ইকবাল বাহার »
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন পারকি পর্যটন কমপ্লেক্সের কাজ শেষ করার সময়সীমা একাধিকবার ঘোষণা করা হলেও এখনো চালু হয়নি বহুল প্রত্যাশিত পর্যটনকেন্দ্র। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রকল্প পরিদর্শন করে ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অবকাঠামোগত কাজ শেষ করার সব ধরনের নির্দেশনা দিয়েছিলেন তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন।
এরপর ২০২৬ সালের মে মাসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জুনের মধ্যে কাজ শেষ করে উদ্বোধনের আশা প্রকাশ করেন। তবে সেপ্টেম্বরের শেষেও পর্যটন কমপ্লেক্সটি উদ্বোধন হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে শুরু থেকেই ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে নির্মাণকাজের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, পারকি সমুদ্রসৈকতকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ২০১৮ সালে ১৩ দশমিক ৩৬ একর জমির ওপর প্রায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক মেয়াদ ছিল দুই বছর। ২০২০ সালের নভেম্বরে সেই মেয়াদ শেষ হলেও তখন পর্যন্ত তিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে ২০ শতাংশ কাজও শেষ করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছিল।
পরে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ানো হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ করা হয় ৭১ কোটি ২৫ লাখ টাকা । এরপরও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল ।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ আগস্ট পারকি সমুদ্রসৈকত পরিদর্শন করেন তৎকালীন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন । তখন তিনি বলেছিলেন, পানি সমস্যাসহ নানা কারণে প্রকল্পের কাজে ধীরগতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে ওই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের অবকাঠামোগত কাজ শেষ করার বিষয়ে নিশ্চয়তা পাওয়ার কথাও জানান তিনি।
এর আগে ১৮ মার্চ বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) নুর ই আলমও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে সেই সময়সীমার পরও প্রকল্পটি চালু হয়নি।
প্রকল্প এলাকায় রয়েছে ১০টি সিঙ্গেল কটেজ, চারটি ডুপ্লেক্স কটেজ, তিনতলাবিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবন, রেস্তোরাঁ, সার্ভিস ব্লক, সাবস্টেশন ভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, নিরাপত্তাকক্ষ, পিকনিক শেড, শিশুদের খেলাধুলার স্থান ও একটি হ্রদ।
এদিকে নির্মাণকাজের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পারকি বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে প্রকল্পের সীমানাপ্রাচীরের কিছু অংশ ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার অসীম শীল জানিয়েছিলেন, ত্রুটিগুলো পরে সংস্কার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণেই প্রকল্পের কাজ শেষ হতে বেশি সময় লেগেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ করে এটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তাদের মতে, পর্যটন কমপ্লেক্সটি চালু হলে পারকি সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
তবে প্রায় আট বছর ধরে চলা প্রকল্পটির বর্তমান অগ্রগতি, উদ্বোধনের নতুন সময়সূচি এবং অতিরিক্ত সময় লাগার কারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃ পক্ষের কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া গেলে প্রকল্পটির বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

