শিল্পপুলিশসহ আক্রান্ত ৬১

0
182

নিজস্ব প্রতিবেদক :
টানা তিনদিন পর কিছুটা কমলো করোনা রোগীর সংখ্যা। গত সোমবার ৬৫ জন, মঙ্গলবার ৮৫ জন ও বুধবার ৯৫ জন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার শনাক্ত হলো ৬১ জন। এদের মধ্যে তিনজন শিল্পপুলিশও রয়েছেন। এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল দপ্তরের সদস্য করোনায় আক্রান্ত হলেও শিল্পপুলিশের কেউ আক্রান্ত হয়নি। এবার তারাও আক্রান্ত হলো। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামে ৬১ জন শনাক্ত হওয়ায় করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৭৫ জন। এদের মধ্যে মারা গিয়েছে ২৮ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ৯৩ জন।
এদিকে গতকাল চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি, ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের করোনা শনাক্ত হওয়া ৬১ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৫১ জন ও উপজেলার ১০ জন। উপজেলার ১০ জনের মধ্যে পটিয়ার ৬ জন, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকু-, বোয়ালখালী ও বাঁশখালীর একজন করে চার জন রয়েছেন।
সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে জানা যায়, বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে ২৫৭টি নমুনার মধ্যে ৩৩টি পজিটিভ পাওয়া গেছে। এই ৩৩টি পজিটিভের মধ্যে চট্টগ্রামের ২৯টি ও অন্যজেলার চারটি। চট্টগ্রামের ২৯টির মধ্যে মহানগরীর ২৬টি ও উপজেলার তিনটি (সীতাকু-, বোয়ালখালী ও বাঁশখালীর একজন করে)। মহানগরীর ২৬টির মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যোল কলেজ হাসপাতালের ৪০ বছরের এক নারী, শিকলবাহার ৩৫ বছরের যুবক, শিল্পপুলিশের ৩৫, ১৯ ও ১৯ বছর বয়সী তিন সদস্য, পতেঙ্গা খেজুরতলার ৪২ বছরের পুরুষ, বায়েজীদ বার্মা কলোনির ২১ বছরের যুবক, ইপিজেড এলাকার ৩২ বছরের যুবক, অক্সিজেনের ৬৫ বছরের বৃদ্ধ, অক্সিজেন কালাপোল এলাকার ৩৪ বছরের যুবক, পাথরঘাটার ৫০ বছর বয়সী নারী, পতেঙ্গা কাঠঘরের ৩৫ বছর বয়সী যুবক, নতুন চান্দগাঁও থানা এলাকার ৬৫ বছরের বৃদ্ধ, ফিরিঙ্গীবাজারের ৫৩ বছর বয়সী বৃদ্ধ, ফৌজদারহাটের ৩০ বছর বয়সী নারী, আলকরণের ৪২ বছরের পুরুষ, বন্দর এলাকার ১৪ বছরের কিশোর, ফিল্ড হাসপাতালের ১৯ বছরের যুবক, চশমা হিলের ৫৫ বছর বয়সী পুরুষ, ফিরোজশাহ কলোনীর ৩৮ বছর বয়সী পুরুষ, আলকরনে একই পরিবারের তিন সদস্য, এদের মধ্যে ১২ বছরের কিশোরী ৪৩ বছরের নারী ও ৮৫ বছরের বৃদ্ধা রয়েছে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ৬৬ টি নমুনার মধ্যে ২৬টি পজিটিভ হয়েছে। এই ২৬টির মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর একজন ও রাঙ্গুনিয়ার একজন রয়েছে। এরা হলেন- নিউমুরিং এলাকার ১৮ বছর বয়সী যুবতী, ফিরঙ্গিবাজারের ৭১ বছর বয়সী পুরুষ, হালিশহরে ৮৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ, ডবলমুরিং এলাকার ৫৫ বছর বয়সী পুরুষ, লালখানবাজারের ৫০ বছর বয়সী নারী, কর্ণফুলীর ৬০ বছর বয়সী পুরুষ, চান্দগাঁও এলাকার ৪৫ বছর বয়ষী পরুষ, চমেক হাসপাতালের ৩৬ বছর বয়সী এক মহিলা ডাক্তার, পতেঙ্গার ৩৩ বছর বয়সী পুরুষ ও একই এলাকার ৩৭ বছর বয়সী নারী, নন্দনকানন এলাকার ৭৫ বছর বয়সী পুরুষ, চকবাজারের ২৭ বছর বয়সী এক নারী ডাক্তার, অক্সিজেন এলাকার ২৭ বছর বয়সী পুরুষ, কোতোয়ালীতে ৫২ বছর বয়সী নারী, ১৬ বছর বয়সী যুবতী ও ৪৫ বছর বয়সী নারীসহ তিনজন, গোসাইলডাঙ্গার ২৩ বছর বয়সী যুবক ও একই এলাকার ৫৫ বছর বয়সী পুরুষ, আসাদগঞ্জের ১৭ বছর বয়সী যুবতী, আগ্রাবাদের ৫৩ বছর বয়সী নারী, টেরীবাজারের ৬২ বছর বয়সী পুরুষ, কোরবানীগঞ্জের ৪৩ বছর বয়সী পুরুষ, বাকলিয়ার ৭২ বছর বয়সী পুরুষ, ৩৩ বছর বয়সী এক পুরুষ ও রাঙ্গুনিয়ার ৩৮ বছর বয়সী পুরুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১৩ মে বুধবার ৭১টি নমুনার মধ্যে ১৭টি পজিটিভ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ভিন্ন জেলার ১১টি ও চট্টগ্রামের পটিয়ার ৬ জন রয়েছে। অপরদিকে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজে বৃহস্পতিবার ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয় সেগুলোর মধ্যে সবগুলোই নেগেটিভ ফলাফল এসেছে।
এদিকে আজ নতুন করে ৬১ জন করোনায় শনাক্ত হওয়ায় মোট রোগীর সংখ্যা হলো ৫৭৫ জন। এর আগে ১৩ মে শনাক্ত হয়েছিল ৯৫ জন, ১২ মে ৭৫ জন, ১১ মে ৬৫ জন, ১০ মে ৪৮ জন, ৯ মে শনিবার ১৩ জন, মে শুক্রবার ১১ জন, ৭ মে বৃহস্পতিবার ভেটেরিনারিতে ৩৮ জন ও বিআইটিডিতে ১৯ জন (কক্সবাজারে একজনসহ) করোনা শনাক্ত হওয়ায় একদিনে ৫৭ করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল চট্টগ্রামে। ৬ মে ১১ জন করোনা পজিটিভ হওয়ার আগে ৫ মে সোমবারের ভেটেরিনারি রিপোর্টের ১৩ জন, ৫ মে বিআইটিআইডি এর রিপোর্টে ৯ জন (ঢাকা, কুমিল্লা ও কক্সবাজার থেকে আসা তিনজন রোগী সহ), ৪মে ১৬ জন, ৩ মে ১৩ জন, ২ মে তিনজন, ১ মে তিনজন, ৩০ এপ্রিল একজন, ২৯ এপ্রিল ৪ জন, ২৮ এপ্রিল তিনজন, ২৭ এপ্রিল নয়জন, ২৬ এপ্রিল সাতজন ( রাজবাড়ী থেকে আসে একজন), ২৫ এপ্রিল দুই জন ( ঢাকা থেকে আসে একজন), ২৪ এপ্রিল একজন, ২২ এপ্রিল তিনজন, ২১ এপ্রিল একজন, ১৩ এপ্রিল চারজন, ১৮ এপ্রিল একজন, ১৭ এপ্রিল একজন, ১৬ এপ্রিল একজন, ১৫ এপ্রিল পাঁচজন, ১৪ এপ্রিল ১১ জন, ১৩ এপ্রিল দুইজন, ১২ এপ্রিল পাঁচজন, ১১ এপ্রিল দুইজন, ১০ এপ্রিল দুই জন, ৭ এপ্রিল তিনজন, ৫ এপ্রিল একজন ও ৩ এপ্রিল একজন আক্রান্ত হয়েছিল। এরমধ্যে সাতকানিয়ার এক বৃদ্ধ একজন মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন, পটিয়ায় ৬ বছরের এক শিশু মারা গেছে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দেড় ঘন্টার মধ্যে, সরাইপাড়া লোহারপুল এলাকার এক নারী মারা যাওয়ার পর করোনায় শনাক্ত হয়েছেন, নিমতলা এলাকার এক নারী মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন, সরাইপাড়া লোহারপুল এলাকায় এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন, সাগরিকার এক নাইটগার্ড মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন, মোহরার এক নারী মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন এবং সর্বশেষ এনায়েত বাজারের লোকটি মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হলো। এছাড়া ৬ মে পাহাড়তলী লাকী হোটেল মোড় এলাকার বাসিন্দা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া গত ৬ মে মারা যাওয়ার পর নমুনা রিপোর্টে করোনা শনাক্ত হয়েছেন তিনজন, ৭মে বৃহস্পতিবার সাগরিকা এলাকার এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর করোনা শনাক্ত হয়েছেন। ৮মে রাতে বিআইটিআইডিতে আইসোলেসনে থাকা অবস্থায় মারা গেল ৫৫ বছর বয়সী এক পুরুষ। এছাড়া গত ১২ মে মঙ্গলবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মারা গেল হাটহাজারির এক নারী। করোনা শনাক্ত নিয়ে ৩৭ নম্বর হালিশহর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গতকাল ১৩ মে সকালে মারা যাওয়ার পর রিপোর্টে করোনা পজিটিভ এসেছে। এছাড়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে আরো একজন। এনিয়ে চট্টগ্রামে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২৮ জনে দাঁড়ালো। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন ৯৩ জন।