ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গাছকাটার অভিযোগ সীতাকুণ্ডে

0
135
সীতাকুণ্ডে শতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি, সীতাকুণ্ড :

সীতাকুণ্ডে  ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পরিষদের শতাধিক গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে এ বিষয়ে কয়েকজন ইউপি সদস্য বাদি হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তারা লেখেন কোনো রকম আইনি প্রক্রিয়া না মেনে চেয়ারম্যান একক ক্ষমতাবলে এসব গাছ কেটে বিক্রি করেছেন।
জানা যায়, সীতাকু- উপজেলার ৮ নম্বর সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন পুকুর পাড়ে অবস্থিত বিভিন্ন প্রকারের প্রায় ২৫/৩০ বছরের পুরোনো শতাধিক গাছ বর্তমান চেয়ারম্যান মুনির আহমেদ একক ক্ষমতাবলে কেটে বিক্রি করেছেন। এর আগেও এ চেয়ারম্যন একক ক্ষমতায় গাছ বিক্রি করেছিলেন। তখন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসী আন্দোলন শুরু করলে গাছকাটা বন্ধ হয়। তারপরও ৪০/৫০টি পুরোনো গাছ বিক্রি করে পরিষদে উচিত মূল্য না দিয়ে নামসর্বস্ব মূল্য নির্ধারণ করেছেন। আন্দোলনের মুখে তখন গাছকাটা বন্ধ হলেও ঠিক একই কায়দায় গত কয়েকদিন ধরে গাছকাটা অব্যাহত রেখেছেন এবং নামসর্বস্ব মূল্যতালিকাও দেখিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কফিল উদ্দিনসহ কয়েকজন ইউপি সদস্য বলেন, অতীতে আমরা অনেক চেয়ারম্যান দেখেছি। এর মতো স্বৈরাচারী চেয়ারম্যান দেখি নাই। তার শুধু খাই খাই ভাব। চেয়ারম্যান পরিষদের পুরুষ ও মহিলা সদস্যদের নিয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে যে কোনো কার্যাদি সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এই পর্যন্ত তিনি তা করেননি। একইভাবে গাছকাটা অথবা বিক্রির বিষয়ে আমরা জানিও না। শুনেছি নিজস্ব লোক মহিউদ্দিন, মনজুরুল ইসলাম ও নাজিম মাত্র ৭৫ হাজার টাকা দিয়ে গাছ কিনে তা কাটছে। যেখানে একটি গাছের দাম যদি ১০হাজার টাকা হয়, সেখানে ৮০টি গাছের মূল্য প্রায় ৭/৮ লক্ষ টাকা। এর আগেও চেয়ারম্যান গাছ কাটতে চাইলে স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে কিছু গাছ কেটে সরে পড়েছিলেন। যেখানে মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিজনকে কমপক্ষে তিনটি গাছরোপণের কথা বলেছে, সেখানে চেয়ারম্যান বৃ নিধন করছেন।
গাছ কাটার বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান মো. মুনির আহমেদ বলেন, আমি সরকারি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গাছ কাটছি। এখানে কোনো রকম হেরফের হয়েছে বলে আমি মনে করি না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন রায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চেয়ারম্যান কর্তৃক বৃক্ষনিধনের ঘটনায় কয়েকজন ইউপি সদস্য আমাকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কোনো রকম সভা ছাড়া একক ক্ষমতাবলে চেয়ারম্যান গাছ কাটতে পারেন না। তদন্তপূর্বক বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।