সুপ্রভাত ডেস্ক>> চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মাদক ব্যবসার অভিযোগে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান এই আদেশ দেন। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হাজীগঞ্জ সার্কেলকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বলাখাল বাজারে একটি মুদি দোকানে বসে থাকা এক প্রবীণ ব্যক্তিকে কয়েকজন তরুণ মাদক ব্যবসার অভিযোগে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ভিডিওতে এক তরুণকে ইয়াবা সদৃশ বস্তু দেখিয়ে মোবাইল ফোনে পুলিশকে খবর দিতে দেখা যায়। ভিডিওর কথোপকথনের বরাতে আদেশে বলা হয়েছে, মারধরের শিকার ব্যক্তি হাজীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নিজাম কাজী।
আদালতের আদেশে বলা হয়, ভিডিওতে ঘটনাস্থলে পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বা অন্য কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে কোনো ব্যক্তিকে ব্যক্তিগতভাবে আটক বা তল্লাশি করার ক্ষমতা সাধারণ ব্যক্তির নেই বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।
ভিডিও পর্যালোচনায় কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে দোকানে প্রবেশ এবং ওই ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগের কথা উল্লেখ করে আদেশে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩২৩ ও ৫০৬ ধারার সম্ভাব্য অপরাধের কথা বলা হয়েছে।
ঘটনার স্থান ও সময়, হামলায় জড়িতদের পরিচয় ও ঠিকানা এবং সাক্ষীদের তালিকাসহ প্রতিবেদন দিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, কথিত মাদক উদ্ধারের অভিযোগে ওই প্রবীণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানাতে হাজীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে কিশোরগ্যাং ও মব কালচারের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।
আদেশের অনুলিপি চাঁদপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হাজীগঞ্জ সার্কেল এবং হাজীগঞ্জ থানার ওসির কাছে পাঠানো হয়েছে।

