নিজস্ব প্রতিবেদক >>
মোটরসাইকেল চুরির সন্দেহকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে রাউজানে মোহাম্মদ করিমকে কৌশলে ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট এলাকায় সিএনজিযোগে আসা একদল ব্যক্তি করিমকে ঘিরে ধরে প্রথমে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এ ঘটনায় পারভেজ করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। করিম চুরির সঙ্গে জড়িত নন বলে জানালে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। পরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় পারভেজ তার সোর্সের মাধ্যমে করিমকে কেরানিহাট এলাকায় ডেকে আনেন। সেখানে সহযোগীদের নিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে জানতে পারে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় সিএমপির চাঁদগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মোঃ জাবেদ (২৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মোঃ সেলিম (৫০) ও মোঃ আলামিন (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত চারজনই রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে সেলিমের বিরুদ্ধে একটি চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে অভিযান চালায় ডিবি। স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সেখানে সিমেন্টের তৈরি গামলার মধ্যে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় একটি দেশীয় তৈরি লোহার এলজি, একটি এয়ার গান, ১২ বোরের দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের সিডিএমএস ও থানা রেকর্ড যাচাই করে দেখা গেছে, মামলার পলাতক আসামি মোঃ পারভেজ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে রাউজানসহ বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, নারী ও শিশু নির্যাতন ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্র আইনের মামলাও রয়েছে।
পলাতক পারভেজসহ মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

