নিজস্ব প্রতিবেদক>> চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য একটি কোম্পানির নাম ও তথ্য ব্যবহার করে আনা চালানে ঘোষণার সঙ্গে মিল না থাকা তামাক, তামাকজাতীয় পণ্য ও স্ক্র্যাপ পেপার পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
চালানটির কাগজপত্রে আমদানিকারক হিসেবে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, এ আমদানির বিষয়ে তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান কিছুই জানেন না এবং চালানটির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, ‘এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে কলকাতা থেকে চালানটি ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। দুটি বিল অব লেডিংয়ের মাধ্যমে পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়।
একটি বিলে ৪৭৩ প্যাকেজে ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি ‘পান মাশালা এবং জর্দা (চুইং টোব্যাকো পণ্য)’ ঘোষণা করা হয়েছিল। ২৭ সেপ্টেম্বর কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে পাওয়া যায় ৮ হাজার ২৫০ কেজি তামাক বা তামাকজাতীয় পণ্য।
ওই চালানে বিভিন্ন রঙের গুঁড়োও পাওয়া যায়। এনবিআর বলছে, দেখতে এগুলো ‘মাদকসদৃশ’। তবে রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া এতে মাদক বা নিষিদ্ধ কোনো উপাদান আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
অন্য বিল অব লেডিংয়ে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’ ঘোষণা করা হয়। কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে পাওয়া যায় ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন স্ক্র্যাপ পেপার।
এনবিআর বলছে, ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে পাওয়া পণ্যের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাসে গুরুতর অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
অথৈ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারীর আশঙ্কা, কোনো অসাধু চক্র তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম ও ব্যবসায়িক নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি আমদানি করেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদনও করেছেন তিনি।

