ক্রেতাশূন্য বাজারে কমছে মসলার দাম

0
148

রুমন ভট্টাচার্য :
প্রতি বছর কোরবানির ঈদ আসলেই সরগরম হয়ে উঠে গরম মসলার বাজার। চাহিদার সঙ্গে দাম বাড়ে প্রায় সব রকম মসলাপণ্যের। করোনা ভাইরাসের কারণে এবারের দৃশ্যপট কিছুটা ভিন্ন। প্রতি বছর দাম বাড়ার সেই জোয়ারে এবার কিছুটা ভাটা পড়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে তেমন বাড়েনি মসলার দাম। বরং কমেছে বেশকিছু মসলা পণ্যের দাম।
খাতুনগঞ্জের পাইকার ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি এবং মার্কেটে ক্রেতা না থাকায় কমে গেছে প্রায় সবরকম মসলার দাম। কোরবানির ঈদ ছাড়াও প্রতিবছর বিয়ে, ওরশ, মেজবান ইত্যাদির জন্য বাজারে মসলার চাহিদা থাকে ব্যাপক। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় সবরকম আয়োজন বন্ধ। ফলে মজুদকৃত মসলা অনেকটাই অবিক্রিত রয়ে গেছে। করোনার কারণে এবার মসলার বাজারে কোরবানির আমেজ নেই বললেই চলে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক মাস আগেও এলাচ, লবঙ্গ, দারুচিনি, জিরা, হলুদ, ধনিয়া ইত্যাদি বেশি দামে বিক্রি হয়। বর্তমানে এসব পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
মঙ্গলবার সরেজমিন খাতুনগঞ্জের বেশ কয়েকটি মশলার দোকান ঘুরে দেখা যায়, এলাচ প্রতিকেজির দাম ২৬২০ টাকা, জিরা প্রতিকেজি ২৮৫ টাকা, দারুচিনি ২৯০ টাকা, গোলমরিচ ৫৯০ টাকা, লবঙ্গ ৭০০ টাকা, তেজপাতা ৮০ টাকা, হলুদ, ১০৬ টাকা, ধনিয়া ৮২ টাকা, মিষ্টি জিরা প্রতিকেজি ১০০ টাকা জয়ত্রি ২৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. মহিউদ্দীন সুপ্রভাতকে বলেন, ‘বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা কম এবং ক্রেতা নেই বললেই চলে। ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। করোনার কারণে মানুষ আসছে না পণ্য কিনতে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের পথে বসতে হবে।’
মসলার দামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবার গরম মসলার দাম অনেক কম। আগের দারুচিনির দাম ছিল ৩১৫ টাকা এখন সে দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ২৭০-২৮০ টাকায় এবং জিরার দাম ছিল ৩০০ টাকা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা। এভাবে প্রায় সবরকম মসলার দাম কেজিপ্রতি কমেছে।’ গতবারের তুলনায় এবার বেচাবিক্রি কমে বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) কয়েকটি খুচরা মুদির দোকান ঘুরে দেখা যায়, এলাচ প্রতিকেজি ২৮০০ টাকা, জয়ত্রি ৩০০০ টাকা, লবঙ্গ ৮০০ টাকা, দারুচিনি ৩৫০ টাকা, জিরা ৩২০ টাকা, হলুদ ১২০ টাকা, ধনিয়া প্রতিকেজি ৯৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ী মোরশেদুল আলম বলেন, ‘কয়েকমাস আগে খাতুনগঞ্জ থেকে প্রতিকেজি এলাচ কিনেছিলাম ৩১৫০ টাকা, দারুচিনি ৩৩০ টাকা, জিরা ৩৪৫ টাকা, হলুদ ১৪০ টাকা, ধনিয়া ৯০ টাকা। সোমবার (২৯ জুন) গিয়ে এলাচ কিনলাম এলাচ প্রতিকেজি ২৬২০ টাকা, লবঙ্গ ৭০০ টাকা, দারুচিনি ২৯০ টাকা, জিরা ২৮৫ টাকা, হলুদ ১০৬ টাকা ও ধনিয়া ৮২ টাকা। অর্থাৎ হিসাব করে দেখলাম আগের তুলনায় এলাচের কেজিতে ৫৩০ টাকা, দারুচিনিতে ৪০ টাকা, জিরায় ৬০ টাকা, হলুদে ৩৪টাকা ও ধনিয়ার কেজিতে ৮ টাকা দাম কমেছে। মনে হচ্ছে অন্যান্যবারের তুলনায় এবার আর মসলার বাজারে দাম বাড়বে না। সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।’