নিজস্ব প্রতিবেদক >>
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) রাজস্ব বিভাগের এক উপ কর কর্মকর্তাকে একই হোল্ডিংয়ের ভ্যালু রিভিউ বোর্ডে দুইবার নিষ্পত্তির অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২২ সেপ্টেম্বর চসিকের উপসচিব মোহাম্মদ মইনুল হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষরিত নোটিশটি আবু মুহাম্মদ মেসকাতুল ইসলামকে দেওয়া হয়। নোটিশে এ ঘটনায় আইন ও বিধির ব্যত্যয় এবং অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
চসিক সূত্র জানায়, আবু মুহাম্মদ মেসকাতুল ইসলাম বর্তমানে সার্কেল-০১-এর উপ কর কর্মকর্তা (লাইসেন্স) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের কর আদায়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
চসিকের নোটিশে বলা হয়, দক্ষিণ আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের ৫২১৫/৬৬৮৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের করদাতা ফাতেমা খাতুন (স্বামী: আবদুল মালেক) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পৌর কর পরিশোধের জন্য পূর্ববর্তী বছরের পরিশোধিত রসিদ উপস্থাপন করেন। রসিদটি অফিসের মূল নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, রাজস্ব সার্কেল-০৭-এ ওই হোল্ডিংটির ভ্যালু রিভিউ বোর্ডে দুইবার নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
প্রথমবার, ২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর সাবেক ভ্যালু ৭২ হাজার টাকা থেকে সংশোধিত ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রেক্ষিতে চূড়ান্ত ভ্যালু ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণপূর্বক পৌর কর আদায় করা হয়। এ-সংক্রান্ত রসিদ নম্বর ১৪৬৪৬১, তারিখ ৪ জানুয়ারি ২০২৩।
এরপর ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর একই হোল্ডিংয়ের রিভিউ বোর্ডে আবারও একই ভ্যালু ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা থেকে চূড়ান্ত ভ্যালু ১ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। ওই চূড়ান্ত ভ্যালুর ওপর পৌর কর আদায় করা হয় এবং রসিদ নম্বর ২০৮৯৮০, তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩।
চসিকের নোটিশে বলা হয়েছে, রিভিউ বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয়ের অনুমোদন ব্যতিরেকে একই হোল্ডিংকে দুইবার চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করায় আইন ও বিধির ব্যত্যয় ঘটেছে। এ ধরনের কার্যকলাপ ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১৯’-এর বিধি ৪৯-এর উপবিধি (ক), (খ) ও (চ) অনুযায়ী অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় কেন তাঁর বিরুদ্ধে ‘চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১৯’-এর বিধি ৫০ অনুযায়ী বিভাগীয় শাস্তিমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাঁকে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আবু মুহাম্মদ মেসকাতুল ইসলাম বলেন, দুইবার রিভিউ করা অপরাধ এটা আমি মানছি। তবে এই রিভিউ আমি কালেক্টর হিসেবে করিনি। এখানে সার্কেলের চেয়ারম্যান ছিলেন ওনি ছাড়া এটা নিষ্পত্তি হওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। আমি নোটিশটি পেয়েছি। এর আইনগতভাবে জবাব দেব।

