সুপ্রভাত ডেস্ক >>
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসম্পৃক্ততাই প্রধান হাতিয়ার।’
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটের সামনে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উপলক্ষে চসিকের তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিন জাতীয় পর্যায়ে তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মেয়র বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এ জন্য বাসাবাড়ি ও আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, এসির পানি জমার স্থান, পরিত্যক্ত পাত্রসহ সম্ভাব্য প্রজননস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে।’
চসিকের মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম তুলে ধরে মেয়র বলেন, এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিটিআই পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি নগরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত লার্ভিসাইড প্রয়োগ ও অ্যাডাল্টিসাইড স্প্রে করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কোতোয়ালি, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম জেলায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৭৪২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন উল্লেখ করে মেয়র বলেন, নগরের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকুনগুনিয়া, জিকা ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও রয়েছে।
বৃষ্টির পর কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। তাই নিজের ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিককে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনসিসি, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
চসিক জানায়, আগামী তিন মাস নগরের প্রতিটি এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

