সুপ্রভাত ডেস্ক>> হাইকু, লিমেরিক, ক্লেরিহিউসহ বিশ্বসাহিত্যের নানা আঙ্গিকের সৃষ্টিশীল ও উদ্ভাবনী প্রয়োগের মধ্য দিয়ে মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন বাংলা সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলে মন্তব্য করেছেন লেখক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা।
তারা বলেছেন, ছয় দশকের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় জাপানি, জার্মান ও ধ্রুপদী সাহিত্যের চর্চায় নাসির উদ্দীন যে দক্ষতা ও নৈপুণ্য দেখিয়েছেন, তা তাঁকে সাহিত্যের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রাখবে।
শুক্রবার বিকেল ৫টায় চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে মাটি মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্র আয়োজিত ‘নোঙর সাহিত্য আড্ডা’য় বক্তারা এসব কথা বলেন।
‘সাহিত্যের তেজস্বী ঘোড়সওয়ার মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন’ শিরোনামে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নোঙরের প্রকাশক আমীরুল ইসলাম। নাসির উদ্দীনের সাহিত্যচর্চায় সৃষ্টিশীলতা ও মানবিকতা নিয়ে কথামালা উপস্থাপন করেন ছড়াকার, সম্পাদক ও প্রকাশক মিজানুর রহমান শামীম।
নিবেদিত লেখা পাঠ করেন সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার। মুহাম্মদ নাসির উদ্দীনের সাহিত্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন সম্পাদক মুহাম্মদ জাফর উল্লাহ, কবি মাঈন উদ্দিন জাহেদ ও শওকত এয়াকুব।
নোঙর সম্পাদক আবু সাঈদ হাননানের সঞ্চালনায় এবং চট্টগ্রাম সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি হয়।
নোঙর সাহিত্য আড্ডার নিয়মিত লেখাপাঠ, আলোচনা ও মুক্তালোচনায় অংশ নেন সাহিত্যপ্রেমী আব্দুল হক, কবি কপিল উদ্দিন দুলাল, কাজী আল মামুন, চিন্তক রাজা রাকিব, সাংবাদিক ওয়াহিদুল ইসলাম, প্রকৌশলী নুরুল করিম মামুন ও শিল্প সহযোগী আলী হোসেন।
মুক্তালোচনায় সাহিত্য, রাজনীতি ও সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয় এবং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আগ্রাসন নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
সভাপতির বক্তব্যে ইসমাইল চৌধুরী বলেন, “আমরা মুহাম্মদ নাসির উদ্দীনের সাহিত্যচর্চা নিয়ে আড্ডার আয়োজন করে কিছুটা দায় শোধ করেছি। তবে সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন তাদের জীবদ্দশাতেই হওয়া উচিত।”
তিনি বলেন, “মুহাম্মদ নাসির উদ্দীন কোনো প্রাপ্তির আশায় নয়, সামাজিক ও নৈতিক দায় থেকে নিজের অর্থ ও সময় ব্যয় করে সাহিত্যচর্চা এবং সাহিত্যিক তৈরিতে কাজ করেছেন।”

