পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি থেকে মদুনাঘাট

৪০ খালের মুখে বসছে টাইডাল রেগুলেটর

ভূঁইয়া নজরুল

দুপুর আড়াইটা। চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে হাঁটু সমান পানি। না, আকাশে কোনো বৃষ্টি নেই। তারপরও আগ্রাবাদ হোটেলের আশপাশের এলাকার রাস্তায় গতকাল দেখা যায় এই পানি। শুধু আগ্রাবাদ এলাকা নয়, দেশের অন্যতম পাইকারি ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাই খাতুনগঞ্জেও জোয়ারের পানির দুর্ভোগে ব্যবসায়ীরা। আর এসব এলাকার সাথে যথারীতি যুক্ত রয়েছে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, ছোটপুল, শান্তিবাগ, হালিশহর কে ব্লক, এল ব্লক এবং বাকলিয়া ও চান্দগাঁওয়ের নিচু এলাকাগুলো। এই জোয়ারের পানি থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে আসছে তিন প্রকল্পের আওতায় ৪০ খালের মুখে টাইডাল রেগুলেটর বসানোর কাজ। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অধীনে দুই প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এক ধাপ দূরে রয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি। গত রোববার প্রকল্পটি প্রি-একনেকে অনুমোদন পায়।

পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত কর্ণফুলী ও হালদা নদীর তীরের ৪০ খালের মুখে ৪০টি টাইডাল রেগুলেটর বসানো হলে নগরীতে আর জোয়ারের কারণে জলাবদ্ধতা দেখা যাবে না জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহি প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার সাহা বলেন,‘সিডিএ’র দুই প্রকল্পের আওতায় নগরীর ভেতরের সবগুলো খালের মুখে টাইডাল রেগুলেটর বসছে। এখন সিডিএ’র আওতার বাইরের এলাকায় আমরা ২৩টি টাইডাল রেগুলেটর বসাবো। আর সবগুলো বসানোর পর নগরীতে আর কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না এবং জোয়ারের কারণে পানিও উঠবে না।’
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পে কি রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত নদীর ভেতরে ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্লাড ওয়াল, ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে।
পতেঙ্গা বোট ক্লাব এলাকা থেকে বন্দরের জেটি, আবার লালদিয়ার চর এলাকায় লালদিয়া টার্মিনাল হতে যাচ্ছে, চাক্তাই খাল থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রায় দুই হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে। তাহলে এখানে ফ্লাড ওয়াল কিভাবে নির্মাণ করা হবে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই প্রকৌশলী বলেন, যেখানে বন্দরের জেটি বা স’াপনা নেই সেখানে এই ফ্লাড ওয়াল নির্মিত হবে। সেক্ষেত্রে পতেঙ্গা নেভাল থেকে অল্প একটু জায়গায় তা নির্মাণ করা লাগতে পারে। আর কালুরঘাট থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত এলাকায় নির্মিত হবে এই ফ্লাড ওয়াল।
এদিকে নগরীর ভেতরে খাল খনন, খাল সংস্কার ও ৫টি খালের মুখে টাইডাল রেগুলেটর স’াপন নিয়ে সিডিএ সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের সাথে এই প্রকল্পের কোনো ওভারলেপিংয়ের হবে কিনা জানতে চাইলে সিডিএ’র মেগা প্রকল্পের পরিচালক ও নির্বাহি প্রকৌশলী আহমেদ মাঈনুদ্দিন বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে আমাদের কোনো ওভারলেপিং হবে না। এছাড়া গতকালের (রোববারের) প্রি একনেক সভায় আমিও ছিলাম। এতে আরো ভাল হবে, আমরা শহরের ভেতরে করবো, শহরের বাইরে করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা মূলতঃ খালের মুখে রেগুলেটর ও ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ করবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেগা প্রকল্পের আওতায় ৫টি, চাক্তাই থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় ১২টি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পের আওতায় ২৩টি টাইডাল রেগুলেটর বসানো হলে নগরীতে আর কোনো জলাবদ্ধতা হবে না। জোয়ারের পানিও প্রবেশের সুযোগ পাবে না।
এদিকে মেগা প্রকল্পের আওতায় নগরীর খালগুলো পরিষ্কারের কাজ করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা। নগরীর খাল ও নালাগুলো থেকে মাটি উত্তোলনের কারণে অনেক এলাকায় খালে পানির প্রবাহ দেখা দিয়েছে। খাল পাড়ের মানুষগুলোকে সচেতন করার জন্য এলাকায় এলাকায় মতবিনিময় সভা করছেন সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।
অপরদিকে চাক্তাই থেকে কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত উপকূলীয় বেড়িবাঁধ কাম সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় কি রয়েছে জানতে চাইলে সিডিএ প্রকৌশলীরা জানান, সমুদ্র সমতল থেকে ২৪ ফুট উঁচু সড়কটি রোডের উপরিভাগে ৮০ ফুট চওড়া হবে। সড়কের নিচের অংশে থাকবে ২৫০ ফুট চওড়া। সড়কের নিচ দিয়ে যাওয়া ১২টি খালের মুখে ১২টি রেগুলেটর বসানো হবে। সেই সাথে থাকবে পাম্প হাউস। এতে জোয়ারের পানিতে এলাকাগুলো আর ডুবে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। টানা বর্ষণে পানি আটকে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির পাশাপাশি জোয়ারের পানিতেও নিচু এলাকাগুলো জলমগ্ন হয়ে যায়। আর নগরীর প্রধানতম এই সমস্যা দূর করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পের অনুমোদনও দেয়া হচ্ছে।