মামলা তুলে নিতে আইনজীবীকে বাঁশখালীর সাবেক এমপি’র ছেলের হুমকি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঁশখালীর সাবেক এমপি সুলতানুল কবির চৌধুরীর ছেলে দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মোহাম্মদ গালিবের তোপের মুখে পড়েছেন যৌতুকের মামলার বাদি পক্ষের এক আইনজীবী। এসময় তিনি ওই আইনজীবীকে মামলা তুলে না নিলে দেখে নেবার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী আইনজীবী অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রণি।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদালতের বাইরে এ ঘটনা ঘটেছে। মামলার শুনানি শেষে আদালত কক্ষের বাইরে এলে মামলার আসামি শেখ ইয়াছিন আরাত গণি ওরফে রিয়াদ ও তার জেঠাতো ভাই সাবেক এমপি’র ছেলে চৌধুরী মোহাম্মদ গালিবের তোপের মুখে পড়েন মামলার বাদি এবং তার আইনজীবী।
তাৎক্ষণিক দরখাস্ত দিয়ে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করে বিচার দাবি করেন ওই মামলার বাদির আইনজীবী রেজাউল করিম রণি। দরখাস্ত্তটি পরবর্তী তারিখে শুনানির জন্য নথিতে রেখেছেন বিচারক। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন আইনজীবী রণি।
আদালত সূত্র জানায়, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে শেখ ইয়াছিন আরাফাত গনি ওরফে রিয়াদসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে গত বছরের ১ ডিসেম্বর একটি অভিযোগ দায়ের করেন রিয়াদের স্ত্রী। তদন্ত শেষে রিয়াদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য উল্লেখ করে চলতি বছর ১ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন বিচার বিভাগীয় তদন্ত কর্মকর্তা।
গত ২৮ মার্চ মামলা আমলে নেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। কিন’ মামলা আমলে নেওয়ার পুর্বেই ৬ মার্চ উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন রিয়াদ। ৪ সপ্তাহের অন্তবর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত।
এ সময়ের পরে গত ৪ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন রিয়াদ। মামলা আমলে নেওয়ার আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়া প্রসঙ্গে বিচারকের প্রশ্নের সদুত্তর দিতে না পারায় জামিন আবেদন নাকচ করে রিয়াদকে কারাগারে পাঠান বিচারক।
পরে ১১ এপ্রিল উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে গত ১৩ এপ্রিল জেল থেকে মুক্তি পান রিয়াদ। গতকাল বৃহস্পতিবার ওই মামলায় অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য ছিল। শুনানি শেষে আদালতের কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার পর আসামি রিয়াদ ও তার জেঠাতো ভাই সাবেক এমপি’র ছেলে গালিবের তোপের মুখে পড়েন বাদি ও তার আইনজীবী রণি।
এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবু হানিফ বলেন, বাঁশখালীর সাবেক এমপি সুলতানুল কবির চৌধুরীর ছেলে চৌধুরী মোহাম্মদ গালিবের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দিয়েছেন আইনজীবী রেজাউল করিম রণি। আমরা উভয় পক্ষকে নোটিস দেব। এরপর সত্য মিথ্যা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস’া নেওয়া হবে।’
বক্তব্য নিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ৭টা ১০ মিনিটে বাঁশখালীর সাবেক এমপি সুলতানুল কবির চৌধুরীর ছেলে চৌধুরী মোহাম্মদ গালিবের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি।