নিজস্ব প্রতিবেদক »
চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করার কড়া নির্দেশ দিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক বেনুয়ারা বেগম বলেছেন,‘পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ করলে পরে কোনো ধরনের সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না।’
আজ বৃহস্পতিবার কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক বেনুয়ারা বেগম নতুন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘মহসিন কলেজ শুধু চট্টগ্রামে নয়, সারা দেশের অন্যতম সেরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে পড়ার সুযোগ পাওয়া গৌরবের বিষয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কলেজে নিয়মিত ক্লাস করতে হবে। শ্রেণিকক্ষে সিসি ক্যামেরা রয়েছে, তাই সবাইকে ক্লাসে মনোযোগী থাকতে হবে।’
নবীনদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘স্কুলজীবনের গণ্ডি পেরিয়ে তোমরা আজ কলেজজীবনে পদার্পণ করেছ। এটি জীবনের ভিত্তি গড়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। মোবাইল বা ইন্টারনেটের নেতিবাচক দিক এড়িয়ে ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ সময় তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সন্তানরা যেন নিয়মিত কলেজে আসে এবং পড়াশোনা করে, সেটি তাঁদেরও তদারকি করতে হবে।’
কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই নবীনবরণ অনুষ্ঠান ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খোলা আকাশের নিচে গাছপালার ছায়ায় লাল, হলুদ, সবুজ, বেগুনিসহ নানা রঙের কাপড়ের দৃষ্টিনন্দন শামিয়ানা টাঙিয়ে অতিথিদের বসার ও মূল মঞ্চের ব্যবস্থা করা হয়। সারি সারি চেয়ারে বসে বিপুলসংখ্যক নবীন শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা এই আয়োজনে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক সারাহ পারীন নবীনদের ‘পাখির ছানা’র সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা হলে পাখির ছানার মতো, যারা মাত্র উড়তে শিখেছে। এই চলার পথে তোমরা পড়ে যাবে, আবার উড়তে শিখবে। তাদের পথচলাকে মসৃণ করতে অভিভাবকদের সতর্ক থেকে সাহায্য করতে হবে।’ অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা কলেজে খুব অল্প সময় থাকে, বাকি সময়ের দেখভাল অভিভাবকদেরই করতে হবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের তাগিদ দিয়ে উপাধ্যক্ষ বলেন, ‘এগুলো উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি অর্জনে সহায়তা করবে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে কলেজ প্রশাসন পাশে থাকবে। কোনো শিক্ষক ক্লাসে না গেলে শিক্ষার্থীরা ১০ মিনিট অপেক্ষা করবে। এরপরও ক্লাস না হলে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করতে হবে।’
একাদশ বিজ্ঞান ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম কিবরিয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি বলেন, কলেজের প্রথম দিনের স্মৃতিকে হৃদয়ে ধারণ করতে এই বর্ণিল আয়োজন। শিক্ষা শেষে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্ত থেকে কলেজের মানোন্নয়নে অবদান রাখার জন্য তিনি নবীনদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মানবিক ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক ও অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাকিলা রসুল এবং ব্যবসায় শিক্ষা ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক ও হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুদুর রহমান। এ ছাড়া প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বাংলা বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং নবীনদের মধ্য থেকে তিন বিভাগের চারজন শিক্ষার্থী নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক পরিষদ
সম্পাদক ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুরুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা আক্তার ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. কামরুজ্জামান।
দুই পর্বে বিভক্ত এই আয়োজনের প্রথম অংশে ছিল আলোচনা সভা। দ্বিতীয় পর্বে কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

