চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকায় অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের প্রত্যেককে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ৬৩ বিদেশির প্রত্যেককে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আদালতে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে রিমান্ডের পরবর্তী প্রতিবেদন ২০ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (প্রসিকিউশন) মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার একটি আটতলা ভবনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের কারও কাছেই পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার ৬৩ জনের মধ্যে লাওসের ৩৪ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের পাঁচজন, নেপালের একজন এবং ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন নারী। এছাড়া ওই ভবনে তাদের সঙ্গে একটি শিশুও অবস্থান করছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রায় দেড় মাস ধরে বিদেশি নাগরিকরা ওই ভবনে অবস্থান করছিলেন। বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে তারা অনলাইন প্রতারণাসহ সাইবার অপরাধে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশের দাবি।
তবে গ্রেফতার ব্যক্তিরা কী ধরনের ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, বিদেশি নাগরিকদের ওই ভবনে অবস্থানের তথ্য উদঘাটনের ঘটনায় মোহাম্মদ মহসিন নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মহসিনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরে বিদেশিদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বিদেশিদের থাকার জন্য খুলশীর ওই আটতলা ভবনটি মহসিন ভাড়া করে দিয়েছিলেন। এমনকি গ্রেফতার বিদেশিদের পাসপোর্টও তার কাছে জমা ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এসআই রেজাউল করিম চৌধুরী বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। মামলায় অনলাইন প্রতারণা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিষয়গুলো তদন্ত করছে পুলিশ।

