সুপ্রভাত ডেস্ক>> চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে রেলওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েছেন ম্যাজিস্ট্রেট ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা। প্রায় ৩০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসা ৩০০টির বেশি পরিবার উচ্ছেদ হলে কোথায় যাবে—এমন শঙ্কা জানিয়ে অভিযান বন্ধ করে সময় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার কুমিরা জোড়ামতলা এলাকায় কেওয়াইসিআর ইন্ডাস্ট্রির পাশে রেলওয়ের জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে যান কর্মকর্তারা। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হয়ে অভিযানে বাধা দেন এবং বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে উচ্ছেদ বন্ধের দাবি জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বসবাস করায় হঠাৎ উচ্ছেদ হলে পরিবার নিয়ে তাদের বিপাকে পড়তে হবে। অন্য কোথাও গিয়ে থাকার মতো পরিস্থিতি নেই জানিয়ে তারা বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সময় চেয়েছেন।
স্থানীয় সাংবাদিকদের ইফতেখার হাসান জুয়েল বলেন, “এটা রেলওয়ের জায়গা, কিন্তু এখানে যারা বসবাস করে তারা সবাই ভূমিহীন ও অত্যন্ত দরিদ্র। এই মুহূর্তে তাদের উচ্ছেদ করার মতো পরিস্থিতি নেই। এক দিন পরেই যে তারা অন্য কোথাও গিয়ে থাকবে, সেই পরিস্থিতিও তাদের নেই। আমাদের সময় দিতে হবে।
“রেলওয়ে কিংবা বাংলাদেশ সরকার যদি এই জায়গা নিতে চায়, তাহলে কেন নিতে চায়, সেটা স্পষ্ট করে বলতে হবে। কমার্শিয়াল লিজ বন্ধ—আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ও এটা স্পষ্ট বলেছেন। এখানে কর্মকর্তারা বলছেন, জায়গাটি নাকি ইতোমধ্যে কেওয়াইসি কিনে নিয়েছে।”
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কুমিরা পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ড এলাকায় রেলভূমি দখল করে টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে বসবাসের বিষয়টি সরেজমিনে পাওয়া গেছে। এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে রেলভূমি খালি করতে দখলদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, রেলভূমি দখলমুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের ১৫ কার্যদিবসের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা নিজেরা স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।
রেলওয়ের নোটিশ অনুযায়ী, কুমিরা স্টেশন এলাকার ঢাকা-চট্টগ্রাম মেইন লাইনের ২২/৩ থেকে ২২/৫ কিলোমিটারের মধ্যবর্তী অংশের পশ্চিম পাশে পুরাতন রেলওয়ে সেতু ইয়ার্ড এলাকায় এসব স্থাপনা রয়েছে। সেখানে অবৈধভাবে টিনশেড ও ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে লোকজন বসবাস করছেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, এর আগে একাধিকবার স্থাপনা সরিয়ে রেলভূমি খালি করার জন্য বলা হলেও তা করা হয়নি। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্থাপনা না সরানোয় উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে রেলওয়ে।
তবে উচ্ছেদের আগে সময় দেওয়ার দাবিতে অনড় স্থানীয়রা। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের বসতভিটা থেকে সরিয়ে দিলে পরিবারগুলো কোথায় গিয়ে থাকবে, সে বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে তারা আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেন।

