বেহেস্তে বিচরণ
উৎপলকান্তি বড়ুয়া
যাঁর কথা
বলি আজ তাঁর নেই কোনো তুল
প্রখ্যাত ছড়াকার ইসলাম আমীরুল।
ছন্দের
বাগানে সে ফোটা সুঘ্রাণ ফুল,
ভাবনায় আধুনিক ইসলাম আমীরুল।
তাঁর ছড়া-
কথাকলি খুকুটার কানে দুল,
পড়া-পাঠ ষোলোআনা ইসলাম আমীরুল।
মন বুকে
ঢেউ ধারা আনন্দ দুই কূল,
সময়ের গতি তিনি ইসলাম আমীরুল।
গদ্য পদ্য
শেষেও ছড়াটাই তাঁর মূল,
সাহসেই চলা বলা ইসলাম আমীরুল।
স্বজনের
বুকে গাঢ় ফুটিয়েই ব্যথা হুল,
বেহেস্তে বিচরণ করছে আজ আমীরুল!
তোমার জন্যে
কেশব জিপসী
তোমার মধ্যে আগুন ছিল
আগুন ছিল চক্ষে,
সাগর ছিল অতল গভীর
বিশাল হৃদয় বক্ষে।
তোমার মধ্যে স্বপ্ন ছিল
স্বপ্ন ছিল সৃষ্টির,
খুঁজে ফেরার পথিক ছিলে
এ বাঙালির কৃষ্টির।
শিশু হয়ে হেসে-খেলে
উচ্ছ্বাসে আনন্দে,
এঁকে গেছ ভুবন শিশুর
হাজার ফুলের গন্ধে।
সবকিছুকে শূন্যে ফেলে
হারিয়ে গেলে দূরে,
আমিরুল ভাই তোমার জন্যে
কাঁদছি করুণ সুরে।
সেই যাদুকর
শেলীনা আকতার খানম
ছিলো এক ছড়াকার আমীরুল
প্রাণখোলা হাসতো সে হুলস্থুল।
ফুটতো তার মুখে মুখে ছড়া-খই
পাখিরাও শুনে করতো হই চই।
প্রতিদিন ছড়া আর উপমায়
ছিল সজীবতা কত ভাবনায়
কলম খাতায় নানা ছড়া-বিন্দু
ভরতো খুশির রোজ সাগর সিন্ধু।
মন তার আনন্দে বাজিয়ে তুড়ি
ওড়াতো ছড়ার নাটাইতে ঘুড়ি
হারিয়ে গেলো সেই ছড়ার তাজ
সেই যাদুকর আহা নেইতো আজ।
চলে গেল দূরে
লিটন কুমার চৌধুরী
শূন্য করে মর্ত্য ছেড়ে
চলেই গেলে দূরে,
তোমার স্মৃতির বিষাদ বাঁশি
বাজে সুরে সুরে।
এই না সবুজ মায়ার মাঝে
নামল হঠাৎ সাঁঝ,
তুমি আছোই সবার মনে
রইলো তোমার কাজ।
কলম তোমার থামল ঠিকই
বন্ধ তো নয় গান,
তোমার সৃষ্টির মাঝে জাগে
হাজার শিশুর প্রাণ।
সব মানুষের মনের মাঝে
অমর হয়ে রবে,
শ্রদ্ধা জানাই চোখের জলে
বাঙালিরা সবে।
শোকের বাঁশি বাজে
সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার
ছড়ার সাথে বাস বসতি
ছড়ায় জীবন গড়া
ছড়া তাঁকে শিখিয়েছিলো
জীবন যুদ্ধে লড়া।
মিঠা কড়া মেজাজ নিয়ে
ছড়া গড়েন তিনি
ছড়ারা তাঁর ঝিলিক মারা
খাঁটি সোনার গিনি।
সফল ছড়া বানান তিনি
বিষয় ঘেঁটে ঘেঁটে
ছড়ার রাজা ধিরাজ তাঁকে
তকমা দিলাম সেঁটে।
ছড়া রাজ্যের সেই আমীরুল
নেই আমাদের মাঝে
হারিয়ে তাঁকে বুকের ভেতর
শোকের বাঁশি বাজে।
খ্ুঁজবো কোথায়?
জসীম মেহবুব
আর কোনোদিন টেলিফোনে
কইবে না আর “হ্যালো,
কোথায় গেল সব ছড়াকার
জসীম কোথায় গেলো?
কই উৎপল কেশব রাশেদ
যাও শুনে বোন শিমু,
তোমরা এবার ঢাকায় এলে
দারুণ চমক দিমু!”
এইভাবে আর কইবে না কেউ
কইবে না কেউ, “মিয়া,
তোমাগোরে পাইলে আমার
নাইচা ওঠে হিয়া।”
আজ তিনি নেই ছড়ার মেলায়
নেই কোনো তাঁর তুল,
খ্ুঁজবো কোথায়? কোন দুনিয়ায়?
বন্ধু আমীরুল?
প্রিয় আমীরুল
বিভাস গুহ
শিশুর মুখে ফোটে হাসি
মনে জ্বলে আলো
আমীরুলের গদ্য পদ্য
পড়তে লাগে ভালো।
তাঁর লেখাতে প্রজাপতি
ছড়ায় রূপের হাসি
সুবাস বিলায় বাগান জুড়ে
গোলাপ রাশি রাশি।
শব্দ কথার কারুকাজে
যতেœ তিলে তিলে
ছন্দে ছড়ার ফুল ফোটাতেন
মাত্রা অন্ত্যমিলে।
অসময়ে চলে গেলেন
ছেড়ে জগত মায়া
সাহিত্যেরই বাগান জুড়ে
নামল শোকের ছায়া।
আর কোনদিন ফোটাবে না
ছন্দে ছড়ারফুল
গল্প আড্ডায় থাকবে না আর
সত্যি আমীরুল।
ভালোবাসতো সে নিমফুল-জুঁই
সুবর্ণা দাশ মুনমুন
ভালোবাসতো সে নিমফুল -জুঁই
মাছরাঙা নীল,গান
ভালোবাসতো সে শিশিরের রঙ
শব্দের অভিধান।
ভালোবাসতো সে মিছিলের মুখ
ঝরা পাতাদের দিন
ভালোবাসাবাসি শব্দের হাসি
আমীরুল অমলিন।
সাদা জ্যোৎস্নায় ঘুমিয়েছে ছেলে
ঘুম কি ভাঙবে আর
ডেকে ফেরে তাঁর হাজার গল্প
শব্দেরা কবিতার।
তিনি আমীরুল
বাসুদেব খাস্তগীর
লিখেছেন অবিরত
বই তাঁর শতশত
তিনি আমীরুল
দেশ করে আলোকিত
ঝরে পড়া সুবাসিত
বাগিচার ফুল।
তাঁর বই পড়ি রোজ
আর করি কত খোঁজ
মজাদার লেখা
পড়ি আর শুধু পড়ি
যেন দেয় হাতেখড়ি
কত হয় শেখা।
অপরূপ রূপে সাজে
ছন্দের কারুকাজে
ছিল তাঁর ছড়া
শিশুতোষ লেখনীর
আমীরুল যেন বীর
ছড়া মিঠে কড়া।
আড্ডায় গিয়ে বসে
বলে কথা হাসি-রসে
প্রিয় আমীরুল
সেই তিনি পরপারে
স্মৃতি আজ কড়া নাড়ে
নেই তাঁর তুল।
গুণী আমিরুল
অপু চৌধুরী
ভোর থেকে রাত ছড়ার মাঠে
খেলতে থাকো যারা
আকাশ ছুঁয়ে দুলছে দেখো
জ্বলজ্বলে এক তারা।
এই তারারও সঙ্গে ছিল
গল্প ছড়ার গান
সবুজ পাহাড় ঝিল নদী বিল
মেঘ ধোঁয়া আসমান।
কষ্ট ছিল কান্না ছিল
ব্যথাও ছিল বুকে
মজার মজার কথাও হতো
এই তারাটার মুখে।
এই তারাই আজ স্বর্গলোকের
একলা ফোটা ফুল
মর্ত্যলোকের প্রিয় মানুষ
গুণী আমিরুল।

