কামরুল ইসলাম, রাঙ্গুনিয়া »
রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় কর্ণফুলী নদী ও বিভিন্ন পাহাড়ি খাল থেকে অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কিংবা প্রশাসনের সাময়িক অভিযানের পরও থামানো যাচ্ছে না এই অবৈধ বালু উত্তোলন প্রক্রিয়া। মূলত স্থানীয় রাজনৈতিক সিন্ডিকেট, প্রভাবশালী মহল এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার পরোক্ষ প্রশ্রয়েই বালুখেকোরা এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।
সিন্ডিকেটের কব্জায় রাঙ্গুনিয়া
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধ পাম্প বসিয়ে ও নৌকা দিয়ে দিন-রাত বালু তোলা হচ্ছে। কর্ণফুলী নদী তীরবর্তী এলাকা এবং বিভিন্ন ফসলি জমির বুক চিরে এই বালু উত্তোলনের
ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
কাদের প্রশ্রয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ?
অনুসন্ধানে জানা যায়, বালু উত্তোলনের নেপথ্যে রয়েছে বহুমাত্রিক এক সিন্ডিকেট, যাদের প্রশ্রয়ে কর্ণফুলীর চর গুলো থেকে বালু তুলছে তারা।
স্থানীয় রাজনৈতিক ক্ষমতাশালী : ক্ষমতার পালাবদল নেপথ্যে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, হুমকিতে পরিবেশ হলেও বালু মহালের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় নতুন প্রভাবশালী মহলের হাতে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রটি বালু ব্যবসার বড় একটি লভ্যাংশ পেয়ে থাকে, যার বিনিময়ে তারা বালুখেকোদের আইনি বা সামাজিক বাধা থেকে সুরক্ষা দেয়।
প্রশাসনের একাংশের নীরবতা মাঝে মাঝে : লোকদেখানো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু জরিমানা বা ড্রেজার ধ্বংস করা হলেও, মূল হোতারা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, থামছে না অবৈধ বালু উত্তোলন প্রশাসনের কিছু অসাধু লোক এই চক্রের থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা আর্থিক সুবিধা পায় বলেই বালু উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।
লাঠিয়াল বাহিনী ও ভয়ভীতি: সাধারণ মানুষ বা কৃষকরা তাদের ফসলি
জমি রক্ষায় প্রতিবাদ করতে গেলে এই সিন্ডিকেটের লাঠিয়াল বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা নানাভাবে হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
পরিবেশ ও জনপদের মারাত্মক ক্ষতি
অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে রাঙ্গুনিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, নদী তীরবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। এছাড়াও বালু পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ভারী ড্রাম্প ট্রাক বা ‘মিনি ট্রাক’ চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
জনগণের দাবি
রাঙ্গুনিয়ার সাধারণ জনগণের দাবি, শুধু লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং অবৈধ বালু উত্তোলনের পেছনের গডফাদার বা আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে রাঙ্গুনিয়ার ভৌগোলিক পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জীবিকা চরম সংকটের মুখে পড়বে।

