চট্টগ্রাম বন্দর : কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে গতি বাড়ছে ধীরলয়ে

0
157

জুনে হ্যান্ডেলিং হলো ২ লাখ ১৯ হাজার কনটেইনা#

নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত এপ্রিল মাসে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৯২১ একক কনটেইনার। এপ্রিলের সেই ধাক্কা সামলে মে মাসে এসে অনেকটা কাটিয়ে উঠে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মে মাসে কনটেইনার পরিবহন বেড়ে হয় ২ লাখ ৪ হাজার ৮০১ একক কনটেইনার। আর জুন মাসে গিয়ে পরিবাহিত হয় ২ লাখ ১৯ হাজার ১৫০ কনটেইনার। করোনা পরিস্থিতির আগে গত মার্চে পরিবাহিত হয়েছিল ২ লাখ ৪৯ হাজার ৬৬৯ কনটেইনার, ফেব্রুয়ারিতে ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৪০ কনটেইনার।
কনটেইনার পরিবহনে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এপ্রিলের পর থেকেই বাড়তে থাকে কনটেইনার পরিবহন। এবিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম বলেন, ‘কনটেইনারগুলো অফডক থেকে ডেলিভারি নেয়ার সিদ্ধান্তসহ অনেকগুলো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনতে। এছাড়া সকল স্টেক হোল্ডারদের কাছ থেকেও সাপোর্ট পাওয়া গেছে। ফলে এপ্রিলের ধাক্কা গত দুই মাসে কাঠিয়ে উঠা গেছে। আগামীতে পণ্য পরিবহন আরো বাড়বে।‘
তিনি আরো বলেন, করোনার কারণে গত কয়েকমাসে যেসব পণ্য আনা নেয়া করা যায়নি এখন সেগুলো পরিবাহিত হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বেড়ে যাবে।
ব্যবসায়ীদের মতে, গত ২৬ এপ্রিল থেকে সরকার কারখানা খুলে দেয়ার কারণে মে মাসে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বেড়েছে। এরই ধারবাহিকতা জুনে অব্যাহত ছিল। এখন যেহেতু বিভিন্ন শিল্প কারখানা সচল আছে এবং সব ধরনের কার্যক্রম চলছে তাই আগামীতে পণ্য পরিবহন আরো বাড়বে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৪৯ হাজার ১৮ একক কনটেইনার। কিন্তু ২৬ মার্চের পর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি কখনো কখনো ৫০০তে নিচে নেমে যায়। আর ডেলিভারি কমে যাওয়ায় ইমপোর্ট কনটেইনারের কারণে বন্দরের ধারণক্ষমতা পার হয়ে তা ৪৯ হাজার ৯৭৪ পর্যন্ত পৌঁছে। বন্দরের পক্ষ থেকে জাহাজ থেকে রেশনিং কমে কনটেইনার নামানো চালু করে প্রায় অচল হয়ে যাওয়া বন্দরকে কোনোভাবে সচল রাখে। পরবর্তীতে নৌ প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের সচিব চট্টগ্রাম বন্দরে এসে সমন্বয় সভা করে এবং সব ধরনের পণ্য অফডকে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। একইসাথে শিল্প কারখানাগুলো সচল হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে চট্টগ্রাম বন্দর। এই বন্দর দিয়ে দেশের ৯৩ শতাংশ পণ্য আমদানি- রপ্তানি হয়ে থাকে। কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ৬৪ তম।