সুপ্রভাত ডেস্ক »
অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে সিগারেটের ফিল্টার তৈরির কাঁচামাল সেলুলোজ অ্যাসিটেট টো (অ্যাসিটেট টো) আমদানির তথ্য পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এমন একটি চালানের খালাস আটক করে ১৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
সিআইসির প্রাথমিক হিসাবে, ওই চালানের ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টো স্থানীয়ভাবে সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত হলে এর সঙ্গে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি হতে পারতো। আর যদি উচ্চ সেগমেন্টের সিগারেট হিসেবে হিসাব করলে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ৫৬৪ কোটি টাকা হতে পারে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এনবিআর থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সিআইসি সূত্রে জানা যায়, সিগারেটের ফিল্টার তৈরিতে ব্যবহৃত অ্যাসিটেট টো সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর একটি কাঁচামাল। সম্প্রতি বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের মাধ্যমে এ পণ্যের আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এর প্রকৃত ব্যবহার, আমদানির পরবর্তী সরবরাহ এবং ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ শুরু করে সিআইসি।
তথ্য বিশ্লেষণে ইউনিক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের অ্যাসিটেট টো আমদানির বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে আসে। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি করা পণ্য কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ভ্যাট বিভাগে তথ্য চায় সিআইসি। জবাবে ভ্যাট বিভাগ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি তার নিবন্ধিত ঠিকানায় কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে না।
সে হিসেবে ৪৮ হাজার ১৪৩ কেজি অ্যাসিটেট টো দিয়ে প্রায় ৪৩ কোটি ২ লাখ ৫৪ হাজার শলাকা সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। আর ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেট হিসেবে এ পরিমাণ কাঁচামাল দিয়ে প্রায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ২৫ হাজার প্যাকেট সিগারেট উৎপাদন করা সম্ভব। মিডিয়াম সেগমেন্টের সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ৯২ টাকা এবং স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে মূসক ও সম্পূরক শুল্কসহ প্রযোজ্য রাজস্বের হার প্রায় ৮২ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে সিআইসি প্রাথমিকভাবে হিসাব করেছে, ওই পরিমাণ সিগারেটের সঙ্গে প্রায় ৩২৪ কোটি টাকা রাজস্ব সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
অন্যদিকে হাই সেগমেন্টের সিগারেটের প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য ১৬০ টাকা ধরে একই হিসাবে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ৫৬৪ কোটি টাকা হতে পারে।
অর্থাৎ, অস্তিত্বহীন একটি প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানি করা ওই চালান অবৈধভাবে বাজারজাত বা ব্যবহার করা হলে আমদানি পর্যায়ের রাজস্বের পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়েও বিপুল রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়তে পারত বলে জানিয়েছে সিআইসি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিক ট্রেডার্স আলোচ্য চালানসহ মোট ৩ লাখ ৬২ হাজার ৮৩৭ কেজি অ্যাসিটেট টো আমদানি করেছে।
প্রতি কেজি অ্যাসিটেট টো থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯৩৭ শলাকা সিগারেট উৎপাদনের হিসাব বিবেচনায় নিলে বিপুল পরিমাণ কাঁচামালের প্রকৃত ব্যবহার, ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান এবং পরবর্তী সরবরাহ চেইন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অ্যাসিটেট টো আমদানির তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে সিআইসি আরও চারটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পেয়েছে বলে জানা গেছে।

