আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল

নিম্নমানের এমআরআই মেশিনে রোগী মেলে না

সালাহ উদ্দিন সায়েম

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের এমআরআই (শরীরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অঙ্গের নিখুঁত ছবি তোলা হয়) মেশিনে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন রোগীর পরীক্ষা হয়। কিন’ আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে এই মেশিনে ১০-১২ জন রোগীর পরীক্ষা হয় প্রতিমাসে!
তিন বছর আগে প্রায় ১০ কোটি টাকা দিয়ে এমআরআই মেশিনটি কেনা হয়েছিল জেনারেল হাসপাতালে। কিন’ কেন নতুন এই মেশিনে রোগীরা পরীক্ষা করতে পারছেন না? কারণ হলো, এমআরআই মেশিনটি খুবই নিম্নমানের। চীনের বাজডা কম্পানির এই মেশিনটি হলো দশমিক ৩৫ তেসলা (ছবির রেজুলেশন) মানের।
এমআরআই মেশিনটি নিম্নমানের হওয়াতে রোগীরা পরীক্ষা করতে পারছেন না। কেননা এ মেশিনে রোগীদের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের স্পষ্ট ছবি উঠে না। হাসপাতালের কনসালটেন্ট ছবিগুলো দেখে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারেন না।
চমেক হাসপাতালের এমআরআই মেশিনটি জেনারেল হাসপাতালের চেয়ে উন্নতমানের, যেটির তেসলা হচ্ছে ১.৫।
জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এমআরআই মেশিনে গত এপ্রিলে পরীক্ষা করেন ১১ জন রোগী, মে মাসে ৮ জন আর জুনে মাত্র ৭ জন। চলতি জুলাই মাসে গতকাল পর্যন্ত পরীক্ষা করেন ১০ জন।
রোগীর সংখ্যা কমার কারণ জানালেন জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ। তিনি গতকাল তাঁর কার্যালয়ে সুপ্রভাতকে বলেন, ‘চিকিৎসকরা এখন প্রেসক্রিপশনে রোগীদের এমআরআই পরীক্ষার উপদেশে মেশিনের তেসলার মানও উল্লেখ করে দেন। সেই মানের না হলে আমরা রোগীদের পরীক্ষা করি না। আমরা রোগীদের কেন ঠকাবো ?’
‘আসলে এই এমআরআই মেশিনটি খুবই নিম্ন মানের। চমেক হাসপাতালের মেশিনটিও এর চেয়ে উচ্চ মানের। নগরীর ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতেও এতো নিম্ন মানের মেশিন নেই।’
জেনারেল হাসপাতাল ও চমেক হাসপাতালে এমআরআই পরীক্ষার সরকারি ফি হলো ৩ হাজার টাকা। ফি এক হলেও চমেক হাসপাতালের মেশিনের পরীক্ষার মান জেনারেল হাসপাতালের চেয়ে উন্নত। ফলে চমেক হাসপাতালে এই পরীক্ষা করতে প্রতিদিন রোগীদের ভিড় থাকে। কিন’ জেনারেল হাসপাতালে যে কয়েকজন রোগী আসে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মেশিনের তেসলার মান না মিললে তারা পরীক্ষা না করে ফিরে যায়।
জেনারেল হাসপাতালের এই এমআরআই মেশিন কেনা নিয়ে দুই বছর আগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এ নিয়ে তদন্ত কমিটিও গঠন হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে, মেশিনটির বাজারমূল্য হলো ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কিন’ জেনারেল হাসপাতালে এ মেশিনটি কেনা হয়েছে ৯ কোটি ৯৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায়।