নিজস্ব প্রতিবেদক>> ভাতা বা আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল না রেখে চট্টগ্রাম নগরীর দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে আয়মুখী কাজে যুক্ত করতে চায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
এ জন্য তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আয় করার উপকরণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) চসিকের সম্মেলন কক্ষে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা সহায়তা প্রকল্পের আওতায় সেলাই মেশিন, কম্পিউটার ও ফুড কার্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রকল্পের আওতায় ৪৮টি সেলাই মেশিন, ৪১টি কম্পিউটার ও ৬৮টি ফুড কার্ট বিতরণ করা হয়। অর্থাৎ মোট ১৫৭টি উপকরণ দেওয়া হয়েছে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে।
শাহাদাত বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা দিলে দরিদ্র মানুষের জীবনমান স্থায়ীভাবে বদলানো কঠিন। প্রশিক্ষণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া গেলে তারা নিজেরাই আয় করতে পারবেন এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পারবেন।
সেলাই মেশিন ও কম্পিউটার পাওয়া তরুণ-তরুণীরা নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি। আর ফুড কার্টের মাধ্যমে ছোট ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে।
চসিকের এই প্রকল্পে আয় করার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির বিষয়টিও রাখা হয়েছে। এর আওতায় ৮০৪ জন দরিদ্র ও অতিদরিদ্র গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা পেয়েছেন পুষ্টি সহায়তা। ১৯৩ জন দরিদ্র কিশোরীকে দেওয়া হয়েছে হাইজিন কিট।
সব মিলিয়ে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জীবিকা সহায়তার আওতায় ৯৯৭ জন উপকারভোগী এই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।
নগরীর দরিদ্র মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রকল্পের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন মেয়র। চসিকের সিডিসি এলাকাগুলোর যেসব স্থানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, সেখানে ৪৫টি সোলার লাইট স্থাপন করা হবে।
শাহাদাত বলেন, নগর উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা, ভবন বা অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ বোঝায় না। মানুষের জীবনমান, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও নগর উন্নয়নের অংশ।
চট্টগ্রাম নগরীর দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
চীন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (CIDCA) অর্থায়নে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয় এবং ইউএনডিপির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

