সুপ্রভাত ডেস্ক >>
নগরের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানি বন্ধের দাবিতে প্রতিবাদী র্যালি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ক্যাব চট্টগ্রাম নগর ও বিভাগ এবং যুব ক্যাব চট্টগ্রামের উদ্যোগে নগরের বহদ্দারহাট চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ক্যাবের কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকটের অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও নৈরাজ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জ্বালানি তেলের মূল্য বা পরিচালন ব্যয় বাড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। তবে ভাড়া নির্ধারণের পর পরিবহন মালিক বা শ্রমিকদের ইচ্ছেমতো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
তিনি বলেন, প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষ গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করে চলাচল করেন। তাঁদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে নির্ধারিত গন্তব্যে না গিয়ে মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া এবং যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও বন্ধ করতে হবে।
এস এম নাজের হোসাইন বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ গ্রহণ এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন।
তিনি চট্টগ্রামেও ঢাকার মতো শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকর করার দাবি জানান। পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক, প্রশাসন ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
ক্যাবের এই নেতা চট্টগ্রামের গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নের পাশাপাশি বিআরটিসির বাস নামানোরও দাবি জানান।
কর্মসূচিতে ক্যাবের সদস্য, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, সচেতন নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

