চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছিল। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটির গতিপ্রকৃতি দেখেও যে ধরনের আগাম সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল, তা দৃশ্যমান হয়নি। মার্চ মাস থেকে সংক্রমণ যখন জ্যামিতিক হারে বাড়তে শুরু করে, তখনও চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারিতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গিয়েছিল। ফলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি হাজার ছাড়িয়েছে মৃত্যুর মিছিল, যার একটি বড় অংশই নিষ্পাপ শিশু। সাবেক আইইডিসিআর পরিচালক মাহমুদুর রহমানের ভাষায়, দেশে আগে কখনো এক মৌসুমে হামে এত সংক্রমণ ও মৃত্যুর নজির দেখা যায়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এপ্রিল ও মে মাসজুড়ে গণটিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। স্বাস্থ্য খাতের সমন্বয়হীনতা ও প্রচারণার অভাবে প্রায় ৪০ লাখ শিশু এই প্রতিষেধক টিকার আওতা থেকে বাদ পড়ে গেছে। এই বিশালসংখ্যক শিশুকে সুরক্ষাবলয়ের বাইরে রেখে কোনো সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ করা যে অসম্ভব, বর্তমান মৃত্যুহারই তার প্রমাণ। সন্তানহারা বাবা-মায়ের হাহাকার ও ‘বাধ্য হয়ে বেঁচে থাকার’ যে করুণ অভিজ্ঞতা গণমাধ্যমে ফুটে উঠছে, তা শুধু পারিবারিক বিয়োগব্যথা নয়; বরং আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের দুর্বলতাকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।
হামের মতো সম্পূর্ণ টিকাদানযোগ্য একটি রোগে এক বছরে হাজারেরও বেশি প্রাণহানি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না। এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কর্মসূচির বাকি থাকা শিশুদের শনাক্ত করে তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ পর্যবেক্ষণ টিম গঠন, চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। অবহেলা ও সময়ক্ষেপণের দরুন যে ক্ষতি হয়ে গেছে, তা অপূরণীয়। তবে আর একটি শিশুও যেন প্রতিষেধকের অভাবে প্রাণ না হারায়, সরকারকে এখনই তা নিশ্চিত করতে হবে।
হামে সহস্র শিশুমৃত্যু : এর দায় নেবে কে

