নিজস্ব প্রতিনিধি, পেকুয়া>> দুই যুগের অবহেলায় সড়কটি এখন যেন হারিয়েই গেছে। কোথাও ইট নেই, কোথাও কাদামাটির নিচে মিলছে না রাস্তার চিহ্ন। যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
সড়কটি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কাটাফাঁড়ি থেকে কাজিরমার্কেট পর্যন্ত বিস্তৃত। দক্ষিণ মগনামার অন্তত ১০টি পাড়ার মানুষের উপজেলা সদরে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এমন দশায় পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাটাফাঁড়ি থেকে কাজিরমার্কেট পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত। অনেক জায়গায় ইট উঠে গিয়ে নিচের মাটি বের হয়ে এসেছে। কোথাও ভাঙা ইট ও কাদায় সড়ক ঢেকে গেছে। আবার কিছু অংশে দুপাশ ভেঙে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
একসময় দক্ষিণ মগনামার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এই সড়ক। বর্তমানে এর বেহাল দশার কারণে পেকুয়া উপজেলা সদরে যেতে স্থানীয়দের বিকল্প পথে প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার বেশি ঘুরতে হয় বলে জানান তাঁরা।
দক্ষিণ মগনামার কালারপাড়া, বেদেরবিল পাড়া, কোদাইল্যাদিয়া, কুমপাড়া, বগারপাড়া, রঙিখালের পূর্বকূলসহ অন্তত ১০টি পাড়ার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজসহ নানা প্রয়োজনে তাঁদের উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হয়।
সড়কের বেহাল অবস্থায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন কাদা ও খানাখন্দ পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে তাঁদের। বর্ষাকালে এই ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
কৃষক ও লবণচাষিদেরও সড়কটি নিয়ে দুর্ভোগের শেষ নেই। বিশেষ করে লবণ মৌসুমে মাঠ থেকে লবণ পরিবহনের জন্য যানবাহন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিকল্প পথে লবণ পরিবহন করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে বলে জানান চাষিরা।
লবণচাষি হাকিম আলী বলেন, “আগে এই রাস্তা দিয়ে লবণ পরিবহনের গাড়ি চলত। এখন রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে গাড়ি আসতে চায় না। বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে লবণ পরিবহন করতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে, লোকসানও হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর বলেন, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি সংস্কারের কথা শুনে আসছি। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।
‘একসময় এই সড়ক দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করত। এখন অনেক জায়গায় রাস্তার অস্তিত্বই নেই। দ্রুত সংস্কার না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে,’ বলেন তাঁরা।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম বলেন, কাটাফাঁড়ি-কাজিরমার্কেট সড়কটি দক্ষিণ মগনামার মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।
‘সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক ও লবণচাষিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।’
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস চৌধুরী বলেন, একসময় দক্ষিণ মগনামার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এই সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে এর উন্নয়ন হয়নি।
আগের চেয়ারম্যানের আমলে সড়কের ওপর থাকা ইটগুলো তুলে নেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “শুধু এই সড়ক নয়, মগনামার অন্তত ২২টি সড়কের ইট তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
মগনামার অবহেলিত সড়কগুলোর তালিকা করে সংশ্লিষ্ট বিভাগে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকেও কাছেও অবগত করা হয়েছে।
‘আশা করছি, শিগগিরই মগনামার অবহেলিত সড়কগুলো ক্রমান্বয়ে উন্নয়ন করা হবে’ বলেন তিনি।

