নিরীক্ষকের ভুলের মাসুল দিলো ১২০০ শিক্ষার্থী!

0
143

এসএসসি পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল : ফেল থেকে পাশ করেছে ৪১ জন, নতুন করে জিপিএ-৫ পেল ৬৩ জন #

নিজস্ব প্রতিবেদক :
এসএসসি পরীক্ষায় বোর্ডের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে পরিবর্তিত ফলাফল পেয়েছে ১২০০ শিক্ষার্থী। ২০ হাজার ৫৫০ জন আবেদনকারীর ৫২ হাজার ২৪৬ টি খাতা পুনঃনিরীক্ষণ করে এসব শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এরমধ্যে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৩ জন এবং ফেল থেকে পাশ করেছে ৪১ জন, গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ৪১৯ জনের। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর টেলিটক মোবাইলের মাধ্যমে আবেদনকৃত শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র নিরীক্ষণ শেষে এই ফলাফল প্রকাশ করে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড।
এতো ব্যাপক শিক্ষার্থীর ফলাফল পরিবর্তন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ বলেন,‘ নিরীক্ষকদের অসর্তকতার কারণে এসব ভুল হচ্ছে। পরীক্ষক উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর নম্বর যোগে কোনো ভুল হলে কিংবা কোনো নম্বর টপশিটে উঠাতে ভুল করলে তা চেক করে থাকেন নিরীক্ষকরা। এই নিরীক্ষকরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন না করায় এসব ভুল হচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, উত্তরপত্র প্রতি নিরীক্ষকদের মূল্যায়ন ফি বাড়ানোর পরও এই ভুল হলো। যেসব নিরীক্ষকের ভুলে এসব ভুল পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে বোর্ডের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুনঃনিরীক্ষণে সাধারনত উত্তরপত্রের নম্বরের গননায় ভুল, প্রাপ্ত নম্বর ও বৃত্ত ভরাটের মধ্যে ভুল হলে, কিংবা কোনো প্রশ্ন অমূল্যায়িত থাকলে অথবা শিক্ষার্থীর কোনো ভুল হয়ে থাকলে সেগুলো সংশোধন করা হয়। একইসাথে কোনো উত্তর অমূল্যায়িত থাকলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অনুমোদনক্রমে তা মূল্যায়িত করা হয়।
এদিকে এবারের পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থী ফেল থেকে নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ন চন্দ্র নাথ বলেন, ‘এই পরীক্ষাটির একটি বিষয়ের আইডি নম্বর ছিড়ে গিয়েছিল। এতে ওই বিষয়ে তার ফেল কাউন্ট করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনের পর তা চেক করে আইডি ছেড়া পাওয়া যায়। এটা ঠিক করায় সে জিপিএ-৫ পেয়ে যায়।‘
গত ৩১মে প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে পাশের হার ছিল ৮৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৮ জন। গত চার বছরের মধ্যে তা ফলাফল হওয়ার পরও গত ৭ জুনের মধ্যে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে ২০ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থী। আবেদনকারীদের মধ্যে বাংলায় ৩ হাজার ২২৮, ইংরেজিতে ৬ হাজার ৭৩৯, সাধারণ গণিতে ৪ হাজার ৭২৮, ভূগোলে ৭৫১, ইসলাম ধর্মে ২ হাজার ৪০, হিন্দু ধর্মে ৪৯৯, বৌদ্ধ ধর্মে ১৫৩, খৃষ্ঠান ধর্মে ৫, উচ্চতর গণিতে ১ হাজার ৩৬৬, বিজ্ঞঅনে এক হাজার ৫৮৫, কৃষি শিক্ষায় এক হাজার ২৮৪, পদার্থে ২ হাজার ৭৬৫, রসায়নে ৪ হাজার ৩৩০, জীববিজ্ঞানে ৩ হাজার ৫১৬, পৌরনীতিতে ১৮৩, অর্থনীতিতে ৫০, ব্যবসায় উদ্যোগে এক হাজার ১৬৯, হিসাব বিজ্ঞানে ১ হাজার ২৮৭, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৩ হাজার ৮৪, গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে ১৮৬, ফিন্যন্স ও ব্যাংকিংয়ে এক হাজার ৫৯, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতায় ২৮৫ এবং তথ্য প্রযুক্তিতে ১ হাজার ৯৮৪ জন পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করে। নিরীক্ষণ শেষে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড ফলাফল প্রকাশ করে।