পশুর সরবরাহ কম, নেই ক্রেতাও

0
193
পশুরহাট
দুশ্চিন্তায় বিক্রেতা-ইজারাদাররা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগরীতে ৭টি হাটে বৃহস্পতিবার থেকে পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রথম দিন হাটগুলোতে পশুর সরবরাহ ছিল কম। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যাপ্ত পশু আসেনি। হাটে চোখে পড়ার মতো ক্রেতাও ছিল না। প্রথম দিনে এমন চিত্র দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন বিক্রেতা ও হাট ইজারাদাররা।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দুপুর ১২টায় কর্ণফুলী নূর নগর হাউজিং এস্টেট পশুর বাজার আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। নগরীতে এবার চারটি অস্থায়ীসহ মোট ৭টি পশুর হাট বসেছে। তিনটি স্থায়ী বাজার হচ্ছে ষোলশহর বিবিরহাট, সাগরিকা পশুর বাজার ও দেওয়ানহাট পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। অস্থায়ী বাজারগুলো হলো-কর্ণফুলী নূর নগর হাউজিং এস্টেট পশুর বাজার, সল্টগোলা গরুর বাজার, পতেঙ্গা কমল মহাজন হাট ও বিমানবন্দর সংলগ্ন টি কে গ্রুপের মাঠ।
এবার কোরবানির পশুর হাটে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ইজারাদারদের ১৮টি শর্ত দিয়েছে সিটি করপোরেশন। শর্ত অনুযায়ী হাটগুলোতে ক্রেতাদের বাধ্যতামূলক মাস্ক পড়ে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এছাড়া হাটের প্রবেশদ্বারে ক্রেতাদের জ্বরও মাপানো হচ্ছে। আর হাটজুড়ে প্রতিনিয়ত জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো হচ্ছে।
ইজারাদাররা বলেছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে হাটে ক্রেতারা আসছেন না। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশুও আসছে খুবই কম। ক্রেতারা পশুর দাম একেবারে কম হাঁকাচ্ছেন।
নগরীর ষোলশহর বিবিরহাট পশুর বাজারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১টি গরুও বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছেন ইজারাদার আরিফুল ইসলাম। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি ফোনে হতাশার সুরে সুপ্রভাতকে বলেন, প্রথম দিনে এখনো পর্যন্ত একটা গরুও বিক্রি হয়নি। হাটে পর্যাপ্ত পশু আসেনি। এতো বড় হাটে মাত্র ৩০০টির মতো পশু এসেছে। ক্রেতারও দেখা মিলছে না।
পশুর সরবরাহ কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চল থেকে মাত্র ১৫ ট্রাক পশু এসেছে। চট্টগ্রামে শুরুতে হাট বসবে না বলে প্রচার হওয়াতে উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ বিক্রেতা আসেনি। আর হাটে ক্রেতারা হয়তো আসছেন না করোনা সংক্রমণের ভয়ে।
অলংকার সাগরিকা পশুর হাটে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩০টি পশু বিক্রি হয়েছে বলে জানান ইজারাদার সাইফুল হুদা জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, প্রথম দিন পশুর সরবরাহ খুবই কম। ক্রেতার দেখা খুব একটা মিলছে না। আর ক্রেতারা গরুর দরদামও করছে কম। ৫০ হাজার টাকা গরুর দাম হাঁকাচ্ছেন ২০-২৫ হাজার টাকা। এতে বিক্রেতারা মুখ ভারি করে আছেন।
নগরীর দেওয়ানহাট পোস্তারপাড়ে ছাগলের বাজারও জমে উঠেনি। হাটে ছাগলের সরবরাহও কম। নেই ক্রেতা। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত একটা ছাগলও বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছেন হাটের ইজারাদার খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, হাটে ক্রেতা নেই। বিক্রেতারা মলিন চেহারা নিয়ে বসে আছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছাগল খুব একটা আসেনি। হাটজুড়ে মাত্র ৩০০টির মতো ছাগল রয়েছে।
নগরীর পশুর হাটগুলো ঈদের দিনসহ ৯দিন চালু থাকবে।