ছোট্ট বন্ধু ওয়াসিফা বৃষ্টি নিয়ে কী সুন্দর এঁকেছে আর লিখেছে পড়ে দেখো
টুপুর বৃষ্টি ভীষণ ভালোবাসে। আকাশ কালো করে যখন টুপটাপ বৃষ্টি নামে, তখন জানালার পাশে বসে বৃষ্টির শব্দ শুনতে তার খুব ভালো লাগে। বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে তার মনে ভেসে ওঠে সবুজ গ্রামের ছবি- দুই পাশে গাছপালা, কাদামাটির মেঠো পথ, পুকুরের জল আর দূরে তাল-নারকেল গাছের সারি।
কিন্তু টুপুর থাকে শহরে। চারদিকে শুধু উঁচু উঁচু দালান, গাড়ির শব্দ আর ব্যস্ত মানুষ। তাই তার মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, “গ্রামের মতো এত সুন্দর জায়গা কি আমি কখনো পাব?”
একদিন ভোরে অদ্ভুত এক স্বপ্ন দেখল টুপুর।
সে দেখল, নিজেকে একটি বৃষ্টিভেজা গ্রামের মেঠো পথে দাঁড়িয়ে আছে। চারপাশে টলমলে সবুজ। মাথার ওপর মেঘলা আকাশ থেকে টিপ টিপ করে বৃষ্টি নামছে। রাস্তার ওপর জমে থাকা পানিতে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে ছোটো ছোটো ঢেউ উঠছে।
টুপুরের পাশে একটি সাইকেল!
সে আনন্দে সাইকেলে উঠে পড়ল। তারপর বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে ছুটতে লাগল। কখনো ধীরে, কখনো জোরে। তার চুল বাতাসে উড়ছে, মুখে লেগে আছে বৃষ্টির ফোঁটা। মনে হচ্ছে, পুরো গ্রামটাই যেন তার নিজের!
একটু দূরেই দেখা গেল কদমগাছের বন। বৃষ্টিতে ভিজে কদমফুলের মিষ্টি গন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। পথের দু’পাশে ফুটে আছে গন্ধরাজ, বেলি, কামিনী আর দোলনচাঁপা। বাতাসে তাদের মিষ্টি সুবাস।
টুপুর চোখ বন্ধ করে গভীর করে শ্বাস নিল।
-“আহা! এমন গন্ধ তো শহরে কোথাও পাই না!”
সামনে একটি ছোট্ট গ্রামের বাড়ি। বাড়ির উঠানে ধোঁয়া উঠছে। মাটির চুলায় রান্না হচ্ছে নানা রকম খাবার। টুপুর দৌড়ে গিয়ে দেখল- গরম ভাত, ডাল, শাকভাজি, ভর্তা আর আরও কত কী!
খাবার দেখে টুপুরের চোখ চকচক করে উঠল।
সে মাকে বলল, “মা, আমি আজ এখানেই থাকব!”
কিন্তু হঠাৎ কোথা থেকে যেন মায়ের কণ্ঠ ভেসে এল- “টুপুর… টুপুর… ওঠো মা। স্কুলের সময় হয়ে যাচ্ছে!”
টুপুর শুনেও যেন শুনতে পেল না। সে আবার সাইকেল নিয়ে ছুটতে চাইল।
কিন্তু মায়ের ডাক এবার আরও কাছে এল। -“টুপুর, ওঠো!”
হঠাৎ টুপুরের ঘুম ভেঙে গেল।
চোখ মেলে সে দেখল- সে তার নিজের বিছানায় শুয়ে আছে। জানালার বাইরে শহরের ব্যস্ত সকাল। কোথাও কোনো মেঠো পথ নেই, নেই কদমবন, নেই গ্রামের বাড়ি!
টুপুর বুঝতে পারল, এতক্ষণ সে স্বপ্ন দেখছিল।
স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে হতে তার মনটা একটু খারাপ হয়ে গেল। তবে সেই স্বপ্নের গ্রামের কথা সে একটুও ভুলল না।
সেদিন রাতে ডিনার করতে বসে টুপুর মাকে বলল, -“মা, পূজার ছুটিতে আমরা এবার গ্রামে যাব? আমি গ্রামের মেঠো পথে সাইকেল চালাব, বৃষ্টিতে ভিজব, কদমফুল দেখব আর গ্রামের বাড়ির রান্না খাব!”
মা মুচকি হেসে বললেন, -“ঠিক আছে, মা। এবার পূজার ছুটিতে তোমাকে গ্রামে নিয়ে যাব।”
মায়ের কথা শুনে টুপুরের মুখ আনন্দে ঝলমল করে উঠল।
তার মনে হলো, কিছু স্বপ্ন ঘুমের মধ্যে দেখা যায়, আর কিছু স্বপ্ন সত্যি করে তোলা যায়।
সেদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় টুপুরের মনে আর কোনো দুঃখ ছিল না। কারণ এবার তার বৃষ্টিভেজা গ্রামের স্বপ্নটি শুধু স্বপ্ন হয়ে থাকবে না- একদিন সত্যিই সে সাইকেল নিয়ে ছুটবে সেই সবুজ মেঠো পথে। আর দূরে কোথাও হয়তো কদমফুলের গন্ধে ভরে থাকবে বর্ষার বাতাস।

ওয়াসিফা আফরিন
পঞ্চম শ্রেণি, শাখা: ক
চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ

