পৃথিবী বদলে দেওয়া বিজ্ঞানী নিকোলা টেসলা

0
129

অনিক শুভ »

আমাদের এই বিশ্বে  কোটি কোটি মানুষ  বাস করলেও মাত্র গুটি কয়েক মানুষ বদলে দিয়েছেন মানব সভ্যতার গল্প। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, নিউটন, গ্যালিলিও, জেমস কুক, আইনস্টাইন সহ হাজারো মহামানবদের চেষ্টা, চিন্তা এবং পরিশ্রমের ফল আমাদের আধুনিক পৃথিবী এবং সমাজ। তবে এদের কাতারে আরেক মহামানবের নাম না বললেই নয়, তিনি হলেন বিখ্যাত উদ্ভাবক নিকোলা টেসলা। তাঁকে  বলা হয় আধুনিক সময়ের ‘দ্য ভিঞ্চি’। তিনি  একাধারে বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা এবং পদার্থবিদ, ইঞ্জিনিয়ার  ছিলেন।

বলা হয়ে থাকে এই মহান বিজ্ঞানীর জন্ম হয় প্রচ- ঝড় ও বজ্রপাতের রাতে। এরকম ঘটনাকে অশুভ সংকেত মনে করে সেই সময়ে ধাত্রী টেসলাকে ‘অন্ধকারের সন্তান’ বলেন।  কিন্তু এতে টেসলার মা অপমানিত বোধ করে এর বিরোধিতা করে বলেন, টেসলা হবে ‘আলোর সন্তান’; টেসলার মায়ের সেই ভবিষ্যৎ বাণী যে কতটা কার্যকর ছিল তা নিশ্চয়ই আর বলার অপেক্ষা রাখে না !  ১৮৫৬ সালের ১ জুলাই ক্রোয়েশিয়ার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম্য অঞ্চলে নিকোলা টেসলা জন্মগ্রহণ করেন। গবেষণার জন্য বিয়ে করেননি তিনি। তার ছিল অদ্ভুত কিছু সমস্যা। যেমন ইনসমনিয়া, শুচিবাই অত্যধিক গোছানো। শোনা যায়,  এক সপ্তাহে টানা ৮৪ ঘণ্টা না ঘুমিয়ে কাজ করেছেন। এছাড়া দিনে মাত্র ৩ ঘণ্টা ঘুমাতেন । তিনি  মূলত দিক পরিবর্তী বা পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ প্রবাহে অবদান রাখার জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

আমাদের ঘরের টিভি থেকে শুরু করে খেলনা গাড়ি, ড্রোন সহ বিভিন্ন কাজে রিমোট কন্ট্রোল আমাদের ঘরের আসবাবের অংশ এখন। সাধারণ জ্ঞানের বইয়ে আমরা পড়েছি রেডিওর আবিষ্কারক মার্কনি। আসলে পেছনের গল্প ভিন্ন। ১৮৯২ সালে নিকোলা টেসলা সর্বপ্রথম রেডিওর ধারণা আনেন এবং এ নিয়ে কাজ করেন। ১৮৯৮ সালে ম্যানহ্যাটন শহরের ম্যাডিসন স্কয়ারের ঝর্ণায় সর্বপ্রথম রেডিও নিয়ন্ত্রিত খেলনা জাহাজ চালিয়ে লোকজনকে অবাক করে দেন। এরপর বড় মাপের রেডিও ট্রান্সমিশন তৈরি শুরু করেন নিকোলা টেসলা তার গবেষণাগারে কিন্তু আগুনে পুড়ে নষ্ট হয়ে যায় যন্ত্রপাতি। আর এই মূল ধারণা থেকেই মার্কনী বনে যান রেডিওর আবিষ্কারক!

বর্তমানে আমাদের জীবনে ইন্টারনেট আর ওয়াই-ফাই এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের মধ্যে একটি ।  এই ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির ধারণাও  দেন সর্বপ্রথম নিকোলা টেসলা।  তার মৃত্যুর অনেক বছর পর টেসলার গবেষণার ওপর ভিত্তি করে ওয়াই-ফাই তৈরি করা হয়। নিকোলা টেসলার এই অবদানের জন্য সিলিকন ভ্যালিতে তার একটি মূর্তি তৈরি করা রয়েছে যেখান থেকে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়,  প্রাকৃতিক সম্পদের দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া নিয়ে বেশ সোচ্চার ছিলেন তিনি এবং পুনরায় ব্যবহারযোগ্য জ্বালানির সমর্থক ছিলেন। তাছাড়া তিনি কীভাবে প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর থেকে চাপ কমানো যায় সেই বিষয়েও বহু গবেষণা করেছেন। এমনকি তিনি তার জিনের ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিম বীজ তৈরি করার মতো সফল গবেষণাও তার রয়েছে। ১৯৪৩ সালের ৭ জানুয়ারি নিঃসঙ্গ অবস্থায় মারা যান এই সেরা বিজ্ঞানী। তিনি আমাদের দিয়ে গেছেন সুন্দর ভবিষ্যৎ। তাকে সম্মান জানাতে বানানো হয়েছে  বহু গল্পের সিনেমা । এই সময়ের সেরা উদ্যোক্তা এলন মাস্ক তার নামানুসারে ইলেকট্রিক গাড়ি কোম্পানির নাম দেন “টেসলা মোটরস”!