবির
    • ছাত্রশক্তি
    • শ্রমিক দল
    • শ্রমিক লীগ
    • শ্রমিক ফেডারেশন
  • অপরাধ-আদালত
  • খেলা
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • টেনিস
    • অন্য খেলা
  • ফিচার
    • জেন-জি
    • মতামত
      • সম্পাদকীয়
      • বিশেষ সংখ্যা
    • শিল্প-সাহিত্য
    • এলাটিং বেলাটিং
    • বিনোদন-সংস্কৃতি
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • খাবারদাবার
    • লাইফস্টাইল
    • ভ্রমণ
    • চাকরি
  • শিক্ষা
    • ক্যাম্পাস
  • স্বাস্থ্য
  • ভিডিও
  • English
ই-পেপার
সুপ্রভাত বাংলাদেশসুপ্রভাত বাংলাদেশ
  • বিজনেস
  • মহানগর
  • বৃহত্তর চট্টগ্রাম
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অপরাধ-আদালত
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • খেলা
  • আন্তর্জাতিক
  • মতামত
  • ফিচার
  • লাইফস্টাইল
  • ভিডিও
সার্চ
  • বিজনেস
    • চট্টগ্রাম বন্দর
    • কাস্টমস
    • এনবিআর
    • শিপিং
    • ব্যাংক-বীমা
    • শেয়ারবাজার
    • করপোরেট
    • শিল্পবাণিজ্য সংবাদ
    • বিনিয়োগ
    • জ্বালানি
    • এভিয়েশন
    • টেলিকম
    • উদ্যোক্তা
    • বিশ্ব অর্থনীতি
  • মহানগর
    • সিটি কর্পোরেশন
    • সিএমপি
    • জেলা প্রশাসন
    • বিদ্যুৎ
    • হাসপাতাল
    • রেলওয়ে
    • ওয়াসা
    • সিডিএ
    • আবহাওয়া
    • কারাগার
    • গণপরিবহন
    • বাজার
    • দুর্নীতি দমন কমিশন
    • সংগঠন সংবাদ
  • বৃহত্তর চট্টগ্রাম
    • চট্টগ্রাম জেলা
    • কক্সবাজার
    • রাঙ্গামাটি
    • বান্দরবান
    • খাগড়াছড়ি
  • জাতীয়
    • সরকার
    • সংসদ
    • প্রশাসন
    • পরিবেশ-জলবায়ু
    • প্রতিরক্ষা
    • নির্বাচন
    • নারী
  • আন্তর্জাতিক
    • এশিয়া
    • আমেরিকা
    • ইউরোপ
    • আফ্রিকা
    • মধ্যপ্রাচ্য
    • ভারত
    • চীন
    • পাকিস্তান
  • রাজনীতি
    • বিএনপি
    • আওয়ামী লীগ
    • জামায়াতে ইসলামী
    • জাতীয় পার্টি
    • এনসিপি
    • হেফাজতে ইসলামী
    • যুবদল
    • যুবলীগ
    • ছাত্রদল
    • ছাত্রলীগ
    • ছাত্রশিবির
    • ছাত্রশক্তি
    • শ্রমিক দল
    • শ্রমিক লীগ
    • শ্রমিক ফেডারেশন
  • অপরাধ-আদালত
  • খেলা
    • ক্রিকেট
    • ফুটবল
    • টেনিস
    • অন্য খেলা
  • ফিচার
    • জেন-জি
    • মতামত
    • শিল্প-সাহিত্য
    • এলাটিং বেলাটিং
    • বিনোদন-সংস্কৃতি
    • তথ্যপ্রযুক্তি
    • খাবারদাবার
    • লাইফস্টাইল
    • ভ্রমণ
    • চাকরি
  • শিক্ষা
    • ক্যাম্পাস
  • স্বাস্থ্য
  • ভিডিও
ফলো করুন
© 2025-2026 Suprobhat Bangladesh. All Rights Reserved.

সম্পাদকের বাছাই

শিশু বিশেষজ্ঞ মনজুর মোর্শেদ আর নেই
অনুমোদন মেলেনি, মেলা চালাতে এবার ‘মিনতি’
গ্রেপ্তার মৎস্যজীবী লীগ নেতা
কর্ণফুলীতে মৎস্যজীবী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
শামসুর রাহমানের ‘কালো মেয়ের জন্য পঙ্ক্তিমালা’
অ্যান কারসন: সাহিত্যের সীমানা ভাঙা এক নিরীক্ষাধর্মী লেখক
সাংবাদিককে জিম্মি করে ছিনতাই, জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবি সিইউজের

৫ বছর পর মাস্টারপ্ল্যানের একটা অডিট হওয়া উচিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
শেয়ার

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নতুন মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানের ভ্যাটিংয়ের (যাচাই-বাছাই) দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ। আর এ কাজের টিম লিডার চুয়েটের স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান । নতুন মাস্টারপ্ল্যানের নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তাঁর সঙ্গে খোলামেলা কথা হয়।

মাস্টারপ্ল্যানের ড্রেনেজ নথিতে দেখা যায়, মাত্র ১৮ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মতামতের ভিত্তিতে স্টেকহোল্ডার কনসাল্টেশন সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রক্রিয়া কি কেবল নামমাত্র অংশগ্রহণ নয়? সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া এই মহাপরিকল্পনা কতটা জনবান্ধব হতে পারে ?

ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান : আমার মনে হচ্ছে ও বিষয়ে আসলে সিডিএ আপনাকে ভালো জবাব দিতে পারবে। তবে আমি যেটা বলছি সেটা হচ্ছে যে, মাস্টারপ্ল্যানটা তৈরি হওয়ার পরে পাবলিক হিয়ারিংয়ের জন্য সিডিএ যখন ডেকেছে সেখানে সম্ভবত আঠারো জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আমি যতটা জানি, কারণ আমার এখানে একটা ভূমিকাও আছে, মাস্টারপ্ল্যান তো কনসালটেন্সি ফার্ম তৈরি করে। তো সেই কনসালটেন্সি ফার্ম সিডিএ যেভাবে চেয়েছে সেইভাবে করেছে কিনা। তবে এবার একটু ভিন্নতা এসেছে।

বাংলাদেশে এটা প্রথমবারের মতো থার্ড পার্টিকে দিয়ে ভেটিং করানো হচ্ছে, যথাযথভাবে কাজ হয়েছে কিনা। চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ এই কাজটি করছে। এবং আমি সেই কাজের টিম লিডার হিসেবে জড়িত। আরেকটা বড় বিষয় আমরা আগেই এখানে বলে রাখি যে, আমাদের বিভাগের বা চুয়েটের কেউ সিডিএ মাস্টারপ্ল্যানের এই কনসালটেন্সি ফার্ম-এর সাথে জড়িত না। ফলে আমাদের কোন কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট ছিল না। তো সেক্ষেত্রে আমরা ভেটিং করে দিচ্ছি নিরপেক্ষ জায়গা থেকে।

প্রথম বিষয় হচ্ছে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করার সময় যথেষ্ট পরিমাণে ওয়ার্ডভিত্তিক, মহল্লাভিত্তিক, পৌরসভাভিত্তিক, যেহেত সিডিএ এরিয়ার মধ্যে পৌরসভাগুলোও পড়েছে, সেখানে কনসালটেন্সি ফার্ম কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণে জনগণের মতামত নিয়ে তাদের ডিমান্ড বা চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আর ফাইনাল ডকুমেন্ট তৈরি হওয়ার পরে সিডিএ তার আন্তরিকতার জায়গা থেকে আমি বলব যথেষ্ট পরিমাণে চেষ্টা করছে। তারা বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে জানিয়ে বা প্রফেশনাল যতগুলো অর্গানাইজেশন আছে সবাইকে বলেছে যে, আপনারা প্লিজ আসেন, এসে আমাদের এখানে মতামত দিয়ে যান।

এখন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা পটভূমি পরিবর্তনের কারণে হয়তো বা পূর্বে যারা পরিচিত বা অনেকটা সতেরো বছরে যারা কাউন্সিলর ছিলেন তাদের অনেকেই হয়তো বা না থাকার কারণে সেই সংখ্যাটা এত কম মনে হতে পারে।

কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে যে, পাবলিক হিয়ারিং-এর যে বিষয়টা প্রচার- প্রচারণার জায়গা থেকে হয়েছে, হয়তো বা সুনির্দিষ্ট করে আপনি সিটি কাউন্সিলরদের সঙ্গে কথা বলছেন, সেখানে হয়তো ঘাটতি থাকতে পারে। কিন্তু অবশ্যই পেশাগত প্রতিষ্ঠান- ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ প্ল্যানারস, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ আর্কিটেক্টস-এর যথেষ্ট পরিমাণে পার্টিনিপেশন ছিল বা তাদের আন্তরিকতার কমতি আমি দেখি না।

ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানের ৮-৩ পৃষ্ঠায় স্বীকার করা হয়েছে যে, এলআইডি ইন্টারভেনশনের জন্য শহরে ৪৩ হাজার ১২৭ একর খোলা জায়গা প্রয়োজন, কিন্তু আছে মাত্র ৭,০৩৩ একর। যেখানে ৩৬ হাজার একর খোলা জায়গার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে আইএসও ৩৭১২০- এর টেকসই ও স্মার্ট সিটির মানদণ্ড অর্জন করা কি তাত্ত্বিক বিলাসিতা নয় ?

ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান : যে স্ট্যান্ডার্ডটাকে আমরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে পাচ্ছি সেটা আমাদের চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য প্রযোজ্য হবে কিনা সেখানে একটা প্রশ্ন আছে। কারণ উন্নত বিশ্বে জনঘনত্ব এবং একটা শহরের জনসংখ্যার অনুপাতিক হারে চট্টগ্রাম মহানগরীতে সেই সুযোগটা নাই।

চট্টগ্রাম মহানগরীতে আমরা যাবতীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে যে স্ট্যান্ডার্ডটাকে ধরার চেষ্টা করি, সিডিএ-র পূর্বতন যে সমস্ত মাস্টারপ্ল্যান ছিল অথবা বাংলাদেশে রাজউক এরিয়া, রাজশাহী, খুলনা বা কক্সবাজার এরিয়ায় যে মহাপরিকল্পনাগুলো হয়েছে সেগুলোর অনুপাতিক হারে সঠিক আছে কিনা।

আমরা সেই জায়গাটাতে অন্যান্য শহরের তুলনায় এখানে যথেষ্ট ভালো অবস্থা পাচ্ছি। কারণ চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে পাহাড়ের কারণে অনেকটা জায়গা এখনও আসলে ওপেন, মানে আমরা যেটাকে বলি ‘ওপেন স্পেস’ হিসেবে বা গ্রিনারি হিসেবে রয়ে গিয়েছে। আর ওই স্ট্যান্ডার্ডটাকে এখন যদি আমরা আমাদের শহরের মধ্যে প্রযোজ্য করতে চাই আসলে তা বাস্তবতার নিরিখে সম্ভব না।

কারণ অলরেডি প্রচুর পরিমাণে বিল্ট আপ এরিয়া অলরেডি ডেভেলাপ হয়ে গেছে। তাহলে সেটাকে তো আসলে আমি ভেঙে নতুন করে করতে পারব না। আমার কাছে সরকারি সিএস, আরএস নকশা অনুসারে যেগুলো ‘ওপেন স্পেস’ হিসেবে নির্ধারিত অথবা আমাদের ওয়াটারবডি হিসেবে যেটা নির্ধারিত আছে সেই জায়গাটুকুকে আমরা আসলে প্রিজার্ভ-এর ওপর সবচেয়ে জোর দিচ্ছি বা আমরা মনে করি যে সিএস এবং আরএস নকশাতে যে খালগুলো আছে সেগুলো যদি আমরা অবশ্যই পুনরুদ্ধার করতে পারি এবং সেগুলো অবৈধ দখলদার যারাই হোক না কেন তাদের উচ্ছেদ করে সেগুলোকে যদি আমরা ওয়াটারবডি হিসেবে রিটেনশন করতে পারি। আর গ্রিন স্পেস হিসেবে পার্ক, খেলার মাঠ যেগুলো আছে সেগুলোকে যেন বাণিজ্যিক ব্যবহারের দিকে না যাই। যেমন সিআরবি, বিপ্লব উদ্যান, ফয়’স লেক আছে। সেগুলোকে যদি আমরা সুনির্দিষ্টভাবে গ্রিন হিসেবে রাখতে পারি, ওই স্ট্যান্ডার্ডে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বা আমাদের আশপাশে যে জিও এনভায়রনমেন্ট বা ডেমোগ্রাফি যাদের কন্ডিশন, বিশেষ করে ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ওই রেস্পেক্টিভে ওকে।

কিন্তু যদি এখন আপনি আইইউসিএন (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার) স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে মেলাতে চান, আমাদের বাংলাদেশের জনঘনত্বের সাথে সেই স্ট্যান্ডার্ড আসলে আমাদের পক্ষে পুরণ করা সম্ভব না।

সেটা করতে গেলে পূর্বাচলের মতো যখন নতুন কোন শহর তৈরি হবে সেখানে হয়তো আমরা চিন্তা করতে পারি। কিন্তু চিটাগাং শহরটা আসলে স্পন্টেনিয়াস অলরেডি ডেভেলপ হয়ে গিয়েছে। সেখানে আর নতুন করে ওই ধরনের স্ট্যান্ডার্ড দেয়া সম্ভব না। রাদার আমরা আমাদের শহরের চারপাশে যে ফাঁকা জমিটা এখনও আছে সেটাকে আমরা জোর দিতে পারি যে, সেখানে আমরা সর্বোচ্চ কতটুকু ওয়াটার ইন্টারসেকশন এরিয়া, গ্রিনারিজ এরিয়া বা এগ্রিকালচারাল ল্যান্ড বা লো ল্যান্ড হিসেবে প্রিজার্ভ করতে পারি যেটা আমাদের এনভায়রনমেন্টের জন্য আসলে সাপোর্ট দেবে, মোটামুটি এই আমাদের যতটুকু স্পেস এটা দিয়ে।

এখানে একটা বিষয় আছে; সিডিএ মাস্টারপ্ল্যান এরিয়ার সাথে কিন্তু আপনি চিটাগাং সিটি কর্পোরেশন এরিয়ার কম্পেয়ার করতে পারবেন না। কারণ সিডিএ-র এরিয়া যদি এগারোশো বর্গকিলোমিটার হয় সেখানে কিন্তু রাঙ্গুনিয়া থেকে শুরু করে বোয়ালখালী পর্যন্ত বা ওইদিকে আনোয়ারা পর্যন্ত, এদিকে হাটহাজারী । তখন কিন্তু পুরো জায়গাটাকে চিন্তা করলে আপনি এই পরিমাণে ফাঁকা জায়গা দেখতে পারবেন।

কিন্তু সমস্যা হয়ে গেছে চিটাগাং সিটি কর্পোরেশন এরিয়ার ভিতরের কনসেন্ট্রেশনের কারণে সেই জায়গাটাই আসলে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে। ওই জায়গাতে ওই পরিমাণে ফাঁকা বা গ্রিনারিজ নাই । তাহলে আমাদের এখন যতটুকু যেভাবে আছে মানে গ্রিনারি তারপরে কিছু স্পেস যেগুলো আছে এগুলো দিয়েই করা সম্ভব।

যেটুকু আছে শহরের মধ্যে যেহেতু সম্ভব না, তখন আমাদের আসলে বিকল্প চিন্তা করতে হবে যে, আমাদের শহরের পার্শ্ববর্তী যে জায়গাগুলা আছে সিডিএ এরিয়ার মধ্যে, সেখানে আমরা নতুন করে ঢাকার মতো একটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বা একটি রমনা পার্ক অথবা একটি বোটানিক্যাল গার্ডেন করতে পারি। অর্থাৎ এই যে প্রিজারভেশনের জায়গাটাকে আমরা গুরুত্ব দিতে পারি।

ড্রেনেজ প্ল্যানের পদ্ধতিগত ভুল: মাস্টারপ্ল্যানে সরাসরি স্বীকার করা হয়েছে যে, চলমান জলাবদ্ধতা প্রকল্পে রেগুলেটর নির্মাণের মাধ্যমে খালের মুখ মারাত্মকভাবে সংকুচিত করা হচ্ছে । কারিগরিভাবে এই ভুলগুলো সংশোধন না করে প্ল্যান পাস করলে কি চট্টগ্রাম আরও বড় ধরনের কৃত্রিম বন্যার সম্মুখীন হবে না ?

ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান : আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনের যে প্রকল্প নিয়েছি সেই প্রকল্পের মধ্যে খালগুলোর মুখে রেগুলেটর স্থাপন করা হয়েছে, সেই রেগুলেটর হচ্ছে আসলে পানিটা নিঃসরণের জন্য, সেই জায়গাটার ডিজাইনের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন এসেছে। অবশ্যই সেটাকে নিয়ে আরেকবার আমাদের ভাবনার সুযোগ আছে।

কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই যেটা হয় যে আসলে রেগুলেটরের মুখ এত বড় আঙ্গিকে রাখা সেটা ব্যয়বহুল বা মেইন্টেনেন্সের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং। কারণ এখানে কিন্তু এমন না যে এই রেগুলেটর দিয়ে শুধুমাত্র আপনার ভিতরের পানিটা বের হবে।

চট্টগ্রামের ভূ-প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণে কিন্তু আবার আপনাকে রেগুলেটর বন্ধ রাখতে হবে। জোয়ারের সময় পানিটা যেন ব্যাকফ্লো করে ভিতরে না আসে। একই প্রশ্ন কিন্তু বারবার উঠে আসছে যে, আমাদের ড্রেনেজ প্রকল্পে যে রেগুলেটরগুলো ইনস্টলেশন হলো সিডিএ কিন্তু অনেক আগে থেকেই বলেছে যে, এই রেগুলেটরের পাম্প মেইন্টেনেন্স করা প্লাস এগুলোকে পরিচালনার জন্য যে ব্যয়, জনবল কাঠামো সেটার জন্যে আবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা তারা চাচ্ছে। কারণ তার হাতে এই জনবল মেইন্টেনেন্স বা পাম্পের বিষয়টা নাই। তো অবশ্যই একটা বিষয় এখানে অন্তর্ভুক্ত থাকার সুযোগ আছে।

নথিতে বলা হয়েছে, বন্দর ও বিমানবন্দর কর্তৃ পক্ষ সিডিএ-র তোয়াক্কা না করে নিজস্ব মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী চলে। প্রস্তাবিত সিডিসিসি বা এমপিআইইউ কি বন্দর বা ওয়াসার মতো শক্তিশালী সংস্থাকে মাস্টারপ্ল্যানের আইনি কাঠামোর নিচে আনতে পারবে, নাকি এটিও ১৯৯৫ সালের প্রস্তাবিত ট্রান্সপোর্ট উইং’-এর মতো ব্যর্থ হবে ?

ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান : সমন্বয়হীনতার ক্ষেত্রে বলবো, সিডিএর এই মাস্টারপ্ল্যানে একটা পজিটিভ জিনিস তৈরি করা হয়েছে শুরু থেকেই। পূর্ববর্তী যত মাস্টারপ্ল্যান সিডিএ তৈরি করেছে সেখানে তারা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অর্গানাইজেশনগুলোকে অনুরোধ করতো যেনো এই মাস্টারপ্ল্যান এরিয়ার বা প্রজেক্টগুলো বাকিরা ফলো করে।

কিন্তু এবারের মাস্টারপ্ল্যানের মধ্যে কিন্তু একটা নতুন অধ্যায় তারা যোগ করেছে, যা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতই হয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যানে যে উন্নয়নের কথাগুলো বলা হয়েছে সেই উন্নয়নগুলো বাস্তবায়নের জন্য কোন অর্গানাইজেশন কোন কাজগুলো করবে সেটাকে তারা অন্তর্ভুক্ত করছে। এবং সেক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, চিটাগাং পোর্ট অথরিটি, এয়ারপোর্ট এবং আমাদের পার্শ্ববর্তী যেসব এলাকার মধ্যে যে কয়েকটি পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত বা উপজেলা প্রশাসন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে তাদেরকে এখানে গাইডেড করে দেয়া হচ্ছে যে, এই প্রকল্পগুলোর দায়িত্ব আপনারা নেবেন।

আদারওয়াইজ আমাদের সমন্বয়হীনতার যে বিষয়টা ছিল এ ধরনের একটি মাস্টারপ্ল্যানকে ঘিরে সেখানে বাকি অর্গানাইজেশনগুলো তা ‘ওন’ করতেন না। বলতেন, এটা সিডিএর মাস্টারপ্ল্যান।

আমরা আসলে এ কথাটার এবার পরিবর্তন আনতে চাই। আমার বক্তব্য হচ্ছে, এই মাস্টারপ্ল্যানটার শব্দটা হওয়া উচিত- এটা চট্টগ্রামের মাস্টারপ্ল্যান। এটা সরকার কর্তৃক তৈরিকৃত। এটা আমাদের সবার জন্যই ফলো করা ম্যান্ডেটরি। আমরা আসলে শব্দটাকে এবার বলতে চাচ্ছি এটা বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতকৃত মাস্টারপ্ল্যান। আমাদের সরকারি সকল অর্গানাইজেশন এটার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে এবং এর বাস্তবায়নে যে আঙ্গিকে কাজ হবে তার গাইড লাইন ফলো করে প্রকল্পগুলোর দায়িত্ব তাকে নিতে হবে।

অবশ্য এখানে আমাদের কিছু কিছু জায়গাতে হয়তো কিছু কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্টের বিষ আছে। যেমন আমি একটা উদাহরণ দিয়ে বলি, আমাদের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আন্ডারে হচ্ছে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাগুলোর প্রত্যেকের নিজস্ব একটা আইন আছে এবং সেই আইনে বলে দেয়া আছে যে তার এরিয়ার মধ্যে বিল্ডিং পারমিশন সে দিবে। আবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আন্ডারে হচ্ছে সিডিএ। সিডিএর আইনে বলেছে যে, তার অন্তর্ভুক্ত এলাকার যাবতীয় প্রকল্প সে পারমিশন দিবে। সে তার বিল্ডিং কোড ম্যানেজ করবে।

এখন সমস্যার জায়গা হচ্ছে, পৌরসভা যতগুলো আছে তাদের এই বিল্ডিং পারমিশনের জন্য একটা কমিটি গঠন করা আছে সরকারের নির্দেশিতভাবে এবং এই বিল্ডিং পারমিশনের মাধ্যমে পৌরসভাগুলো একটা রেভিনিউ জেনারেট করে। এখন সিডিএ এরিয়ার মধ্যে সিডিএ যখন নিজে এককভাবে সবগুলো পারমিশন দিচ্ছে তখন এই পৌরসভাগুলো রেভিনিউ জেনারেটের সুযোগ হারাচ্ছে এবং ফলশ্রুতিতে পৌরসভাগুলো এই বিল্ডিংগুলোর দায়দায়িত্ব আর নিতে চাচ্ছে না। সে তখন বলে অনুমোদনের যেহেতু আমার অ্যাকসেস নাই বা আমাকে সুযোগ দিচ্ছেন না তাহলে এখানে মনিটর কে করবে? এবং সিডিএ-র জনবল কাঠামোতে ঘাটতির কারণে তখন দূরবর্তী পৌরসভা এলাকাগুলোতে বিল্ডিং কোড না মেনে বিল্ডিং হওয়ার একটা প্রবণতা দেখা দেয়। তো সেক্ষেত্রে যদি এই বিল্ডিং পারমিশনের প্রক্রিয়াটাতে সিডিএ এবং পৌরসভা যৌথভাবে কাজ করেন এবং এখান থেকে যে রেভিনিউ জেনারেট হবে সেটাও যদি দুইটা অর্গানাইজেশন শেয়ার করেন তাহলে আমার কাছে মনে হয়েছে বিষয়টার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের দায়বদ্ধতার জায়গা এবং দায়িত্বশীলতার জায়গাটা আসলে নিশ্চিত হবে । তো সেই বিষয়টাকেও আমরা জোর দেয়ার চেষ্টা করব। মানে সিটির জন্য সিটি কর্পোরেশনকেও ইনভলভ হতে হবে। বিল্ডিং পারমিশনের যে কমিটি থাকবে সেখানে অবশ্যই সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিত্ব থাকা উচিত বলে মনে করি।

পৌরসভার যে প্ল্যানটা আসবে বা পৌরসভাকে ধরেন হাটহাজারী পৌরসভার জন্যে যে প্ল্যান অ্যাপ্রুফ দেয়া হচ্ছে, সেইটার জন্য যে কমিটি তৈরি হবে সেখানে হাটহাজারী এবং সিডিএ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে এবং ওই প্ল্যান থেকে যে রেভিনিউ জেনারেট হবে সেটা সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা এবং সিডিএ-র মধ্যে একটা নির্দিষ্ট হারে বন্টন হবে।

চট্টগ্রামে ৬০ শতাংশ মানুষ হেঁটে কর্মস্থলে গেলেও বাজেটের বড় অংশ সড়ক সম্প্রসারণ ও ফ্লাইওভারের জন্য রাখা হয়েছে । এই প্ল্যান সংশোধন ছাড়া পাস হলে চট্টগ্রামের পাহাড়, ৭২ শতাংশ ভরাট হওয়া জলাশয় এবং প্রাকৃ তিক পরিবেশের অপুরণীয় ক্ষতি হবে কি না ?

ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান : আমরা সবসময় যে কথাটা বলি যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা যদি একটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে না হয়, শুধুমাত্র কোন একটি নির্দিষ্ট অংশের জন্য বিশেষ কিছু করা হয় সেটা আসলে আমাদের যানজট নিরসনের বা আমাদের সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইফিসিয়েন্সির মাত্রা কখনো বৃদ্ধি করবে না।

যেমন আপনি জিইসি মোড়ে এমন কিছু করতে পারেন এতে জিইসি মোড় থেকে হয়তো জ্যাম সরিয়ে দিতে পারবেন কিন্তু সেই যানজটের জায়গাটা হয়তোবা আবার টাইগারপাসের মোড়ে চলে যাবে। আরেক জায়গায় চলে যাবে। ফুটপাতগুলোকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে ভাবতে হবে এবং সম্প্রসারণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে পুরো শহরব্যাপী একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনায় যেতে হবে।

একটি নির্দিষ্ট ওয়ার্ড বা একটি নির্দিষ্ট এলাকা ভিত্তিক করলেন বাকি এলাকাগুলোতে হলো না তাহলে ফলপ্রসূ হবে না এবং এক্ষেত্রে আমরা সবসময় খুব চমৎকার একটা উদাহরণ দিই, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজশাহীতে যে কাজগুলো করেছেন।

এইখানে বিষয়টা হচ্ছে অন্য শহরগুলোর ক্ষেত্রে সবসময়ই ভাবি যে রাস্তা চওড়াটা হচ্ছে একটা উন্নয়নের আসলে ইনডিকেটর। আর রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চিন্তা করেছে, না, রাস্তা প্রসারিত করার চেয়ে আমি যদি ফুটপাতকে প্রসারিত করি এবং ফুটপাতে যদি আমি পরিচ্ছন্ন এবং চলাচলের জায়গা রাখি হাঁটার তাহলে আমার যানজট অনেক কম হবে। মানুষজন এক কিলোমিটার দূরত্বেও হেঁটে যাবে। আরেকটা বড় বিষয় হচ্ছে, আমরা শুধুমাত্র যানবাহনের কথা চিন্তা করছি কিন্তু সাইকেল ব্যবহার করব এই লেইনটার কথা চিন্তা করি না।

আমার হাতে যদি একটি সাইকেল থাকে আমি মুরাদপুর থেকে কিন্তু ওয়াসার মোড় পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই যেতে পারব। আমি ভাবব না যে আমাকে রিকশা, টেম্পু বা সিএনজির জন্য অপেক্ষা করতে হবে। একই সাথে কয়েকটা মানুষ চললে ওইটা আরও রিস্কের মধ্যে পড়ে যায়। সবাই বিরক্ত হয়। আমরা বারবারই বলি যে, বাইসাইকেল লেইন আলাদা করা উচিত। যেমন আপনি রাজশাহীতে গেলে দেখবেন কিছু কিছু জায়গায় তারা আঠারো থেকে বিশ ফিট চওড়া ফুটপাত রেখেছে শুধু হাঁটার জন্যই। এবং আমরা যে তাদেরকে গ্রিন সিটি বলেছি কী কারণে? কারণ, তারা ওই ফুটপাতের পাশে সারা বছরের সাথে মিল রেখে তিন-চার রকমের গাছ লাগিয়েছে যাতে ওই রাস্তার ওপরে সারা বছরই সিজনাল হিসেবে কিছু না কিছু গাছে ফুল ফুটবে। রাজশাহী কিন্তু একদম প্লেন ল্যান্ডের ওপর একটা শহর। সেখানে আমাদের চট্টগ্রামের আসলে ভূ-বৈচিত্র্যগত বৈশিষ্ট্য আরও অনেক বেশি ছিল, সুন্দর ছিল।

আমরা আসলে সেই প্ল্যানের মধ্যে তার একটা রিফ্লেকশান দেখতে চাই যে, চট্টগ্রাম মহানগরী যে আসলে সমুদ্র, পাহাড়, খাল, বন্দর নিয়ে একটা শহর। তার রিফ্লেকশান যেন এখানে হতে পারে। আমাদের পরিকল্পনাটা সে মাফিক আনতে হবে। আমাদের পরিকল্পনা খুব তথাকথিত ফ্লাইওভার তৈরি করা, ওভারব্রিজ তৈরি করা। আপনি হয়তোবা একটা ওভারব্রিজ করে দিলেন কিন্তু কেউ ওই ওভারব্রিজে উঠবে না। কারণ ওভারব্রিজের আমাকে উঠতে হলে আমার সাথে যদি একজন বয়স্ক মানুষ থাকেন তার পক্ষে সম্ভব না।

এবং এই কারণে কিন্তু আমরা অনেক সময় একটা শব্দ ব্যবহার করি ঢাকা নগরের ক্ষেত্রে, যে ঢাকা নগরী হচ্ছে শুধুমাত্র সবল পুরুষের শহর। শব্দটা কেন বললাম? আমি যদি সবল পুরুষ না হই, আমার বয়স যদি সিক্সটি হয়ে যায়, আমার পক্ষে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে গেলে ধাক্কা দিয়ে আমাকে কেউ ফেলে দেয় । আমার পক্ষে ওভারব্রিজে ওঠা সম্ভব হয় না। তাহলে আমাদের এই শহরকে আসলে সর্বজনীন এবং সকল বয়সী মানুষের জন্য উপযোগী করতে হলে সেই জায়গাটাকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সেই লক্ষ্যটা অবশ্যই কঠিন লক্ষ্য। কিন্তু তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করলে সেটা আসলে অসাধ্য নয়। হয়তোবা সময় সাপেক্ষ বিষয় আরো বিশ বছর লাগতে পারে। কিন্তু আমাদের একটা অভীষ্ট লক্ষ্য থাকতে হবে।

আমি আরেকটা বিষয় উল্লেখ করি। আমাদের একটা দুর্ভাগ্য কি জানেন? আমরা আসলে অডিটিং বিষয়টাকে ইন সাম এক্সটেন্ডে মনে করি যে, এটা শুধুমাত্র কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কত টাকা আয় করেছেন, আর টেন্ডার প্রক্রিয়া সঠিক হয়েছে কিনা, এগুলো সরকারের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট দপ্তর করে। কিন্তু আমি একটা সবসময় একটা শব্দ বলি যে মাস্টারপ্ল্যানেরও একটা অডিট হওয়া উচিত।

কেন বলি কথাটা? এই যে চিটাগাং মাস্টারপ্ল্যান তেত্রিশ কোটি টাকা জনগণের ট্যাক্সের টাকা ব্যয় করে একটা ডকুমেন্ট তৈরি করা হলো। আমি মনে করি, পাঁচ বছর পর পর তার একটা অডিট হওয়া উচিত। যে তেত্রিশ কোটি টাকা খরচ করে আপনি যে প্ল্যানটা তৈরি করেছেন সেই প্ল্যানের আপনি বাস্তবায়ন করেছেন আসলে কত পার্সেন্ট? যদি না করে থাকেন তাহলে এই তেত্রিশ কোটি টাকা রাষ্ট্রের কেন অপচয় করা হলো? সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড যাদেরই হাতে দায়িত্বে আছে তারা কতটুকু বাস্তবায়ন করেছে।

যদি না করে থাকে তাহলে এটাকে জবাবদিহির আন্ডারে আনা উচিত। না হলে এই একটা কাগজের ডকুমেন্ট তৈরি করার পেছনে তেত্রিশ কোটি টাকা ব্যয় করে রাষ্ট্রের অপচয় বলে আমি মনে করি। এতে আসলেই আমাদের জবাবদিহিতা বাড়বে। সেই কাগজের কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে পাঁচ বছরে জানান, দশ বছরে কত? সেটা কি আশাব্যঞ্জক?

যদি আশাব্যঞ্জক হয় অবশ্যই সেটাকে অ্যাপ্রিসিয়েট করব আমরা। আর যদি না হয়ে থাকে তাহলে তার কারণ কাউকে না কাউকে জবাবদিহিতার মধ্যে অবশ্যই আসা উচিত। আসতে হবে। ঢাকা শহরে ১৯০৭ সালে প্রথম স্যার প্যাট্রিক রিড ঢাকা নগরীর জন্য একটা মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে, একশ বছর আগে। চিটাগাংয়ের ক্ষেত্রে একষট্টি সালে চিটাগাংয়ের একটি মাস্টার প্ল্যান হয়েছে। সেই মাস্টারপ্ল্যানের কপি কিন্তু এখন আমাদের হাতে আছে। তাহলে সেই মাস্টার প্ল্যান কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে?

পঁচানব্বই সাল থেকে আবার শুরু দুই হাজার পাঁচ সালে শুরু করে একটি মাস্টার প্ল্যান হলো। দুই হাজার পঁচিশ সালে আপনি আবার তেত্রিশ কোটি টাকা খরচ করে আরেকটি মাস্টার প্ল্যান করছেন। তাহলে সেটা কেন করব? জবাবদিহি থাকতে হবে।

আপনাকে একটা ছোট্ট তথ্য দিয়ে রাখি। দুই হাজার পাঁচে যখন ড্রেনের মাস্টার প্ল্যান করা হয় ওইখানে চারটা নতুন খাল করার কথা স্পষ্টভাবে কোন দিক থেকে অ্যালাইনমেন্ট হবে এবং ওই মুহূর্তে ওই খালটা করতে কয় টাকা খরচ হবে সেটা উল্লেখ করা ছিল। ওই সময়ে আমরা ওই চারটা খাল না করার খেসারত দিচ্ছি এখন এসে।

এখন সেই খালের জায়গায় আমরা দেখছি বাড়ি হয়ে গেছে। সেটা অধিগ্রহণ করতে গেলে তার এটলিস্ট একশ গুণ আমাদের বেশি খরচ হচ্ছে। তাহলে ওই মাস্টারপ্ল্যানে যখন ওই কথাগুলো বলা ছিল সেটাকে কেন আমরা ইমপ্লিমেন্টেশনের নিলাম না?

                                     সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: নিজাম সিদ্দিকী

Ad image
শিশু বিশেষজ্ঞ মনজুর মোর্শেদ আর নেই
অনুমোদন মেলেনি, মেলা চালাতে এবার ‘মিনতি’
গ্রেপ্তার মৎস্যজীবী লীগ নেতা
কর্ণফুলীতে মৎস্যজীবী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
শামসুর রাহমানের ‘কালো মেয়ের জন্য পঙ্ক্তিমালা’
অ্যান কারসন: সাহিত্যের সীমানা ভাঙা এক নিরীক্ষাধর্মী লেখক
নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস।
প্রথম বিয়ের কথা ফাঁস, দ্বিতীয় স্ত্রীকে খুন করে খালে ভাসিয়ে দেন স্বামী
নিখোঁজ তিন স্কুলছাত্রী এসেছিল গৃহপরিচারিকার কাজে
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ৫ জন।
সাবেক এএসপির বাড়িতে ডাকাতি/ পেনশনের টাকার খবর ছিল ডাকাতদের কাছে
ডাক-রেল হয়ে চট্টগ্রামে আসছিল নিষিদ্ধ পণ্য
সতর্কতায় কাজ হয়নি, ৫০ লাখ টাকা জরিমানার মুখে আল হিদায়াহ ও উৎসব

আর্কাইভ

আরও পড়ুন

সাত উপজেলায় নগরের পরিধি

আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে আমাদের চট্টগ্রাম

সিডিএ-র বহুকেন্দ্রিক নগর পরিকল্পনা

কর্ণফুলী ও হালদায় ৪০ কোটি লিটার পয়ো-বর্জ্য মিশছে প্রতিদিন

সুপ্রভাত বাংলাদেশ
সুপ্রভাত বাংলাদেশ

সম্পাদক : রুশো মাহমুদ  |  প্রকাশক : মোহাম্মদ ওমর ফারুক

  • বিজনেস
  • বন্দর ও বাণিজ্য
  • মহানগর
  • বৃহত্তর চট্টগ্রাম
  • স্বদেশ
  • অপরাধ
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • খেলা
  • বিশ্ব
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • লাইফস্টাইল
  • রাজনীতি
  • ইপেপার
  • বিশেষ সংখ্যা
  • নারী
  • বিজ্ঞাপন
  • সার্কুলেশন
  • নীতিমালা
  • যোগাযোগ
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: কর্ণফুলী টাওয়ার, ই-১, পঞ্চম তলা, ৬৩ এস এস খালেদ রোড, চট্টগ্রাম ৪০০০। ফোন: 02333363044-45   E-mail : [email protected]
স্বত্ব © ২০১০-২০২৬ সুপ্রভাত বাংলাদেশ
Site Powered by DigitB
Welcome Back!

Sign in to your account

ইউজার নেইম অথবা ইমেইল ঠিকানা
পাসওয়ার্ড

পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?