ইকবাল বাহার, আনোয়ারা »
আনোয়ারায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। এরই মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে প্রতিদিন বাড়ছে রোগীর ভিড়। সকাল থেকেই প্যাথলজি বিভাগে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ সারি। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা তৈরিতে দৃশ্যমান কার্যক্রম না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিল্প, পর্যটন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর দিক থেকে আনোয়ারা এগিয়ে থাকার দরুন ভাসমান জনসংখ্যার বসবাস তুলনামূলক অন্যান্য উপজেলার চেয়ে অনেক বেশি। সে তুলনায় স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা তেমন বাড়েনি।
উপজেলায় চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা (সিইউএফএল), কোরিয়ান এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন (কেইপিজেড), বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনাইটেড আইগ্যাস এলপিজি লিমিটেড, কর্ণফুলী ড্রাই ডক, পারকি সমুদ্রসৈকত ও কর্ণফুলী টানেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ আনোয়ারায় যাতায়াত করেন।
সরেজমিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, সকাল থেকেই ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে রোগীদের দীর্ঘ সারি। কিন্তু এসব কার্যক্রম পরিচালনায় বর্তমানে রয়েছেন মাত্র একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আসেন। ল্যাব টেকনোলজিস্টের তিনটি পদের মধ্যে দুটি দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে নমুনা সংগ্রহ, পরীক্ষা ও রিপোর্ট প্রদানের কাজ চালাতে হচ্ছে।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব কার্যক্রম চলায় রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। আনোয়ারার পাশাপাশি চন্দনাইশ, বাঁশখালী ও কর্ণফুলী নিকটবর্তী উপজেলার রোগীরা যাতায়াত সুবিধার দরুন এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে আসা দিনমজুর হাসান বলেন, কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছেন। চিকিৎসকের পরামর্শে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। তবে পরীক্ষা বিনামূল্যে হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মশক নিধন, জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা জরুরি। এসব কার্যক্রম নিয়মিত ও দৃশ্যমান না হওয়ায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
হাসপাতাল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে আনোয়ারায় ১৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সাতজনকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আগস্টে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ২২ জনের। তাদের মধ্যে ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং আটজনকে রেফার করা হয়। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এখন পর্যন্ত আরও পাঁচজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, পাশের কয়েকটি উপজেলার তুলনায় আনোয়ারায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি। বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে মাত্র একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট রয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের জন্য কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

