‘যুক্তির আলো ছড়িয়ে পড়ুক চট্টগ্রামের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দৃষ্টি চট্টগ্রামের ২০তম স্কুল বিতর্ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মশালায় চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২১৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
এবারের কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল চট্টগ্রামের নতুন ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্কচর্চার সূচনা করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিনির্ভর চিন্তা, উপস্থাপনা দক্ষতা ও বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।কর্মশালা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার সর্দার নওশাদ ইমতিয়াজ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম এবং দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সিনিয়র রিপোর্টার ইমরান এমি। দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কর্মশালার সমন্বয়কারী মুজিবুল হক ও সহ-সমন্বয়কারী জুনায়েদ আসাদ।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবৃত্তি প্রশিক্ষক ফারুক তাহের, বিতার্কিক ও শিক্ষক রাইহানুল ইসলাম, বিতার্কিক ও আবৃত্তিকার বনকুসুম বড়ুয়া নূপুর এবং বিতার্কিক আসিফ।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও মনন বিকাশে বিতর্কের গুরুত্ব অপরিসীম। আজকের এই বিতর্ক কর্মশালায় এসে তাঁর নিজের স্কুলজীবনের কথা মনে পড়ছে।
তিনি বলেন, “প্রায় ১৯৮০-৮১ সালের দিকে আমি গ্রামের একটি স্কুলে পড়তাম। তখন অবকাঠামোগত নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। বৃষ্টি বেশি হলে স্কুল বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু প্রতি বৃহস্পতিবার আমাদের স্কুলে বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হতো। শিক্ষকরা একটি বিষয় নির্ধারণ করে দিতেন। কেউ পক্ষে এবং কেউ বিপক্ষে বক্তব্য দিতেন। আমিও নিয়মিত এসব বিতর্কে অংশ নিতাম। সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে কথা বলা ও যুক্তি উপস্থাপনে আমাকে অনেক সহায়তা করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিতর্কের মাধ্যমে তাদের মেধা, যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হবে। ভবিষ্যতে তারা সরকারি চাকরি, ব্যবসা কিংবা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হলেও সুন্দরভাবে কথা বলা ও যুক্তির মাধ্যমে মত প্রকাশের সক্ষমতা কাজে লাগবে।”
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, “শুধু মহানগরীতে নয়, চট্টগ্রামের প্রতিটি উপজেলায় এ ধরনের বিতর্ক কর্মশালা ও প্রতিযোগিতা ছড়িয়ে দিতে হবে। চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।”
তিনি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতিও উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে পড়াশোনা, বিতর্ক, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত করা জরুরি।
শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে যাচ্ছে কি না এবং ক্লাসের বাইরে তারা কোথায় যাচ্ছে—সেদিকেও নজর রাখতে হবে। একটি সচেতন, মেধাবী ও দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দৃষ্টি চট্টগ্রাম চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিনির্ভর চিন্তা, মুক্তবুদ্ধি ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু বিতর্ক শেখানো নয়, বরং শিক্ষার্থীদের যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে, নিজের মতামত সুন্দরভাবে প্রকাশ করতে এবং ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখানো।”
তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিতর্কের চর্চা ছড়িয়ে দিতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে চাই। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে এখনো বিতর্কচর্চা শুরু হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করার মাধ্যমে একটি বৃহত্তর বিতর্ক আন্দোলন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২১৯ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। আমরা আশা করি, এই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়ে বিতর্কচর্চার নতুন পরিবেশ তৈরি করবে এবং তাদের সহপাঠীদেরও যুক্তির চর্চায় উৎসাহিত করবে।”
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন।

