করোনা চিকিৎসা: বুধবার চালু হচ্ছে বন্দর হাসপাতাল

0
110

স্বাস্থ্যসেবা পাবে ৪০ হাজার মানুষ #
নিজস্ব প্রতিবেদক :
করোনা চিকিৎসায় চালু হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাসপাতাল। বুধবার নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী তা উদ্বোধনের কথা রয়েছে। বন্দর হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি চালু হচ্ছে। এতে থাকবে হাইফ্লো অক্সিজেন সুবিধা। চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে কার্ডিওলজি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ ১৪ জন ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট, আয়াসহ মোট ১৫৯ জনের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র এবং সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পোষ্যদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হবে এই হাসপাতাল। আর বন্দরের চাকুরে ও পোষ্য মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ রয়েছে এছাড়া রয়েছে অবসরে যাওয়া আরো প্রায় পাঁচ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। সব মিলিয়ে ৪০ হাজার মানুষের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগে এই হাসপাতাল চালু করছে।’
তিনি আরো বলেন, বন্দর হাসপাতালের পাশে নতুন একটি ভবনে চালু এই করোনা চিকিৎসায় যারা ভর্তি হবেন তাদের সকল ওষুধ এবং থাকা-খাওয়া খরচ বন্দর কর্তৃপক্ষ বহন করবে।
বাহিরের লোকরা চিকিৎসা সুবিধা পাবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিকিৎসা মানুষের অধিকার। তবে আগে বন্দরের লোকজন অগ্রাধিকার পাবে।
এদিকে এপর্যন্ত করোনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯ জন (বন্দরের চাকুরে ৬ ও পোষ্য ৩) মারা গেছেন এবং ১৬৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। দেশের অর্থনীতির দ্বার বলে খ্যাত এই বন্দরকে করোনামুক্ত রাখতে এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে নিজস্ব উদ্যোগে হাসপাতালটি চালু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করতে বন্দরে পরিচালনায় অন্যতম বেসরকারি সংস্থা সাইফ পাওয়ার টেক ৪টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রটর, ৪টি ভেন্টিলেটর, ২টি হাইফ্লো অক্সিজেন নজল ক্যানোলা দিয়েছে। এবিষয়ে সাইফ পাওয়ার টেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুহুল আমিন তরফদার বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর হলো দেশের অর্থনীতির ভিত্তি। তাই এই বন্দরে যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকুরি করে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সবার আগে প্রয়োজন। সেই দায়িত্ববোধ থেকে আমরা সাইফ পাওয়ার টেকের পক্ষ থেকে চিকিৎসা উপকরণগুলো দিয়েছি।’
বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানো করোনা চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে যে সুযোগ সুবিধা রয়েছে সেসব সুবিধা এখানেও পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে এখানে আইসিইউ ও এইচডিও বেড রয়েছে। এছাড়া আধুনিক ইকুইপমেন্টের মাধ্যমে উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হবে এই হাসপাতালে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে দিন দিন বাড়ছে করোনা রোগী। ইতিমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের লোকজনের পরীক্ষার জন্য করোনা পরীক্ষা বুথও চালু করা হয়েছে বন্দর ভবনে। অর্থাৎ, বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে সংযুক্ত ৪০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বদ্দ পরিকর।