নিজস্ব প্রতিনিধি, উখিয়া>> কক্সবাজারের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের ক্যাম্প সমন্বয়কদের নিয়ে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছে রোহিঙ্গা জেন-জি আন্দোলন।
শুক্রবারের ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ঐক্য, ন্যায়বিচার ও প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন ক্যাম্পের তরুণ সমন্বয়কেরা নিজেদের এলাকার পরিস্থিতি, অভিজ্ঞতা ও উদ্বেগ তুলে ধরেন।
বৈঠকে তরুণদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের অভিন্ন স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রোহিঙ্গা জেন-জির ভাষ্য, এটি কোনো কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন বা এনজিও নয়; শরণার্থী সম্প্রদায়ের ভেতর থেকে গড়ে ওঠা একটি বিকেন্দ্রীভূত তরুণদের আন্দোলন। রোহিঙ্গাদের মধ্যে দুর্নীতি, সহিংসতা, অবিচার ও অপরাধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি অধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে কাজ করে তারা।
বৈঠকে রোহিঙ্গা কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন, যুব সংগঠন, কমিউনিটি নেতা, প্রবাসী রোহিঙ্গা কর্মীসহ বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে মত ও স্বার্থের পার্থক্য থাকলেও অভিন্ন স্বার্থের জায়গায় সহযোগিতা প্রয়োজন। বিভাজন অব্যাহত থাকলে সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংকটের সমাধানে এগোনো কঠিন হবে।
আলোচনায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পক্ষের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।
রোহিঙ্গা জেন-জির মুখপাত্র সাহত জিয়া হিরো বলেন, “আমরা আমাদের দায়িত্ব পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বারবার হস্তান্তর করে যেতে পারি না। আমরা যদি দায়িত্ব না নিয়ে শুধু অপেক্ষা করতে থাকি, তাহলে একই অসমাপ্ত সংগ্রাম আমাদের সন্তানদের জন্য রেখে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।”
বৈঠকে রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বাংলাদেশে শরণার্থীশিবিরে বেড়ে ওঠা অনেক শিশু কখনো আরাকান দেখেনি। মা-বাবা ও দাদা-দাদির কাছ থেকে শোনা গল্পের মাধ্যমেই তারা নিজেদের পূর্বপুরুষের ভূমি সম্পর্কে জানে।
তাদের মতে, রোহিঙ্গা পরিচয়, ইতিহাস ও অধিকার রক্ষায় বর্তমান প্রজন্মকেই দায়িত্ব নিতে হবে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। প্রায় নয় বছর ধরে কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরগুলোতে বসবাস করছেন তারা। নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতির অপেক্ষায় রয়েছেন রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গা জেন-জির নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতির মধ্যে তরুণদের নিজেদের সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভূমিকা রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
ক্যাম্প সমন্বয়কদের এই প্রথম বৈঠককে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অংশগ্রহণকারীরা।
রোহিঙ্গা জেন-জির নেতারা বলেন, দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি তরুণ প্রজন্মের সামনে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন তৈরি করেছে। নিজেদের সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
ক্যাম্প সমন্বয়কদের প্রথম এই বৈঠককে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অংশগ্রহণকারীরা।

