করোনা ও উপসর্গ : চমেক চিকিৎসকসহ ছয়জনের মৃত্যু

0
149
করোনায় মৃত ব্যক্তিদের দাফনে যথেষ্ঠ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক :

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের  মেডিকেল অফিসার ডা. মুহিদ হাসানসহ চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনা আক্রান্ত দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি করোনা উপসর্গ নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই নেতা ও রেল মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও রাউজানের সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর বড় ভাই এবিএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী (৭২) মৃত্যুবরণ করেন।

চট্টগ্রামের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এহসানুল করিম এর মৃত্যুর পরদিন মারা গেলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মুহিদ হাসান। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হয়ে দুইজন চিকিৎসকের মারা গেলেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১২ টার দিকে চমেক আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসক মুহিদ হাসানের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেন, আমাদের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মুহিদ হাসান আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি সপ্তাহখানেক ধরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেবিনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়ার পর আজ সকাল সাড়ে ১২ টার দিকে তিনি মারা যান।

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত নগরীর দুই নারীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালটির আইসোলেশন ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. আব্দুর রব। তিনি বলেন, আমাদের হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার দুইজনই উচ্চ রক্ত চাপ ও ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন। ভোর ৫ টার দিকে মারা যান নগরীর পাচঁলাইশ এলাকার হাফসা বেগম (৫০)। সকাল ৭ টার দিকে আইসিইউতেই মারা যান নগরীর জামালখান এলাকার সেলিনা আফরোজ (৫৬)।’

এছাড়া চট্টগ্রামে করোনার উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টার ব্যবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই আওয়ামী লীগ নেতা মারা গেছেন। বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য নুরুল আলম গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে মারা যান এরপর সকাল ৯টার দিকে  চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মোহরা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. রফিকুল আলম। এ দুইজনই করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআরের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবিএম ফজলে রাব্বি চৌধুরী। গত বুধবার রাত থেকে এবিএম ফজলে রাব্বি চৌধুরীর শ্বাস কষ্ট দেখা দিলে সকালে তাকে সিএসসিআর-এ ভর্তি করানো হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও ডাকা হয়েছিল। এরমধ্যেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তার পরিবার বলেন, তিনি আগে থেকে হার্ট, ডায়বেটিক ও উচ্চরক্ত চাপে ভুগছিলেন। তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। গতকালের প্রকাশিত তথ্যে মোট আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৭ জন।