নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ অনুযায়ী কনসাইনি বিল পরিশোধে পে অর্ডার পদ্ধতি বন্ধ করে ডিজিটাল পেমেন্ট চালুর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চার ঘণ্টার ধর্মঘট পালন করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন ও মালিক সমিতি।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এলাকার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ওয়ান স্টপ সার্ভিস ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আন্দোলনকারীরা বলেন, বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তির প্রেক্ষিতে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা আগের মতো পে অর্ডার ও ব্যাংক-টু-ব্যাংক পদ্ধতিতে বিল পরিশোধের দাবি জানান। পাশাপাশি ধীরে ধীরে অটোমেশন প্রক্রিয়ায় যাওয়ার কথা বলেন তারা।
তাদের অভিযোগ, বন্দর কর্তৃপক্ষ একের পর এক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাদের আন্দোলনে যেতে বাধ্য করছে। তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ করতে চান এবং বন্দর কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে চান। একই সঙ্গে নতুন সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান আন্দোলনকারীরা।
চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষ একটার পর একটা অনৈতিক সিদ্ধান্ত দিয়ে আমাদের রাস্তায় নামাচ্ছে। আমরা তাদের এসব অনৈতিক সিদ্ধান্ত মানব না।/’
সংগঠনের সভাপতি কাজী মো. খায়রুল বাশার মিল্টন বলেন, ‘বন্দর কর্তৃপক্ষের এসব সিদ্ধান্ত খুবই গভীর এবং সুদূরপ্রসারী। আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষকে বলতে চাই, তাদের এসব সিদ্ধান্তের সব দায়ভার তাদের।’
তিনি বলেন,‘আমরা পূর্বের ন্যায় পে অর্ডারের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সিদ্ধান্ত শুনেই এখান থেকে যাব। আমরা এখানে কাজ করতে এসেছি, ধর্মঘট করতে আসিনি। কিন্তু আপনারা আমাদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেন।’
এসময় চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন (রুবেল) এর সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে ইউনিয়ন ও মালিক সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।
তবে ডিজিটাল পেমেন্ট চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত হওয়ার বিষয়টি নাকচ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টার্মিনাল ম্যানেজার মুহাম্মদ আনিস উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘স্থগিত হয়েছে বিষয়টি এমন নয়। বুধবার থেকে ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে বিল পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত আগামী ১ অক্টোবর থেকে পুরোদমে চালু হবে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত উভয় পদ্ধতিতেই বিল নেওয়া হবে।’

